কমলগঞ্জে ইউপি নির্বাচনের জের, পরাজিত প্রার্থীর হামলায় নির্বাচিত ইউপি সদস্যসহ আহত-২

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ : ৫ জানুয়ারী ৫ম দফা ইউপি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর প্রতিপক্ষ পরাজিত মেম্বার প্রার্থী ও তার সমর্থকদের সশস্ত্র হামলায় নির্বাচিত ইউপি সদস্য ও সহোদর আহত হয়েছেন। এসময়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এঘটনায় নির্বাচিত ইউপি সদস্য কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ঠাকুর বাজারে এঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার ৩ নম্বর মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন মো. রাইনুল ইসলাম সালাহউদ্দীন। একই ওয়ার্ডে মেম্বার পদে চারজন প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনের দিন সন্ধ্যায় ভোট গণনার পর ৫৪৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন রাইনুল ইসলাম। তবে প্রতিদ্বন্ধী মো. দুলাল মিয়া তালা প্রতীক নিয়ে ৪৬৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। ওই সময় থেকেই পরাজিত প্রার্থীরা নির্বাচিত প্রার্থীর বিজয়কে মেনে নিতে পারেননি। নির্বাচনী জের ধরে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নির্বাচিত ইউপি সদস্য রাইনুল ইসলাম সালাউদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুলাল মিয়া ও তার সহযোগীদের হামলায় নির্বাচিত ইউপি সদস্য রাইনুল ইসলাম সালাউদ্দিন (৩৬) ও তার ভাই সালমান ইসলাম ছালিক (৩০) গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে সালমান ইসলামের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজয়ী ইউপি সদস্য রাইনুল ইসলাম সালাউদ্দিন সালাউদ্দিন ও পরাজিত ইউপি সদস্য মোঃ দুলাল মিয়ার মাঝে ভোটগ্রহণ দিন থেকে কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সামান্য কথা-কাটাকাটির জের ধরে তাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নির্বাচিত ইউপি সদস্য রাইনুল ইসলাম সালাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমি নির্বাচনে জয়লাভ করার পর দুলাল মিয়া সহ প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীরা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। ঘটনার সময়ে দুলাল ও তার ভাই আলাল, জামালসহ সংঘবদ্ধ দল দা, রামদা, লোহার রড নিয়ে হামলা চালিয়ে আমার ভাইয়ের মাথায় রক্তাক্ত জখম করে এবং আমার হাতের আঙ্গুলে জখম করে। পরে তারা আমার দোকানে লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় ১৪ জনকে আসামী করে ও আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই নির্বাচিত ইউপি সদস্য রাইনুল ইসলাম সালাউদ্দিন বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পরাজিত ইউপি সদস্য মো. দুলাল মিয়ার বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে কয়েক দফা চেষ্টা করেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে দুলাল মিয়ার এক নিকটাত্মীয় জানান, রাইনুল ইসলাম সালাউদ্দিন প্রিসাইডিং অফিসারকে প্রভাবিত করে জোরপূর্বক বিজয়ী হয়েছে। এনিয়ে তাদের দ্বন্ধ চলছে।

এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সোহেল রানা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় রাইনুল ইসলাম সালাউদ্দীন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এখনও মামলা হিসাবে রুজ্জু হয়নি। তা তদন্তাধীন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *