কমলগঞ্জে অগ্নিকান্ডে দ্বগ্ধ নৈশপ্রহরী শ্রী প্রসাদের মৃত্যু কাজ বন্ধ রেখে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়ন এর সীমান্তবর্তী দলই চা বাগানের মূল কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধে আহত হয়েছিল দুই নৈশপ্রহরী। তাদের মধ্যে দুবৃত্তদের হামলায় ও অগ্নিকান্ডে গুরুতর আহত হয় নৈশপ্রহরী শ্রী প্রসাদ পাশি। আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ১৪ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ১০ জুলাই রোববার ভোরে শ্রী প্রসাদ মারা যায়। ঐ রাতে শ্রী প্রসাদের মরদেহ চা বাগানে পৌঁছালে বিক্ষোব্ধ হয়ে উঠে সাধারণ চা শ্রমিকরা। এসময় তারা বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে নিহত পরিবারের জন্য ৬ দফা দাবী উপস্থাপন করে।

খবর পেয়ে ১১ জুলাই সোমবার সকালে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত উদ্দিন, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসান, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরী, মাধবপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আসিদ আলি, সাবেক চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন এর সহ-সভাপতি পংকজ কুন্ড, কোষাধ্যক্ষ পরেশ কালিঞ্জি, ভ্যালী সভাপতি ধনা বাউরী, সম্পাদক নির্মল পাইনকা, বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি কিশোন পাশীর সাথে দলই চা বাগানের ডেপুটি ম্যানেজার মহসিন পাটুয়ারী, ব্যবস্থাপক আলি আজগরসহ বাগান কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে চা কারখানার সামনে আলোচনা সভায় বসেন। এসময় চা শ্রমিকের পক্ষ থেকে নিহত শ্রী প্রসাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দশ লক্ষ টাকা, বাগানে স্থায়ী নাম অন্তর্ভুক্তকরণ সৎকাজ করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা, নিজ দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত শ্রী প্রসাদের নামকরণে কারখানা সম্মুখে স্মৃতিসৌধ স্থাপন করা, ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান, নিরীহ চা শ্রমিকদের হয়রানির শিকার না করাসহ ৬ টি দাবী উপস্থাপন করা হয়। ক্ষতিপুরণসহ প্রাথমিক দাবী-দাওয়া কর্তৃপক্ষ মেনে নেয়ায় বিকাল সাড়ে তিন টায় কারখানার সামনে থেকে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের জন্য শ্রী প্রসাদের মরদেহ শ্রমিক লাইনে তার বাড়িতে নেয়া হয়।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে করা দাবী বাগান কর্তৃপক্ষ মেনে নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *