কুলাউড়ার বিদায়ী ইউএনও ফরহাদ চৌধুরীকে গণমাধ্যম কর্মীদের সংবর্ধনা

কুলাউড়া প্রতিনিধি : কুলাউড়া উপজেলার বিদায়ী নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এটিএম ফরহাদ চৌধুরীকে শেষ কর্ম দিবসে সংবর্ধনা দিলো গণমাধ্যমকর্মীরা। ১২ জুলাই মঙ্গলবার রাতে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ সলমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ সলমান বলেন, ইউএনও ফরহাদ চৌধুরী একজন আন্তরিক মনের মানুষ। তিনি একজন মেধাবী, সুদক্ষ ও বিচক্ষণ কর্মকর্তা। তাঁর কর্মযজ্ঞই তাকে কুলাউড়াবাসীর সর্বমহলের মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই দিয়েছে। রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি হিসেবে দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণে তিনি আপসহীনভাবে কাজ করে গেছেন। করোনা মহামারি এবং চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিনি ছুঁটে গেছেন সহযোগিতা নিয়ে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ নিজেদের সমস্যা, চাওয়া-পাওয়ার আবদার নিয়ে যখনই তাঁর কাছে গেছেন তিনি একজন জনপ্রতিনিধির ভূমিকায় তাদের সেবা দিয়ে গেছেন। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ইতোমধ্যে যে’কজন ইউএনও কুলাউড়ায় দৃষ্টান্ত রেখে কাজ করে গেছেন তাঁর মধ্যে তিনি অন্যতম।
সিনিয়র সাংবাদিক এম মছব্বির আলীর সভাপতিত্বে ও কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি মাহফুজ শাকিলের সঞ্চালনায় সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদায়ী ইউএনও এটিএম ফরহাদ চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করার ব্রত নিয়ে ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর কুলাউড়ায় ইউএনও হিসেবে যোগদান করেছি। এরপর থেকে বৈশি^ক করোনা মহামারির দূর্যোগ মুহূর্তে সর্বস্তরের মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। ওই মুহুর্তে একসাথে কাজ করতে গিয়ে কুলাউড়ার সর্বস্তরের মানুষের সাথে আমার আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এখানকার মানুষ নিঃস্বার্থভাবে সরকারের সকল উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে গেছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের জনগুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশের পর অনেক অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আমিও সর্বস্তরের মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতায় কুলাউড়াবাসীর কল্যাণে একজন সেবক হিসেবে কাজ করেছি। কাজ করতে গিয়ে সব শ্রেণী পেশার মানুষের অকুণ্ঠ সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি। সেই প্রিয় কুলাউড়ার মানুষদের ভালোবাসা কোনদিনই ভুলবনা।
তিনি আরো বলেন, প্রায় ৩ বছরের কর্মযজ্ঞে কুলাউড়ার সকল জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া সংগঠকসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতার কথা মনে থাকবে চিরকাল। যেখানেই থাকি এই কুলাউড়ার উন্নয়নে সুযোগ থাকলে অবশ্যই নিজের সেরাটা নিংড়ে দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করবো। আমার কর্মযজ্ঞে মানুষের এত ভালোবাসা অর্জন করেছি সবকিছু যার জন্য হয়েছে তিনি হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারণ তিনিই এই প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সকল নির্দেশনা ও উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন এবং তাঁর দেয়া বরাদ্দ সকল জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করেছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম মৃধা, টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক, প্রেসক্লাব কুলাউড়ার সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আবু সাঈদ ফুয়াদ, কেবিসি বার্তা প্রধান এম আতিকুর রহমান আখই, নয়া দিগন্ত প্রতিনিধি ময়নুল হক পবন, ডেইলি স্টার প্রতিনিধি মিন্টু দেশোয়ারা, সাপ্তাহিক আমার কুলাউড়ার সম্পাদক মো. জীবন রহমান, ইনকিলাব প্রতিনিধি নাজমুল ইসলাম, ঢাকা মেইলে’র স্টাফ রিপোর্টার সেলিম আহমদ, সময়ের আলোর প্রতিনিধি সাইদুল হাসান সিপন, মানবজমিন প্রতিনিধি আলাউদ্দিন কবির, মানবকন্ঠ প্রতিনিধি জসিম চৌধুরী, সমকাল প্রতিনিধি সৈয়দ আশফাক তানভীর, সাংবাদিক তাজুল ইসলাম, ফখর উদ্দিন, নাজমুল বারী সোহেল, মহি উদ্দিন রিপন, ইউসুফ আহমদ ইমন, আশরাফুল ইসলাম জুয়েল, রুবেল বক্স পাবেল, তোফায়েল আহদম চৌধুরী প্রমুখ।
গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, ইউএনও এটিএম ফরহাদ চৌধুরী কুলাউড়ায় দায়িত্বপালন করেছেন অত্যন্ত দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে। একজন কুলাউড়ার মানুষের মতই বৈশি^ক মহামারি করোনা থেকে শুরু করে সকল দুর্যোগ দুর্বিপাকে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে। তাঁর এই আন্তরিকতার কথা কুলাউড়াবাসী কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ রাখবে।
উল্লেখ্য, কুলাউড়ার বিদায়ী ইউএনও এটিএম ফরহাদ চৌধুরী পদোন্নতি পেয়ে সুনামগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে খুব শীঘ্রই যোগদান করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *