কুলাউড়া হারালো এক মানবিক মানুষ 

কুলাউড়া প্রতিনিধি: একজন ‘মানবিক ইউএনও’ হিসেবে পরিচিতি নিয়েই মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা থেকে আজ ১৩ জুলাই বুধবার বিদায় নিলেন এটিএম ফরহাদ চৌধুরী। যোগদানের কিছু দিনের মধ্যেই নিজ গুণে সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি। উপজেলাবাসী একজন সজ্জন, কর্মঠ, জনবান্ধব ও দক্ষ অফিসারকে হারিয়ে আজ বেদনাবিধুর।

গত দুইবছর দশ মাস উপজেলার মানুষকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এ সময়ে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে জনগণের সেবা দিয়েছেন। করোনা মহামারীর মধ্যেও উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় ও বন্যাকালিন সময়ে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর ছিল তার সজাগ দৃষ্টি। তার প্রশাসনিক এলাকায় জনস্বার্থবিরোধী কোন ঘটনা তার নজরে এলে কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক সরেজমিনে গিয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে তা দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করেছেন। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যে মূলধর্ম কাজের মধ্যদিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন।

কুলাউড়া মুক্ত স্কাউটের প্রতিষ্টাকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক মহি উদ্দিন রিপন বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনিসমূহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বা তরুণ শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোছাদ্দিক আহমদ নোমান বলেন, গত ইউনিয়ন নির্বাচনে তার সাথে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আমি তাকে যেভাবে জেনেছি তিনি সাহসী, চৌকস, সৎ ও ন্যায়পরায়ন মানুষ।

 মানবিক টিম ভীর হিরোর  প্রতিষ্টাতা মানবিক সফি আহমেদ  বলেন,  উপজেলাবাসী একজন সজ্জন, জনবান্ধব ও মানবিক কর্মকর্তাকে হারালো।

কুলাউড়া সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুল হাসান সিপন বলেন, আমরা সরকারি প্রোগ্রামগুলো কভারেজ করতে গিয়ে লক্ষ্য করেছি, তা হলো, উনি খুব স্থির ও ধৈর্যশীল মানুষ। মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। বিরক্ত, অবহেলা বা ব্যস্ততা দেখাতেন না কাউকে।

তারা বলেন, তিনি জনবান্ধব মানুষ ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যে উপজেলার সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মন জয় করেছিলেন। নিম্নশ্রেণি থেকে উচ্চপদস্থ লোক খুব সহজে তার কাছে যেত পারত। কোন ঘটনাঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ছুটে যেতেন।

 কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জাকির হোসেন বলেন, কোভিড-১৯ এর সময় উপজেলার নির্বাহী স্যার আমাদের নিয়ে চিকিৎসা খাতে উন্নয়নে তিনি ব্যাপক কাজ করেছেন। একজন মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে তার জুড়ি নেই।

কুলাউড়া নবীন চন্দ্র মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন বলেন, তিনি একজন সৃজনশীল ও মানবিক ইউএনও। তিনি কোন কল্যাণকর কাজ থেকে পিছুপা হননি।

তিনি বলেন, তিনি খুবই ভালো মানুষ। পরিশ্রমী, দক্ষ ও সৎ ব্যক্তি ছিলেন।

কালের কন্ঠের সাংবাদিক মাহফুজ শাকিল বলেন, টাকার জন্য নয়, তিনি মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য দৌঁড়াতেন। তার কর্মের কথা উপজেলাবাসী মনে রাখবে। প্রত্যেকটি মানুষের কথা তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনতেন ও সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করতেন। সারাক্ষণ উপজেলার উন্নয়ন নিয়ে ভাবতেন। তিনি সৎ, উদ্যামী ও কর্মঠ ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *