কুলাউড়া জংশন রেল স্টেশনে ভুক্তভোগী যাত্রীদের অবস্থান কর্মসূচী পালন

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার :

বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা পরিবর্তনে ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া জংশন রেল স্টেশনে ভুক্তভোগী যাত্রীরা অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছেন। ‌‘কুলাউড়া উপজেলার সাধারণ রেলওয়ের যাত্রীগণের’  ব্যানারে ১৯ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে প্রায় এক ঘন্টা এ কর্মসূচী পালিত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, বেলা তিনটার দিকে স্টেশন মাস্টারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচী শুরু হয। এ সময় দাবি আদায়ে জনমত গঠনে বিভিন্ন ধরনের ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময়ে কলেজ শিক্ষার্থীরুবেল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামিম, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এম. আতিকুর রহমান,  সামাজিক সংগঠনের সংগঠক জাকির হোসেন, আবদুস সামাদ, আলাউদ্দিন আহমদ প্রমুখ।বিকেল প্রায় চারটা পর্যন্ত এ কর্মসূচী চলে।

মইনুল ইসলাম শামিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‌‘রেলের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মানুষ অতিষ্ট হয়ে গেছে। কুলাউড়া স্টেশনে কাউন্টারে টিকিট মিলে না। অথচ, কালোবাজারে তা পাওয়া যায়। রেললাইনের নাজুক অবস্থার কারণে শুধু কুলাউড়াতেই গত কয়েক বছরে একাধিকবার ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

মইনুল ইসলাম শামিম বলেন, ‘যুব সমাজ ভাষা আন্দোলনে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে, সফলও হয়েছে। এই যুব সমাজ আজ রেলের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। এবারও সফলতা আসবেই আসবে’ । বক্তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনির ছয় দফা দাবির সঙ্গে সংহতি জানান।

কর্মসূচী চলাকালে রেলের অব্যবস্থাপনা পরিবর্তনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে রুবেল ইসলাম ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবি হচ্ছে, টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সহজ ডটকমের যাত্রী হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করা ও হয়রানির ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া; যথোপযুক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে টিকিটের কালোবাজারি প্রতিরোধ, অনলাইনে কোটায় টিকিট ব্লক করা বা বুক করা বন্ধ করা ও অনলাইন-অফলাইনে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সর্বসাধারণের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা; যাত্রীর চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ রেলের অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া; ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক, তত্ত্বাবধায়কসহ অন্য দায়িত্বশীল ব্যক্তির কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক নজরদারি ও শক্তিশালী তথ্য সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে রেলসেবার মান বাড়ানো; ট্রেনে ন্যায্য দামে খাবার বিক্রি, বিনা মূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, গত মাসে রেলের টিকিট কিনতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি। পরে ঈদুল আজহার আগে ৭ জুলাই থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে অবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। ১০ জুলাই ঈদের দিনও তিনি অবস্থানে ছিলেন। অবস্থানের তৃতীয় দিন ৯ জুলাই পুলিশের সদস্যরা তাঁকে বাধা দেন। তখন থেকে তিনি গণস্বাক্ষর বন্ধ রেখে ২৪ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *