পাকিস্তানকে জিতিয়ে যা বললেন নাসিম

আফগানিস্তানের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ ওভারে অসাধারণ দৃঢ়তায় দলের মুখে হাসি ফোটান নাসিম শাহ। বাউন্ডারিতে জয় নিশ্চিত হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন তিনি ও তার সতীর্থরা। স্মরণীয় এই মুহূর্তে একপর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন পাকিস্তানের এই পেসার। প্রয়াত মা-কে খুব মনে পড়ছিল তার। হাম্বানতোতায় বৃহস্পতিবার রোমাঞ্চ-উত্তেজনার নানা গলি পেরিয়ে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ওয়ানডে পৌঁছে যায় শেষ ওভারে। সেখানে লড়াইটা জমে ওঠে আরও। ওভারের শুরুতেই পাকিস্তানের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখা শাদাব খানকে ‘মানকাড’ আউট করে দেন ফাজালহাক ফারুকি। জয় থেকে তখন আফগানরা স্রেফ এক উইকেট দূরে। আর পাকিস্তানের প্রয়োজন তখনও ৬ বলে ১১ রান। চাপে ভেঙে পড়েননি নাসিম।
ওভারের প্রথম বলেই দারুণ ইনসাইড আউট শটে চার মেরে দেন তিনি। পরের বলে রান হয়নি, তৃতীয় বলে আসে সিঙ্গেল। চতুর্থ বলে হারিস রউফের ব্যাট থেকে আসে ৩ রান। শেষ ২ বলে পাকিস্তানের লাগত ৩ রান। ফারুকির করা অফ স্টাম্পের বাইরের বলটি নাসিমের ব্যাটের কানায় লেগে থার্ডম্যান দিয়ে চলে যায় বাউন্ডারিতে। ১ বল বাকি থাকতে ১ উইকেটের জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। বল সীমানায় পৌঁছানোর আগেই উদযাপন শুরু করে দেন নাসিম। ব্যাট আর গ্লাভস ছুঁড়ে ফেলে দৌড়াতে থাকেন তিনি। সতীর্থরা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন। চলতে থাকে তাদের উদযাপন। দলের অবিশ্বাস্য এই জয়ের মুহূর্তের একটি ভিডিও পরে প্রকাশ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
সেখানেই ২০ বছর বয়সী নাসিম মা-কে নিয়ে দেন আবেগী বার্তা। “আমি কেবল একটি কথাই বলব- আজকের এই মুহূর্তটা যদি মা দেখতে পেত। এখন বলার মতো আর কিছু নেই।” ২০১৯ সালের ২১ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রিজবেন টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন নাসিম। এর সপ্তাহখানেক আগে মা-কে হারান পাকিস্তানের এই তরুণ পেসার। পাকিস্তানকে এমন দুর্দান্ত জয় আগেও একবার উপহার দিয়েছিলেন নাসিম। সেটা ছিল সবশেষ টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এশিয়া কাপে। ওই ম্যাচের প্রতিপক্ষও ছিল আফগানিস্তান। এমনকি শেষ ওভারে ওই দিনও শেষ উইকেটে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১১ রান, বোলারও ছিলেন ফারুকি। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের ওই লড়াইয়ে অবশ্য দলকে বেশিক্ষণ অপেক্ষায় রাখেননি নাসিম। ওভারের প্রথম দুই বলেই ফারুকিকে ছক্কায় উড়িয়ে দলকে জয়ের আনন্দে ভাসান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *