মনু নদীতে “মাছ হাট” উৎসব

বিশেষ প্রতিনিধি : জেলার অন্যতম নদী মনুতে উৎসব চলছে মাছ ধরার। স্থানীয়ভাবে ওই উৎসবের নাম ‘মাছ হাট’। উদ্দেশ্য নদীর নির্দিষ্ট ডহরে (গভীরে) মাছ ধরা। আর তা দেখতে আসা নদী তীরে উৎসুক দর্শকদের কাছে বিক্রি করা। এই নিয়মে আর শিকড়ের ঐতিহ্যের টানে মনু নদীতে চলছে মাছ ধরা ও কেনা বেচা উৎসব।
জেলার কুলাউড়া,রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর। এই তিন উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা দীর্ঘ মনু নদীর কুলাউড়া উপজেলা অংশে চলছে এমন ব্যতিক্রমী ঐতিহ্যবাহী উৎসব। তিন দিন ব্যাপী ওই উৎসবে অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় নানা শ্রেণী পেশার সৌখিন ও পেশাদার মানুষ। আর তা দেখতে ভীড় করছেন দূরদূরান্ত থেকে আগত নানা শ্রেণী পেশার সৌখিন মানুষ। শনিবার মনু নদীর কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়ন অংশে মনু এলাকার মাহতাবপুর থেকে এই উৎসবের যাত্রা শুরু হয়। ওই দিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা মাছ ধরার নানা ফাঁদ নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে নামেন।প্রচন্ড শীতের মাঝেও উৎসবের আমেজ তখন নদীর দুই পাড়ে। সৌখিন ও পেশাদার শিকারীরা পলো, কুচা,ঝাকি জাল,প্লেন জাল,টানা জালসহ নানা জাতের ফাঁদ নিয়ে তারা নদীতে মাছ শিকারে নামেন। কেউ নৌকায়,কেউ বা কলাগাছের ভেলায় চেপে। অনেকেই আবার নদীর চর জাগা অথবা শুকনো স্থান থেকে ঝাকি জাল দিয়ে মাছ ধরার চেষ্ঠা করেন। কেউ কেউ নদীতে নেমেও মাছ ধরেন। ‘মাছ হাট’ উৎসবটি নদীর বিভিন্ন বাঁকে যে স্থানে ডহর রয়েছে সেসব স্থানেই উৎসব চলে মাছ হাট। এ দৃশ্য দেখতে জেলার নানা স্থান থেকে লোকজন ভীড় করেন ওই স্থানগুলোতে। তারা মাছ ধরা দৃশ্য দেখার পাশাপাশি মাছও কিনেন। মনু নদীর মাছ সুস্বাদু ও সতেজ থাকায় তা কিনতে মানুষের আকর্ষণও বেশি। তবে শুধু কেনা বেচাই নয়। প্রতিবছরই পালিত হয়ে আসা এই উৎসবটি স্থানীয় ঐতিহ্যেরই অংশ। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার বিবাহিত মেয়েরা বাবার বাড়ি নাইওর আসেন। অনেকেই আবার নতুন জামাইকে দিয়ে মাছ ধরাতে এই উৎসবে নিয়ে আসেন। তাই উৎসবটি স্থানীয়দের কাছে ব্যতিক্রমী উৎসব। প্রধম দিনই সাইফ আহমদ,কালাম মিয়া,তায়েফ আলী,কামরুল ইসলামসহ অনেকেই বড় বোয়াল,আইড় ও কাতলা মাছ ধরেন। তারা জানান অন্যান্যদের জালে ও ফাঁদে বিভিন্ন ধরনের মাছ পাওয়া যাচ্ছে। আইড়,ঘাঘট,বোয়াল,রুই,কাতলা,বাছা,বাঁশপাতা,ছেলাপাতা,টেংরাসহ নানা জাতের দেশীয় প্রজাতির মাছ। তারা মাছ পাওয়ায় বেজায় খুশি। দ্বিতীয় দিন সুজাপুর ছৈদল বাজার ডহরে মাছ ধরা হয়। শেষের দিন হাজীপুর শরীফপুর,পৃথিমপাশার ধলিয়া বেলেরতল ডহরে মাছ ধরার মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে তিন দিনের এ ‘মাছ হাট’ উৎসব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *