বিশেষ প্রতিনিধি: একটি সামাজিক সংগঠনের বৃক্ষ রোপণ অনুষ্টানে শিক্ষককের প্রতি সম্মান প্রদর্শণ করে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে না বসে সুনাম কুড়িয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজি। গত ৪ জুলাই মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী মানবিক সোসাইটির ১ হাজার গাছের চারা রোপন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্থান ছিল জায়ফরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে।সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে ৭আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সিলেট এর অধিনায়ক, অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত হয়ে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আসলে প্রধান শিক্ষক রতীশ চন্দ্র দাস উনার চেয়ারে বসার জন্য অনুরোধ করেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বদরুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকগনও প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসার জন্য অনুরোধ করলে অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার ফরিদুল ইসলাম সবার অনুরোধ প্রত্যাখান করে বলেন ”এটা শিক্ষকের চেয়ার এই চেয়ারে আমি বসতে পারি না, এটা উচিত না”। পাশের আরেকটি চেয়ারে তিনি বসতে গেলে প্রধান শিক্ষক আবারো অনুরোধ করে বলেন “এখানে আপনি পদমর্যাদা ও সম্মানের দিক থেকে আপনি সবার সিনিয়র তাই আপনি বসেন”। প্রদুত্তরে তিনি “আমি যত বড় অফিসার হইনা না কেন শিক্ষক তো শিক্ষক” বলে তিনি পাশের আরেকটি চেয়ারে বসেন। এত বড় পর্যায়ের একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও অতি সাধারন একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে যে সম্মান প্রদর্শন করলেন তা উপস্থিত সবাইকে অবাক করে এবং সাথে সাথে এই ঘটনায় সবাই উনার প্রশংসা করেন।
শিক্ষককে সম্মানের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বৃক্ষ রোপণ অনুষ্টানের আয়োজক জুড়ী মানবিক সোসাইটির অন্যতম কর্নধার মাওলানা কামরুল ইসলাম বলেন” মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকগণ যে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী তারই প্রমাণ দিয়েছেন অতিরিক্ত ডিআইজি মহোদয়। শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা দিতে পারার মধ্যেই প্রকৃত স্বার্থকতা রয়েছে সেটাই এ থেকে প্রতীয়মান হয়। যা থেকে সকলের শিখার আছে”।
জেলা পরিষদ মৌলভীবাজার এর প্যানেল চেয়ারম্যান এবং জায়ফরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বদরুল ইসলাম বলেন “তিনি খুব ভাল এবং অনেক বড় মনের মানুষ। উনার এমন আচরণ উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেছে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে এমন মানুষ খুব বেশি প্রয়োজন। ভবিষ্যতে উনি অনেক বড় হবেন আমরা এই দোয়া করি”।
যেই শিক্ষকের সাথে এমন ঘটনা সেই জায়ফরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতীশ চন্দ্র দাস বলেন “তিনি দেশের উচ্চ পদস্থ একজন কর্মকর্তা হয়ে আমার প্রতি যে সম্মান প্রর্দশন করেছেন তাতে আমি একজন শিক্ষক হিসাবে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আজ আমি গর্বিত, আমি আপ্লুত, আমি আনন্দিত, কারন আমি একজন শিক্ষক। উনার মত এমন অফিসার বাংলাদেশ পুলিশে আছে বলেই আমরা নিরাপদে দেশে বসবাস করছি।
৭ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সিলেটের মিডিয়া উইংয়ের এএসআই পাবেল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ” আমরা উন্নয়নশীল দেশ থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়ে আজ স্মার্ট বাংলাদেশের পথে। আমাদের মাননীয় অধিনায়ক মহোদয়, অতিরিক্ত ডিআইজি খোন্দকার ফরিদুল ইসলাম স্যারের মত সৎ, সাহসী, সদালাপী, নির্বিক, স্মার্ট অফিসার আছেন বলেই আমরা ২০৪১ সালের আগেই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পারব বলে বিশ্বাস করি। এমন মানবিক অফিসারের অধিনে চাকরী করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি, আজ আমরা গর্বিত।
উক্ত অনুষ্টানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মফিজুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার আসাবুর রহমান, জুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, ওসি (তদন্ত) হুমায়ূন কবির, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মন্জুরে আলম লাল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ তাজুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক মো বেলাল হোসাইন, জুড়ী মানবিক সোসাইটির উপদেষ্টা ডাঃ নজরুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।

