বড়লেখায় বাঁশের বেড়ায় রাস্তা বন্ধ-দুর্ভোগে শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসী

জেলা প্রতিনিধিমৌলভীবাজার:

বড়লেখা উপজেলার মোহাম্মদপুর দক্ষিণ (কড়িয়া) গ্রামের ৪০ পরিবারের বাসিন্দাদের কয়েক যুগের চলাচল রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী উশৃঙ্খল নারী আফতারুন নেছা। এতে গত ৬ দিন ধরে চরম ভোগান্তি পোয়াচ্ছেন ওই রাস্তায় চলাচলকারীরা। বিশেষ করে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছে প্রাইমারী, হাইস্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।  রাস্তার প্রতিবন্ধকতা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বুধবার দুপুরে ভোক্তভোগিদের পক্ষে ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন মোহাম্মদনগর দক্ষিণ গ্রামের আজিজুর রহমান। ইউএনও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সহকারি কমিশনার (ভূমি)-কে নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগ সূত্র ও সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর দক্ষিণ গ্রামবাসীর চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি আফতারুন নেছার বাড়ির পূর্ব পাশ দিয়ে দক্ষিণের সরকারি রাস্তায় সংযুক্ত। বহু বছর ধরে এ পথ দিয়েই স্থানীয়রা, শিক্ষার্থী ও রোগীরা চলাচল করে আসছেন। অন্য কোনো বিকল্প রাস্তা না থাকায় এটি এলাকাবাসীর একমাত্র যাতায়াতের পথ।কিন্তু ৬ দিন আগে আফতারুন নেছা তার বাড়ির সামনের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এর আগে চলিত বছরের আগস্টে একইভাবে রাস্তা বন্ধ করে দিলে থানা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা অপসারণ করা হয়। তবে, রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ৭ অক্টোবর আফতারুন নেছা প্রতিবাদী ৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা করার পরই আফরুন নেছা কাটা ফেলে ও বাশের বেড়া দিয়ে পুনরায় রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন। এলাকাবাসীর সাথে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রায় বন্দী হয়ে পড়েছেন। অভিযোগকারী আজিজুর রহমান বলেন, আফতারুন নেছার বাড়ির পূর্বপাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য পাশের জমির মালিক রাস্তার নামে রেজিষ্ট্রী করে দিয়েছেন। বাকি অংশ সরকারি খাস ভূমি। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী নারী আফতারুন নেছা এলাকাবাসীর চলাচলের রাস্তাটি তার নিজস্ব ভূমির দাবী করে হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে প্রায় ৫০ পরিবারের কয়েকশ বাসিন্দা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর আগেও তিনি একবার রাস্তা বন্ধ করে দেন। পরে থানার ওসি সাহেব সরেজমিনে পরিদর্শন করে রাস্তাটি খুলে দেন। গত ৬ দিন আগে আবারও তিনি রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন। রাস্তা বন্ধের প্রতিবাদ করলেই তিনি একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানী করছেন। ইউএনও গালিব চৌধুরী জানান, রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। সহকারি কমিশনার (ভূমি)-কে দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *