কুলাউড়ায় বিরোধী দলীয় নেতার ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় রাষ্ট্রের অর্থ আমাদের কারো বাপ-দাদার নয়-কুলাউড়ায় বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান

জেলা প্রতিনিধিমৌলভীবাজার

সরকারের প্রতি কঠোর সতর্ক বার্তা দিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, রাষ্ট্রের অর্থ আমাদের কারো বাপ-দাদার নয়, এই অর্থ দেশের ১৮ কোটি মানুষের। যেমন ইচ্ছা তেমন ব্যবহার করবেন, এর উছিলায় সরকারের গদিতে বসার কারণে মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, অপরাধ, লুটতরাজ চালাবেন এরকম কোন সরকার মানুষ দেখতে চায়না। মানুষ দেখতে চায় সরকার হবে জনগণের অর্থ সম্পদ, ইজ্জত জীবনের ম্যানেজার, মালিক নয়। ২৩ মার্চ সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে নিজ এলাকায় স্থানীয় এলাকার সর্বস্তরের জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ব্যাংকসহ বহু প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার রয়েছে, মালিক নয়। ম্যানেজার কখনো মালিক হননা। ম্যানেজার তার দায়িত্বের বিনিময়ে কিছু পারিশ্রমিক পান, বেতন ভাতা পান। তার দায়িত্ব হলো ম্যানেজমেন্টটা ঠিকমত স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরিচালনা করা। সরকার যদি ম্যানেজারের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে মালিক হওয়ার অবস্থানে চলে যেতে চায়, তাহলে আপনারকে স্বাক্ষী রেখে বলতেছি আমরা কাউকে মালিক হতে দেব না। আমরা আটকিয়ে দিব। আমরা আগেই ঘোষণা দিয়েছি, সরকার হবে জনগণের সেবক, মালিক নয়।

সরকারকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, আমরা সাবধান করে দিচ্ছি। আপনারা বলতেছেন যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। আমরা এটা বলিনা। আমাদের অন্য বক্তব্য আছে। কিন্তু আমরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। আমাদের সমস্ত রিজারভেশন সত্ত্বেও আমরা বলছি, না দেশটা অচল না হউক। আপনারা যদি সঠিক ধারায় না ফিরে আসেন মনে রাখবেন জুলাই মাত্র দেড় দুই বছর আগে হয়েছে। সারাদেশের মানুষ জুলাই যোদ্ধা। এই মানুষগুলো আপনাদের ক্ষমা করবেনা। আমরা চাই না আপনাদের পরিণতি অতীতের ফ্যাসিবাদের মত হউক। তারা অন্যায় অপরাধ করেছিলো তাই তাদের এই পরিণতি হয়েছে। সেই আমলে আপনারা নির্যাতিত মজলুম ছিলেন। আমরাও নির্যাতিত মজলুম ছিলাম।

তিনি বলেন, একটা সরকার বসছে একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ ফিরে আসবে। এখন কেন বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক বসানো হচ্ছে। এখন তো নির্বাচন দেওয়া উচিত। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জনসমর্থন নিয়ে দায়বদ্ধ হয়ে তারা এসে দায়িত্ব পালন করবে। যারা প্রশাসক ওদের কিসের আবার দায়বদ্ধতা। ওরা না সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত মানুষ না জনগণের নির্বাচিত, এরা মাঝখানের। এদের কারো কাছে কোন দায়বদ্ধতা নেই, খুব একটু থাকলে তার দলের কাছে থাকতে পারে। আমরা জনসেবককে কোন দলের কাছে দায়বদ্ধ দেখতে চাইনা। আমরা দেখতে চাই তারা  জনগণের কাছে দায়বদ্ধ হবে। এজন্য আমাদের দাবি স্পষ্ট, অনতিবিলম্বে সকল স্থরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে হবে। সেই নির্বাচনে জনগণের ভোটে যারাই আসবে তাদেরকে আমরা স্বাগত জানাবো।

তিনি আরো বলেন, বিরোধী দলের ৭৭ জন এমপি প্রত্যেকজন জাতীর চৌকিদার, আমিও একজন চৌকিদার। চৌকি বসিয়ে পাহারা দেব। পাঁচ বছর যদি এই সরকার বহাল থাকে তাহলে পাঁচ বছরই আমরা পাহারা দেবো। ভালোর পক্ষে স্লোগান তুলবো ইতিবাচক, মন্দের বিরুদ্বে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো প্রয়োজনে। আমরা নীতি থেকে এক চুলও নড়বো না।

সরকার প্রদত্ত বাসা ও গাড়ি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার আমাকে গাড়ি-বাড়ির অফার করেছে। আমি বলেছি আমার গাড়ি লাগবেনা। আমার ছোট্ট একটা গাড়ি আছে। বাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে কিন্তু সে বাড়িতে আমি থাকবো না। দেশের প্রয়োজনে, রাষ্ট্রীয় কাজে-বিদেশি অতিথি ও বিভিন্ন দেশের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকের জন্যই সেটি ব্যবহার করা হবে।

ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় কালে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো: ফখরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও সিলেট মহানগরী নায়েবে আমির হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খাঁন, কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য ও সাবেক জেলা আমির মো: আব্দুল মান্নান, সিলেট মহানগরী মজলিশে শূরা সদস্য আব্দুস সালাম আল মাদানী, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলী, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলী, সিলেট মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট আব্দুর রব, কুলাউড়া উপজেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল মুন্তাজিম, নায়েবে আমীর জাকির আহমেদ, সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরীসহ দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। শুভেচ্ছা বিনিময়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক সহস্রাধিক মানুষ এতে অংশ নেন এবং আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন।

তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ভাটেরায় পৌঁছালে সীমান্তবর্তী মোমিনছড়া চা বাগানের সামনে মৌলভীবাজার জেলা ও কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এলাকায় পৌঁছেই ডা. শফিকুর রহমান প্রথমে স্থানীয় কবরস্থানে যান এবং সেখানে মুরব্বি ও এলাকার বিদেহী স্বজনদের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন। এরপর তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় শেষে নিজ বাড়িতে প্রতিবেশী ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সহকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এছাড়া তিনি স্থানীয় মানুষের খোঁজখবর নেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *