কুলাউড়ায় কোয়াবের নতুন কমিটি, ১৫ জনের পদত্যাগ, কমিটি স্থগিত!

মাহফুজ শাকিল: ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (কোয়াব) এর কুলাউড়া উপজেলার ৪২ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পরপরই একের পর এক পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। ১ মে শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদের ১৫ জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে নতুন কমিটি গঠনের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হলে কোয়াবের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ মিথুন ১ মে বিকেলে কমিটি স্থগিত করে এক বিবৃতি দেন। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল রাত নয়টায় কোয়াবের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ মিথুন স্বাক্ষরিত অনুমোদিত ওই কমিটিতে রফি আহমদ তানিমকে সভাপতি এবং আব্দুস সালাম জনিকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাউর হলে কুলাউড়ার ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এতে কুলাউড়ার ক্রিকেট প্রেমীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করে। অনেক ক্রিকেটাররা ক্ষোভে নিজেদের ফেসবুকে কমিটি বাতিল করার দাবি জানিয়ে পোস্ট করেন। এরপর নেট দুনিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে কমিটির গঠন প্রক্রিয়ায় অসন্তুষ্টি জানিয়ে ১৫ জন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক তাদের পদ থেকে ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগকারী অনেকেই জানান, তাদের না জানিয়ে কমিটিতে তাদের রাখা হয়েছে।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল রাতে কোয়াবের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ মিথুন স্বাক্ষরিত কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেসবুকে প্রথম পদত্যাগের ঘোষণা দেন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ মাহমুদ। এরপর একে একে পদত্যাগের ঘোষনা দেন সংগঠনের কমিটির সহ-সভাপতি রবিউল আউয়াল মিন্টু, সৈয়দ মোকাম্মেল আলী শাহেদ, ফজলে আবিদ খান রাবী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম জনি, সহ-সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন বাবলু, মনজুরুল আমিন, তানভীর ইসলাম তৌফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়ছল মিন্টু, সহ ক্রীড়া সম্পাদক রিফাজ রহমান, ইফতেখার ইফতু, সহ দপ্তর সম্পাদক আরিয়ান রনি, সদস্য মুসা আহমদ সুয়েট, মারুফ আহমেদ, শিপন খান। কুলাউড়ার ক্রিকেটারদের কল্যাণে কাজ করা প্রকৃত সংগঠকদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি কমিটি গঠন করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেটের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ যারা গ্রহণ করতে পারবে তাদের নিয়েই কোয়াবের কমিটি গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন ক্রিকেট প্রেমীরা।

কমিটি থেকে পদত্যাগ কারী অধিকাংশ সংগঠকরা জানান, কোয়াবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফি আহমদ তানিম নিজের একাডেমী ও তার পছন্দের লোকদের নিয়ে তালিকা করে এককভাবে কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করে কমিটি অনুমোদন করান। কিন্তু ওই কমিটিতে কুলাউড়ার নিবেদিত ক্রিকেট সংগঠকদের মধ্যে অনেককেই রাখা হয়নি। এমনকি ২০২৫-২৬ সালে কুলাউড়ায় কোয়াব টুর্নামেন্ট যারা সফল ভাবে সমাপ্তি করেছে সেই সকল সংগঠকদেরও কমিটিতে বাদ দেয়া হয়।

সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগকারী ফরহাদ মাহমুদ বলেন, ২০২০ সালে কোয়াবের কমিটিতে আমি দপ্তর সম্পাদক ছিলাম। কিন্তু এর পরের বছর থেকে আমাকে কমিটিতে রাখা হয়নি কেন সেই কারণ জানিনা। কিন্তু কুলাউড়ার ক্রিকেটের স্বার্থে ২০২৫-২৬ সালের কোয়াব টুর্নামেন্টের খেলা যখন মাঠের অভাবে থমকে গিয়েছিল ঠিক তখনই কুলাউড়ার খেলোয়াড়দের স্বার্থে আমি কোয়াবের অন্য সদস্যদের সাথে আলোচনা করে মিঠুপুরে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করে দেই। পরে ওই মাঠে টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তি হয়। কোন পদ-পদবী নিয়ে আমি কাজ করতে চাইনা। কারণ পদে থাকাবস্থায় যখন কোন মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই ক্ষোভ থেকে পদত্যাগ করেছি। পদ-পদবী ছাড়াই কুলাউড়ার ক্রিকেটারদের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।

কোয়াবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রবিউল আউয়াল মিন্টু বলেন, কোয়াবের যে নতুন কমিটি করা হয়েছে ওই  কমিটিতে আমাকে সিনিয়র সহ-সভাপতি রাখা হয়। যদিও এ বিষয়ে আমি অবগত নয়। আমার জানা মতে আমাদের জেলা সভাপতি হাসান আহমেদ জাবেদ ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমদ এ ব্যাপারে অবগত নন। তাই এই কমিটির সাথে কাজ করতে অনিচ্ছুক।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হলে কোয়াবের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ মিথুন নবগঠিত কমিটি স্থগিত করে আগামী ৪৫ দিনের মাধ্যমে ভোটের মাধ্যমে কমিটি নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে বিবৃতি প্রদান করেন। ওই বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি কুলাউড়া কোয়াবের নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়ার পর কিছু অভিযোগ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। যা মোটেও প্রত্যাশিত নয়। আমরা কোনো বিতর্ক চাই না। আমরা চাই, স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মেনে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে নিরপেক্ষ একটি ভোটের মাধ্যমে কোয়াবের কমিটি গঠন করা হোক। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে যারা জিতবেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে আমরা কমিটির অনুমোদন দেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *