২০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে গাজায় ৩০০ দম্পতির গণবিবাহ

হাবিবুর রহমান ফজলু, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে: সংযুক্ত আরব আমিরাতের পৃষ্ঠপোষকতায় ২৪ এপ্রিল মধ্য গাজায় আয়োজিত হয় এক ব্যতিক্রমী গণবিবাহ, যেখানে ৩০০ দম্পতি একসঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে এই আয়োজন স্থানীয় মানুষের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তির অনুভূতি নিয়ে আসে। গাজার অন্যতম বৃহৎ এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে পরিবার-পরিজন, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। আয়োজকদের হিসেবে, প্রায় ২০ হাজার মানুষ এতে অংশ নেন। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবিক উদ্যোগ “গ্যালান্ট নাইট ৩”-এর অংশ হিসেবে “জয় ড্রেস ২” শিরোনামে আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিটির লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক চাপে বিয়ে করতে না পারা তরুণ-তরুণীদের সহায়তা করা। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে নিবন্ধন শুরু হলে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে দম্পতিদের বাছাই করা হয়। আয়োজকরা জানান, যারা আগে বিয়ে করেননি এবং নির্ধারিত আয় ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেছেন—তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শুধু অনুষ্ঠান আয়োজনেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই উদ্যোগ। নবদম্পতিদের নতুন সংসার গড়তে আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীও প্রদান করা হয়েছে, যাতে তারা প্রাথমিক খরচ ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন। অনুষ্ঠানটি ছিল আনুষ্ঠানিকতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক সুন্দর সমন্বয়। কোরআন তেলাওয়াত, বিবাহ ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা এবং দাবকের মতো ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে তৈরি হয় উৎসবমুখর আবহ। একই সঙ্গে বাজানো হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিস্তিনের জাতীয় সঙ্গীত। গাজায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধি দলের প্রধান আলী আল শাহী বলেন, এই উদ্যোগ গাজার মানুষের পাশে থাকার এবং তাদের কঠিন সময়ে সহায়তা করার প্রতি আমিরাতের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদানের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেক দম্পতির কাছেই এটি ছিল জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। কেউ সংঘা**তে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, কেউ আ*হ*ত হয়েছেন, আবার অনেকেই আর্থিক সংকটের কারণে বিয়ে পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, “গ্যালান্ট নাইট ৩” অভিযানের আওতায় এটি ছিল দ্বিতীয় গণবিবাহ অনুষ্ঠান। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘা**তের পর থেকেই এই উদ্যোগ গাজাজুড়ে মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *