মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের দক্ষিণ সাগরনাল গ্রামের বাসিন্দা রিকশা চালক আলাউদ্দিন এর পুত্র রাহেল উদ্দিন মারুফ ফুলতলা বশির উল্লা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ১২৫০ নম্বরের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ১১৪৮ নম্বর দরিদ্র পরিবারের সন্তান রাহেল ডাক্তার হতে চান। কিন্তু তার সে স্বপ্ন অকল্পনীয়। কেননা অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটে রাহেলদের। উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি, বইসহ শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের সামর্থ্য তার নেই। এ জন্য রাহেল সবার নিকট আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন। রাহেলের সাথে যোগাযোগ ও বিকাশ নম্বর ০১৩৩১–২৬৭৯২১ বাবা–মা, ২ ভাই ও ১ বোনসহ ৫ সদস্যের পরিবার। রাহেলদের নিজস্ব কোনো জমি বা বাড়ি নেই, থাকেন সরকার প্রদত্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে। নেই আয়ের ভালো কোনো উৎস। বাবা প্রায় ৫ বছর থেকে মানসিক রোগে আক্রান্ত। অর্থাভাবে হচ্ছে না চিকিৎসা। ভাঙাচুরা একটি রিকশা আছে, ফ্রীতে দিলেও কেহ নিবে না। মন চাইলে মাঝে মধ্যে চালান। ১/২শ টাকা পাওয়া যায়। বড় ভাই মাছুম উদ্দিন বাস গাড়ীতে হেলপারের কাজ করেন। ২/৩ শত টাকা পান। মা রিনা বেগম গৃহিণীর কাজ করেন। বর্গা চুক্তিতে দুইটি গরু এনে লালন-পালন করছেন। একমাত্র বোন আবিদা আক্তার নোহা মাদরাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ছেন। রাহেল বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বিনা বেতনে লেখাপড়া করেন। সপ্তম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত উপবৃত্তি পান। লেখাপড়ার সুবিধার্থে বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের সৌজন্যে একটি টেবিল ও একটি টুল পেয়েছেন। টাকার অভাবে যখন এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলআপ করতে পারছিলেন না, তখন একজন শিক্ষকের অনুরোধে প্রতিবেশি এক চাচা তানভীর আহমদ ফরম ফিলআপের ২৭০০ টাকা প্রদান করেন। প্রতিদিন বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতে বিশ টাকা বাস ভাড়া লাগতো। এই টাকা না থাকায় অনেক দিন তার বিদ্যালয়ে যাওয়া হয়নি। ইংরেজির শিক্ষক সেকান্দর আলী তার বাড়িতে গিয়ে বিনা বেতনে প্রাইভেট পড়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বিশ টাকা বাস ভাড়ার অভাবে এবং গরু রাখার কারণে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ে বা প্রাইভেটে না গিয়ে ওই সময় ঘরে বসে পড়তেন রাহেল। রাত ২টা পর্যন্ত পড়ে ঘুমাতেন আবার ভোরে উঠে পড়তে বসতেন। নিজের লেখাপড়া বজায় রেখে নিজ গ্রামে প্রতিদিন এক ঘন্টা করে ৩/৪টি টিউশনি করতেন। তাতে মাসে ৩-৫ শত টাকা করে পাওয়া যেতো। এভাবেই সংসারে পাশাপাশি ভাই-বোনের লেখাপড়াও কোনো মতে চালানো হতো। রাহেলের ইচ্ছা ঢাকার কোনো কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পড়বেন। ডাক্তার হয়ে তার মতো দরিদ্র মানুষের সেবা করবেন। কিন্তু তার সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে প্রথম বাধা আর্থিক দৈন্যতা। কলেজে ভর্তি হওয়া বা বই কেনার টাকাও তার নেই। ‘দৃঢ় মনোবলের কাছে দারিদ্র্য নস্যি’ প্রমাণ করে শত প্রতিকূলতায় প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তির বলেই আকাশছোঁয়া সাফল্য অর্জন করেছেন রাহেল। যদিও তিনি এটাকে সাফল্য ভাবছেন না| কেননা- তার ভবিষ্যৎ এখনও কন্টকাকীর্ণ। চিত্ত-বিত্তশালীদের আর্থিক সহযোগিতায় লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলেই হবে চুড়ান্ত সাফল্য। নতুবা অন্য অনেক দরিদ্র মেধাবীবের মতো রাহেলও হারিয়ে যাবেন কালের আবর্তে। রাহেলের এ আলোর পথে আধারের সহযাত্রী কেহ হবেন, এমনটাই তার প্রত্যাশা। আসুন, রাহেলের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা সহযোগিতার হাত প্রসারিত করি। নিজ অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব টাকা দিয়ে তার পাশে দাঁড়াই। আমাদের সামান্য সহযোগিতায় রাহেল ও তার বোনের লেখাপড়ার পাশাপাশি তার বাবার সঠিক চিকিৎসা হবে। চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হবেন। একটি নতুন রিকশা পেলে সেই রিকশা চালিয়ে যা আয় করবেন তা দিয়ে তাদের সংসারও কোনো রকম চলে যাবে।

