মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ লাল বর্ণের দুর্গা দেবীর পূজা হয় মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁওয়ে। পুজা চলাকালীন প্রতিদিন দেশ-বিদেশের লাখো ভক্ত আসেন দেবী দর্শণে; কৃপার আশায়। বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা পরিবার পরিজন নিয়ে দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন পাঁচগাঁওয়ের এ মন্ডপে। রাজনগর উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পাশে অবস্থিত এ মন্ডপে নিরাপত্ত্বা ও শৃঙ্খলার জন্য সার্বক্ষনিক দায়িত্বে থাকেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শতাধিক সদস্যের একটি বিশাল টিম। স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরাও। পুলিশের পাশাপাশি টহল দিচ্ছে র্যাব সদস্যরাও। এ বছর রাজনগর উপজেলায় সার্বজনীন ৮২টি ও ব্যক্তিগত ৫৫টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। রাজনগর উপজেলার জন্য নগদ ২ লক্ষ টাকা ও ৫০ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এদিকে রাজনগরের পাঁচগাঁও মন্ডপে লাল দূর্গা দেবীর পূঁজো দেয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজনদের পাশাপাশি এখানে আসেন বিচারপতি, মন্ত্রী, এমপি, চলচ্চিত্র শিল্পিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। কুশল বিনিময় করেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। মন্ডপের পাশে বসে মেলা। হরেক রকমের প্রায় ৪০০শরও বেশি দোকান বসে। ফার্নিচার, খেলনা, লাইব্রেরীসহ মিষ্টির দোকান হয় বেশি। বেচা-কেনা হয় কোটি টাকারও বেশি। পূঁজা উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় উপজেলার পুজামন্ডপ ও আশপাশের এলাকা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রতিটি পূজামন্ডপে পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে । প্রতিটি মন্দিরে পুলিশ ও আনসারবাহিনীর সদস্যসহ থাকবে নিজেদের স্বেচ্ছাবীরা। থাকবে সিসিটিভিও।
পাঁচগাওয়ের লাল বর্নের দূর্গা মূর্তির নিয়ে কথিত আছে, প্রায় তিনশ বছর পূর্বে সর্বানন্দ দাশ তৎকালীন সরকারের মুন্সী পদবি প্রাপ্ত কর্মস্থল আসামের শ্বিবসাগর জেলার বাড়িতে দুর্গাপুজার সময় তার স্ত্রী ও কর্মচারীগনকে নিয়ে কুমারী পুজা করার মনস্থ করেন। মন্দিরের সেবায়েতের সহায়তায় সর্বানন্দ দাস পঞ্চম বর্ষীয়া কুমারী নির্বাচন করেন। মহাষ্টমীর দিনে কুমারীকে ভগবতীর জ্ঞানে সুদীর্ঘ ছয় ঘন্টা পুজাঁ করার শেষে প্রণাম করার সময় সর্বানন্দ দাস এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখেন, কুমারীর গায়ের বর্ণ পরিবর্তন হয়ে লালবর্ণ ধারণ করেছেন। এই দৃশ্য অবলোকন করার পর মাকে জিজ্ঞাসা করেন, মা’ আমার পুজা সুপ্রসন্ন হয়েছে কি? উত্তরে ভগবতী বলেন, ‘হ্যাঁ তোর পূজা সিদ্ধ হয়েছে। এই বর্ণে তোর গ্রামের বাড়ি পাচঁগাঁও-এর পূজা মন্ডপে আর্ভিভূত হয়েছিলাম। এখন হতে ভগবতীকে লালবর্ণে পূঁজা করবে।’ পরবর্তী বছর সর্বানন্দ দাস নিজ বাড়ি পাঁচগাঁওয়ে শারদীয় পূজার আয়োজন করেন। মাতৃমূর্তিকে কুমারী গায়ের সেই লাল বর্ণের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে লাল বর্ণে রঞ্জিত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজও সর্বানন্দ দাসের পরবর্তী বংশধর সঞ্জয় দাসের সার্বিক তত্বাবধানে নিজেদের মন্ডপে লাল বর্ণের মূর্তির দূর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদার বলেন, দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাঁচগাঁও ম-পসহ সকল মন্ডপ ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সিসিটিভির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তদারকির জন্য উপজেলা পরিষদে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবেই পূজার অনুষ্ঠানাদি চলছে।

