কুলাউড়ায় ১ম স্ত্রীর যৌতুকের মামলায় কারাগারে গৌরাঙ্গ দে

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুকের মামলায় জেলহাজতে রয়েছেন গৌরাঙ্গ দে নামে এক ব্যাক্তি।

১ম স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে মারধর, নির্যাতন ও সংসারে ফিরিয়ে না নেয়া ও অনুমতি ছাড়া স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগে স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন শিউলি বৈদ্য (৩৮) নামের এক নারী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কুলাউড়া গ্রামের বাসিন্দা শিউলি বৈদ্য ২০২২ সালের ১০মার্চ একই উপজেলার টিলাগাও ইউনিয়নের চকসালন গ্রামের গবিন্দ্র চন্দ্র দের পুত্র গৌরাঙ্গ দে (৩২) এর সঙ্গে পারিবারিকভাবে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ দুই লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন আসবাবপত্র দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে বাদী দাবি করা হয় বিয়ের পর স্বামী গৌরাঙ্গ দে নিজের দৈনন্দিন খরচ বহনের জন্য তাঁর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন কেনার জন্য লক্ষাধিক টাকা স্বামীকে দেন তিনি। এ ছাড়া স্বামীর বাড়িতে ঘর নির্মাণের জন্য বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১২ লাখ টাকা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন শিউলি বৈদ্য। মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, স্বামীর পরিবারের সদস্যদের প্ররোচনায় এর আগেও তাঁকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছিল। পরে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্বামী দুবাই যাওয়ার কথা বলে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে সংসারে ফিরিয়ে না নেয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার দিন বাদী তাঁর পিত্রালয়ে অবস্থানকালে স্বামী সেখানে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী। তাঁর চিৎকার শুনে সাক্ষীরা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বাদী আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পুনরায় সংসারে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এবং তাঁর স্বর্ণালংকার, বিয়েতে দেয়া আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল স্বামীর বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় অভিযোগ জানালেও থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয় বলে বাদী দাবি করেন। পরবর্তী সময়ে গত ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মৌলভীবাজার জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আবেদন করেন তিনি। সেখানে আপস-মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে ১৯ আগস্ট তাঁকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। পরে গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫ নম্বর আমলি আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশোধনী অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ১১ ধারায় মামলা দায়ের করেন শিউলি বৈদ্য। মামলায় স্বামী গৌরাঙ্গ দে এবং তাঁর বাবা গোবিন্দ চন্দ্র দে ও মা অনিতা রানী দে-কে আসামি করা হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার গৌরাঙ্গ দে মৌলভীবাজার কোর্টে জামিন নিতে গেলে আদালত তাকে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে প্রেরন করেন বলে বাদীর আইনজীবি বিধান ভট্টাচার্য্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *