জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সাবেক পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছের মালিকানাধীন ট্রাকের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ইমন আলী (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ১ আগস্ট সোমবার রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য কুলাউড়া থেকে সিলেট নিয়ে যাওয়ার পথে ইমনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ইমনের মা নেহারুন বেগম (৩৫) সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইমন উপজেলার
পৃথিমপাশা ইউনিয়নের ধামুলী গ্রামের বাসিন্দা জুনাব আলীর ছেলে। এদিকে এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ঘাতক ট্রাকটিকে শনাক্ত করে। ট্রাকের মালিক পৌরসভার সাবেক মেয়র শফি আলম ইউনুছ নিজে ঘটনার কথা স্বীকার করলেও পুলিশ বলছে, ট্রাকটির প্রকৃত মালিককে তারা এখনো শনাক্ত করতে পারেনি। নিহত শিশু ইমনের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার দিকে জুনাব আলীর স্ত্রী নেহারুন বেগম তার ছেলে ইমনকে নিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে উপজেলার ব্রাহ্মণবাজারের মিশন এলাকায় তাদের আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের চুনঘর বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাদের (ইমনদের) বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাটিকে চাপা দিলে সেটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে। এতে অটোরিকশা চালক, যাত্রী ইমন এবং তার মা গুরুতর আহত হোন। পরে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ইমন ও তার মা নেহারুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে নেওয়ার পথে ইমনের মৃত্যু হয়। এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত ইমনের মা নেহারুন বেগম সিলেটের একটি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইমনের মায়ের মাথায় ১৮টি সেলাই, হাতে ও কনুইয়ে প্রায় ৭টি সেলাই লেগেছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। নিহত শিশু ইমনের পিতা জুনাব আলী বলেন, আমার ছেলে মারা যাওয়ার পর আমি থানায় যাই অভিযোগ করতে। পরে বিষয়টি নিয়ে আলাপের জন্য ট্রাকের মালিক সাবেক মেয়র ইউনুছ মহালদারের অফিসে নিয়ে যান ইউপি সদস্য তাহির আলী ও চাচা ফারুক মিয়া। এ সময় ট্রাকের মালিক পক্ষের সাথে আলাপ করে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হয় আমাকে। আমি দরিদ্র মানুষ, ট্রলি চালিয়ে সংসারের খরচ চালাই। ছেলেকে হারিয়েছি। মামলার খরচ কিভাবে জোগাড় করবো, তাই মামলা করিনি। ঘাতক ট্রাকের মালিক সাবেক পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ মুঠোফোনে বলেন, আমার মালিকানাধীন ট্রাকটি ব্রাহ্মণবাজার থেকে আসছিলো। সিএনজি অটোরিকশা চালকের দোষে এমন দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতের পরিবারকে কোন ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলোচনা করে নিহত শিশুর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। কুলাউড়া থানার উপ-পরিদর্শক বিদ্যুৎ পুরকায়স্ত মুঠোফোনে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি পাইনি। শুধু দূর্ঘটনাকবলিত সিএনজি অটোরিকশাকে পাই। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘাতক ট্রাকের চালক ও মালিককে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো: আব্দুছ ছালেক বলেন, সিলেট নিয়ে যাওয়ার পথে আহত শিশুটি মারা গেছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল তৈরি করা হয়েছে। ট্রাকটির মালিক পক্ষের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে শিশুর পরিবার কোন অভিযোগ দেয়নি। তিনি আরো বলেন, শিশুর পিতার আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন শিশুর পরিবার যদি ট্রাক মালিক পক্ষের কাছ থেকে কোন ক্ষতিপূরণ না পায় তাহলে অভিযোগপ্রাপ্তি সাপেক্ষে ট্রাক মালিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত
ব্যবস্থা নেয়া হবে।

