বাংলাদেশের কতিপয় পুরুষদের সমস্যাটা কি?

শারীরিক সম্পর্ক করতে হোটেলে নিয়ে যান স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে, তারপর নিজের উদ্দেশ্য মোতাবেক ভোগ দখলের পরই হাজারটা আপত্তি আপনাদের আর না জানি কি কি ঘটে আপনাদের মননে মস্তিষ্কে আর হত্যা করেন সেই নারীকে যার সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেও রোমান্টিক ভাবে সম্পর্কে জড়িয়েছেন! তারপর খুন করে চোরের মতো পালিয়ে যান……..!
প্রেমের সম্পর্ক হোক কিংবা সাধারণ পরিচিত কিংবা অপরিচিত কেউ হোক, শারীরিক সম্পর্ক করতে রাজি না হলে হত্যা করেন অচেনা মেয়েটাকেও!
নারীকে জোরপূর্বক ভোগ দখল করতেই হবে, এই মানসিকতা কাজ করে কি করে?
এইদেশে তো ডোম ঘরেও নারীরা ধর্ষিত হয়! এরাই আবার নিজের গৃহে কারো বাপ, কারো ভাই, কারো ছেলে, কারো স্বামী।
বিয়ে করে আনা মেয়েটা আপনার মনমতো না চললে তাকেও হত্যা করেন! না ভয় লাগে না অনুশোচনা হয়,, খুন করা এত সহজ কেন?
ঘরের বউ নায়িকার মতো আকর্ষণীয় সুন্দরী হোক, বাইরের সুন্দর অসুন্দর সব নারীকে কাছে পেতেই হবে। সহকর্মী থেকে শুরু করে সবাইকে গিলে ফেলতে মন চায় আপনাদের! সবশেষে পালিয়ে যান……..!
বোরখা থেকে বিকিনি, যে লেবাসে ই নারীকে দেখেন আপনাদের ক্ষুদার্ত চোখ এত লোলুপ দৃষ্টি সম্পন্ন কেন?
আর পরিচিত হলে তো কথা ই নেই। হত্যা করেই ক্ষান্ত হননা হত্যাকারী, মেয়েটার বিরুদ্ধে সত্য-মিথ্যা যেভাবে ইচ্ছা অপপ্রচার করতে উঠেপড়ে লেগে যায় ছেলেদের চৌদ্দ গুষ্ঠির লোক! যারা মেয়েটাকে চিনতোও না, তারা এই কাজে যোগ দেয়!
এমনকি চেনা কিংবা অচেনা যেই নারীর সঙ্গেই এমন অঘটন ঘটে, যখন ঘটনাটা প্রকাশ পায় চেনা অচেনা সকলে মিলে মেয়েটার পোশাক, চলাফেরা, লাইফস্টাইল, ব্যক্তিত্ব নিয়ে আপত্তিকর বিভ্রান্তিকর অস্থিরতা তৈরি করে সামাজিক ভাবে। এত অসভ্য একটা রাষ্ট্রের লোক এত জঘন্য পর্যায়ের মানসিকতা কিভাবে লালন করতে পারে?
যার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান, তাকে এতটুকু সম্মান করতে না পারলে সম্পর্কে জড়ান কেন? কেন নারীদেরকে ই আপনাদের মনমতো চলতে হবে? কেন শারীরিক ভাবে ভোগ দখলের পরই ওই নারীটাকে আর ভাল্লাগে না, হোক সে স্ত্রী কিংবা দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ কিংবা ভিন্ন কোন অন্য নারী!
পুরুষদের উপরওয়ালা এমন করে কেন সৃষ্টি করেছেন যে তারা নারীদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী আর ক্ষমতাসীন অধিকাংশ ক্ষেত্রে?
কেন একজনের বাবা, ভাই, বন্ধু, সন্তান, স্বামী অন্য নারীকে সম্মান করতে জানেনা? কেন নারীকে ভোগ করার দখলে রাখার এত অসভ্য ইতরামির মানসিকতা কাজ করে পুরুষদের মধ্যে? কেন পুরুষতান্ত্রিকতার ধর্মটা নারীবিদ্বেষী আর নারীদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হিংস্রধর্মী?
এমন কোন দিন নেই, যেদিন পত্রিকার পাতা খুললে কিংবা টিভি দেখলে নিউজের মধ্যে অন্তত একজন নারীকে খুন করার ঘটনার খবর না আসে!
ফারহানা মিলি খুশির ফেসবুক থেকে :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *