সেতুর ওপর বাঁশের সাঁকো পুরনো সেতুর পিলারটুকুই অপসারণ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, নতুন সেতু নির্মাণের সময়ও শেষ!

মামুন হায়দার, সখীপুর (টাঙ্গাইল) :
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ছোটমৌশা-শালগ্রামপুর সড়কে সিলিমপুর খালের ওপর স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে পুরোনো সেতুর ওপর অস্থায়ীভাবে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। এতে তাঁদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হয়েছে। জরুরিভাবে সেখানে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার গ্যাসচৌরাস্তা-শালগ্রামপুর পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়কটি কয়েক বছর আগে পাকাকরণ হয়েছে। ওই সড়কের সিলিমপুর খালের ওপর নির্মিত পুরোনো সেতুটি ভেঙে পড়ায় সিলিমপুর, ছোটমৌশা, বড়মৌশা, বেতুয়া, কালিয়ান, শালগ্রামপুর, কৈয়ামধু, দেওবাড়ী, প্রতিমাবংকী, দাড়িয়াপুর, কাঙ্গালীছেও, বগাপ্রতিমাসহ ১৫ গ্রামের মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ অবস্থায় দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২০২০-২১ অর্থবছরে উপজেলার সিলিমপুর খালের ওপর ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। কার্যাদেশ অনুযায়ী চলতি বছরের জুলাই মাসেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। অথচ নতুন সেতু নির্মাণ তো দূরের কথা, পুরনো সেতুটির পিলার অপসারণের কাজটুকুও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) সিলিমপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, পুরোনো সেতুর ভাঙা পিলারের ওপর বাঁশের একটি সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যক্তিরা আপাতত ওই নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই হেঁটে পার হচ্ছেন। সাঁকোর নিচেই লম্বালম্বি খাড়া রয়েছে চিকন রড। পা পিছলে পড়ে গেলেই নিশ্চিত বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে যে কেউ। সেতুর পাশ দিয়ে বিকল্প সড়ক করার নিয়ম থাকলেও তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করে দেননি। প্রয়োজনের তাগিদেই সেতুর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে পারাপার হন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।
সিলিমপুর গ্রামের কৃষক আবদুল গফুর বলেন, ‘সড়কের দুই পাশ পাকা থাকলেও সেতু না থাকায় এলাকার উৎপাদিত বাঁশ, ধান, শাকসবজি আমরা ভ্যানগাড়িতে করে বাজারে নিয়ে যেতে পারি না। অনেক দূর ঘুরে আমাদের হাট-বাজারে যেতে হয়। এতে সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই বেশি লাগছে।’

উপজেলার ছোটমৌশা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বলেন, এ সড়ক ছাড়া স্কুলে যাওয়ার অন্য কোনো উপায়ও নেই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, স্কুলের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই ওই সাঁকো পার হয়ে আসে। সাঁকোটি স্কুলের উদ্যোগে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নির্মাণ করা হয়েছে। তবে অভিভাবকেরা ছেলে-মেয়ে স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন।

দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময়ে সেতুটি না হওয়ায় দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আবদুল হালিম এখলাছ গাফিলতি হয়নি দাবি করে বলেন, বছরের শুরুতেই বৃষ্টি হওয়ায় সেতুটির কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে শুষ্ক মৌসুমে কাজটি শুরু হবে। পিআইও (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সেতুটির বিষয়ে অবগত রয়েছি। মূলত কাজ শুরু করার পরপরই বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *