জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:
খরস্রোতা মনু নদীর ভাঙন রোধে ও বন্যার স্থায়ী সমাধানে একনেকে এক হাজার কোটি টাকার ‘মনু নদীর ভাঙন থেকে কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর রক্ষা’ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। বর্ষায় বন্যা নিয়মমাফিক ঘটনা। বর্ষাকালে পানির সঙ্গে বাড়ে দুই পারের লক্ষ লক্ষ মানুষের আতঙ্ক ও উদ্বেগ। মনু নদের পারের বাসিন্দারা যুগ যুগ দরে এ কষ্ট সহ্য করে দিন পার করছেন। বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে তাঁরা আন্দোলনও কম করেননি। ২০২০ সালের ২১ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৯৯৬কোটি ২৮লাখ টাকা। যার মেয়াদ ২০২৩সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু করোনা মহামারী ও অর্থ বরাদ্ধের ছাড় না হওয়ায় দুই বছরে মাত্র ২৭ শতাংশ কাজ হয়েছে।
পাউবো ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ত্রিপুরার পাহাড়ি উৎপত্তিস্থল থেকে প্রবাহিত খরস্রোতা মনু নদী কুলাউড়ার শরীফপুর ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদরের ৭৪ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে কুশিয়ারা নদীর মিলিত হয়। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে পলিমাটিতে নদীর তলদেশের অনেকটাই ভরাটসহ অনেক স্থানে বিশাল বিশাল চর জেগে উঠেছে। শুকনা মৌসুমে পানির ক্ষীণধারা তলানিতে আর বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে দ্রুতই নদটি টইটম্বুর হয়ে ওঠে। মনুর পাড় ভাঙা ও বন্যা নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮৪ সালে মৌলভীবাজার শহরে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষয়ক্ষতিসহ প্রাণহানি এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালে শহরের বড়হাট এলাকায় বাঁধ ভেঙে যায়।
পাউবো ‘মনু নদের ভাঙন থেকে কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর রক্ষা’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। যার ব্যয় ৯৯৬কোটি ২৮ লাখ টাকার। প্রকল্পটি ২০২০সালের জুন মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায় এবং ২০২৩সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা।
পাউবো জানিয়েছে, ৭২ টি প্যাকেজের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এতে আছে নতুন করে আড়াই কি: মি: বন্যা প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ, ৭৬৬ মিটার পুরোনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ দেয়াল পুনর্বাসন,৮৬কি:মি: বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, ৩৫ স্থানের ১২ কিলোমিটার চর অপসারণ, নদের তীর সংরক্ষণ কাজ ইত্যাদি।
পাউবোর সুত্রে জানা জানা গেছে, নভেম্বর ২০২০ইং পর্যন্ত প্যাকেজের নকশা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও।ডিজাইন পাওয়া যায়নি আহবান করেও ঠিকাদারী প্রতিষ্টান পাওয়া যায়নি। ফলে কাজের ধীরগতির সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে মৌলভীবাজার শহর অংশের আড়াই কি:মি: বন্যা প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০জানুয়ারি ২০২১সালের জানুয়ারী মাসে দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়।
অপরদিকে চলতি ২০২২সালের এপ্রিল মাসে ৫৯টি প্যাকেজের টেন্ডার আহবান করা হলে এপ্রিল মাসের শেষার্ধে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান গুলোকে ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়েছে।
উল্যেখ্য যে, স্বাধীনতার পর মনু নদে খনন হয়নি। চর কাটা হলে পানির স্বাভাবিক স্রোত ফিরে আসবে। সূত্রটি আরও জানায়, জমি অধিগ্রহণেরও মাঠপর্যায়ে জরিপ কাজ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ১লাখ হেক্টর ফসলি জমি,দেড় লাখ মানুষ নদী ভাঙনের ঝুঁকিমুক্তসহ সাড়ে চার লাখ মানুষ বাঁধ ভেঙে বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে।
এনিয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনস্থ মৌলভীবাজারে মনু নদীর চলমান কাজকে বেগবান ও গুনগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি,প্রকল্প পরিচালক ও প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে মতবিনিময় সভা হয় ২৪ আগস্ট দুপুরে। বিষয়বস্তু ছিল প্রকল্পের চলমান কাজের গুনগত মান বজায় রাখা ও কাজের অগ্রগতি বৃদ্ধি নিয়ে। এসময় ছিলেন,প্রকৌশলীগনসহ নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, প্রকল্প পরিচালক ও প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সরজমিনে মনুপ্রকল্পের আওতাধীন যেসব এলাকায় মানুষের বাড়িঘর অদিগ্রহন করা হয়েছে তারা এখনো কোন পরিবার টাকা পায়নি। তারা আরো বলেন সরকার আমাদের মাতা গোজার সম্বল অধিগ্রহন করেছে দু:খ কষ্ট লাগবো করার জন্য। কিন্তু কাজ চলছে কখন বাড়ি ঘর নিয়ে যাবে আমরা জানিনা। আমরা কোথায় যাবো, কোথায় ঠাই হবে শেষ সম্বল নিয়ে যাওয়ার শঙ্খায় দু:চিন্তায় রয়েছেন।
প্রকল্প কাজের এলাকাগুলোতে চলছে নানাবিদ প্রতিক্রিয়া। শুধু তাই নয় সহজ সরল মানুষের মধ্যে টাকা পয়সা পাবেনা ছড়িয়ে হতাশা ও আতংক সৃষ্টি করছে একটি চক্র। অথচ এই প্রকল্পের ভুমি অধিগ্রহনের বরাদ্ধের টাকাই আসেনি এখনোও বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসকের কার্যলয়। তবে তারা বলছেন খুব দ্রুত চলে আসছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ২০২৩সালের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অথচ ২বছরে মাত্র ২৭শতাংশ কাজ হয়েছে। প্রথমার্ধে ২০ জানুয়ারি ২০২১সালে ৪টি কাজের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি আহবান করা হলে বর্তমানে সেটির কাজ চলমান রয়েছে। আর ৪৫টি কাজের টেন্ডার আহবান করাসহ ঠিকাদালী প্রতিষ্টানের কাছে হস্তান্তর করা হয় আগষ্ট ২০২২ইং মাসে। করোনা ভাইরাসে শ্রমিক সংকটের কারনে ৬মাস প্রায় কাজ বন্ধ থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড সেটিকে পুষিয়ে নিতে মাঠ পর্যায়ে দেখবাল করছেন বলে সরজমিনে দেখা যায়।
এদিকে, ঠিকাদারী প্রতিষ্টান কর্তৃক নিজ দায়িত্বে গুনগত মানের বালু ব্যবহারের তৈরি জিও ব্যাগসহ অন্যান্য কাজে বালু মহালদারদের কাছ থেকে বালু ক্রয় করে লাগানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। এব্যাপারে বালু মহালদার কয়েকজনের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, আমরা বালু মহা লিজ নিয়েছি। কাউকে ফ্রি দেয়া যাবেনা। মনু প্রকল্পের কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্টান আমাদের কাজ থেকে উন্নত বালু ক্রয় করে নিচ্ছেন।
অনুসন্ধানে সরজমিনে আরো দেখা যায়, মনু নদীর দস্তিদারের চক, টগরপুর, আদিনাবাদ, খাসপ্রেমনগর, ভোলানগর-মিঠিপুর ও প্রেমনগর, খাসপ্রেমনগর এলাকায় টাস্কফোর্স জিও ব্যাগ চিহ্নিত করেছে। ব্লক নির্মাণে নির্ধারিত (সিলেকশন গ্রেড) বালু ও পাথর ব্যবহারসহ সর্বোপুরি কাজের মান সঠিক হচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য একটি টিম কাজ করছে। টিমটি বর্তমানে প্রকল্পের কাজের বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাউবো ও ঠিকাদারী প্রতিষ্টান সুত্রে জানা গেছে চলতি বছর ৯০কোটি টাকার অর্থ ছাড় হবে বলে গেছে। তবে এর মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের পাওনা রয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। বরাদ্দ বৃদ্ধি না হলে বর্তমান চলমান কাজ ও বর্ষা শেষে যে গতিতে কাজের বাস্তবায়নে অসম্বব হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে।
আরো জানা গেছে, বর্ষাকালীন সময় বালু মাটির বাধের ৮টি ও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৯টি কাজের এথনো শুরুই হয়নি এবং আরো ৬টি প্যাকেজের দরপত্র আহবান বাকী রয়েছে। কাচামাল ও দ্রব্যমুল্যেও উর্ধগতির কারনে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান পাওয়া যাচ্ছেনা দরপত্র আহবান করার পরও। সকল দরপত্রেই ইজিপিতে আহবান করা হয়েছে। ফলে কাউকে অবৈধ্যভাবে কাজ দেয়ার এষতিয়ারও নেই।
এনিয়ে টাস্কফোর্স টিমের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা সরজমিনে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করছি ও যেগুলোর মান নিন্মমানের সেগুলো বাতিল করছি এবং প্রকৃত গুনগত মান সটিকের জন্য কিছু দিনের মধ্যে ভুয়েটে পাটাবো। সেখান থেকে রিপোর্ট আসার পর আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের বৈধতা দেবো।
এদিকে স্থানীয় নারী/পুরুষ একাদিকরা বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজে দীরগতি হওয়ায় সরকারের দেয়া ২০২৩সালে শেষ করতে পারবে কি না সন্দেহ রয়েছে। কাজেই সরকার এই প্রকল্পের কাজের সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে সম্পন্নের জন্য দাবী জানান। ফলে আমরা ক্ষক্ষিগ্রস্থ হবোনা আর সরকারের দেয়া কাজের সুফলতা পাবে। এছাড়াও তারা আরো বলেন,সঙ্গে জিও ব্যাগ ও অন্যান্য কাজের মানউন্নয়ের প্রতি দু দৃষ্টিসহ দ্রুত গতিতে কাজ সম্পর্নের জোর দাবী জানান।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মুন ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বলেন, ওয়ার্ক অর্ডারের চেয়ে আরও ভালো মানের কাজ হচ্ছে। আমার সাইডের ব্লক বুয়েট পরীক্ষা করে স্বীকৃতি দিয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডারের সময়ে কাচামালের মুল্য যে পরিমান ছিল বর্তমানে সেটি অনেক বেড়ে গেছে। তার পর ও যথাসময়ে কাজ সম্পন্ন করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্সের ম্যানেজার মো: সুহান আলী বলেন সকারের বরাদ্দ যথাসময়ে পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ সমাপ্ত সম্বব। তিনি আরো বলেন, রড, সিমেন্টসহ অন্যান্য প্রয়োজণীয় জিসিপত্রের মুল্য বৃদ্ধিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান গুলো হিমশিম খাচ্ছে। তার পর বরাদ্ধের টাকা পেলে দ্রুত পুরো কাজটি শেষ করা সম্বব হবে।
এ বিষয়ে সরজমিনে গিয়ে জানতে চাইলে বাপাউবো, মৌলভীবাজারের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ রাখিল রায়হান জানান, প্রতিটি ব্লকে প্যাকেজ নাম্বার,ব্লক কাস্টিং এর ক্রম সংখ্যা ও কাস্টিংয়ের তারিখ খোঁদাই করে লেখা থাকার দরুন প্রতিটি ব্লকের আলাদা পরিচয় তৈরি হয়। ফলে একটি ব্লকে একের অধিক গণনার ও গ্রহণ করার সুযোগ নেই এবং শত ভাগ সচ্ছতা নিশ্চিত হয়। তাছাড়া বাপাউবো’র টাস্কফোর্স কর্তৃক ডিজাইন ও স্প্যাসিফিকেশন অনুযায়ী গুণগত মান যাচাইয়ান্তে ব্লক গণনার মাধ্যমে ব্লকের সংখ্যা চুড়ান্তভাবে গৃহীত হয়। তিনি আরো বলেন- সিসি ব্লকের উপাদান সমূহ হচ্ছে ১.৫এফএম এর সিলেট সেন্ট,সিমেন্ট ও ৪০এমএম থেকে ৫এমএম সাইজের স্টোন চিপ্স। ৩ধরণের ব্লকের মধ্যে ৩০*৩০*৩০ঘন সেঃ মিঃ,৪০৪০৪০ঘন সেঃ মিঃ আকারের ব্লকগুলো ডিজাইন ও স্প্যাসিফিকেশন অনুযায়ী নদীতে ডাম্পিং করা হয়। আর ৪০*৪০*২০ঘন সেঃ মিঃ সাইজের ব্লকগুলো নদীর পাড় বাধাঁই করার জন্য অর্থাৎ ব্লক প্লেসিং এর কাজে ব্যবহৃত হবে যা পানির উপর দৃশ্যমান থাকবে।
এনিয়ে মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এর সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো; কামাল হোসেন বলেন- মৌলভীবাজারে এতো বড় প্রকল্পের কাজ কোন সরকার করেনি। বর্তমান সরকার মৌলভীবাজারবাসীর দু:খ লাগবো করার জন্য এই বিশাল বরাদ্ধ দেয়ায় ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে প্রকল্পের কাজের মানে কোন ক্রটি যাতে না হয় সেদিকে সু নজর রাখতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী রাখবো।
এনিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাহিদ আহসান এর সাথে আলাপকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, একটি টিম ইতিমধ্যে ভুমি অদিগ্রহনের কাজ যাছাই বাচাই সম্পন্ন করেছে। এখন শুধু ভুমি অধিগ্রহনের মালিকদের জন্য ১শত ৬৭কোটি প্রায় আমাদের কাছে আসার অপেক্ষায়। বরাদ্ধ আসলে দ্রুত গ্র“তিতে ভুমি মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারের বিশাল এ বাজেটে জেলার মানুষ সুফল পাবে।
পাউবো মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রকল্পের আওতায় সর্বমোট ৭২টি প্যাকেজ রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নদীর তীরে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ, চর কাটিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধেঁর পুনরাকৃতিকরণ ও ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। টাস্কফোর্স কর্তৃক ডিজাইন ও স্প্যাসিফিকেশন অনুযায়ী গুণগত মান নিরীক্ষান্তে প্রকল্পে ব্যাবহৃত ব্লক ও জিও-ব্যাগ গণনা করা হয় ও চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়। এই সময় ত্রুটি-বিচ্যুতিপূর্ণ জিও-ব্যাগ বা ব্লক সমূহ টাস্কফোর্স কর্তৃক বাতিল করা হয়ে থাকে। তাছাড়া, টাস্কফোর্স কর্তৃক গণনার জন্য কাউন্টিং শিট পাঠানোর পূর্বেই মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কর্তৃক তদারকি করার সময় ত্রুটিপূর্ণ জিও-ব্যাগ সমূহ (ছেড়া-ফাটা-আগুনে পুড়া) রং লাগিয়ে বাতিল এবং পুনরায় কাজে ব্যাবহার করার সুযোগ থাকেনা। গণনাকৃত জিও-ব্যাগ বা ব্লক হতে টাস্কফোর্স কর্তৃক দৈবক্রমে জিও-ব্যাগের সেম্পল ও নমুনা ব্লক বাছাই করে বুয়টের ল্যাবে টেস্ট করা হয়। টেস্টের স্প্যাসিফিকেশন অনুযায়ী মান না পাওয়া গেলে টাস্কফোর্সের গাইডলাইন অনুযায়ী ব্লক বা জিও-ব্যাগের সংখ্যা বাতিল করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন ধাপে প্রকল্পে ব্যাবহৃত জিও-ব্যাগ ও ব্লকের ডিজাইন ও স্প্যাসিফিকেশন অনুযায়ী গুণগত ও পরিমানগত মান যাচাই করায় কাজের মান ও স্বচ্ছতা শত ভাগ নিশ্চিত হয়ে থাকে। ব্লক গণনার পর টাস্কর্ফোর্স দু-একটি ব্লক ঢাকার ল্যাবে নিয়ে যায়। এতে মান ভালো নয় এমনটা ধরা পড়লে ঠিকাদারের হিসেব থেকে টাকা কেটে নেয়া হয়। তাছাড়া লাল কালি যুক্ত ব্লক সরিয়ে ফেলা হয়।
মনু নদী ভাঙ্গন রোধে সরকারের বিশাল এ বাজেট সুষ্টু ও সটিকভাবে তদারকির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ অঞ্চলের মানুষের প্রানের দাবী।
উল্যেখ্য যে, সরকারের দেয়া বড় অংকের উন্নয়ন প্রকল্পের নাম: মনু নদীর ভাঙ্গন হতে মৌলভীবাজার জেলা সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলা রক্ষা প্রকল্প। প্রকল্পের ব্যায় ৯৯৬২৮.৩০লক্ষ টাকা। বাস্তবায়ন কাল: জুলাই ২০২০ হতে জুন ২০২৩ইং। প্রকল্পের উদ্যেশ্য ও লক্ষমাত্রা (সুবিধাভোগীসহ):
৮৫.৯১০কি: মি: বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধঁ পুর্নবাসনের মাধ্যমে প্রায় ১.০০,০০০হেক্টর ফসলী জমি বন্যার কবল হতে রক্ষা করা,৬৬৭৪২৫.০০লক্ষ টাকা মুল্যমানের স্থাবর সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা/নদী ভাঙ্গনের ঝুকিমুক্ত করা।
মৌলভীবাজার শহরসহ সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলা এলাকা সম্পুর্নভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রন করা। প্রকল্প বাস্তবায়ন পরবর্তীতে অত্র অঞ্চলের প্রায় ১.৫০লক্ষ জনগন সরাসরি নদী ভাঙ্গনের ঝুকিমুক্ত করা এবং ৪.৫০লক্ষ জনগন বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার কারনে উধুর্ত বন্যা পরিস্থিও কবল হতে রক্ণা করা। প্রকল্পটির আওতায় ১২.১১০কি:মি: চর অপসারন কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী নদী তীরবর্তী উচু জমি, ডোবা, পরিত্যক্ত পুকুর ইত্যাদি ভরাটের মাধমৈ ভুমির উন্নয়ন করা।
প্রকল্প এলাকা: মৌলভীবাজার জেলা সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলা। প্রকল্পের ভেীত ভাজ সমুহ: স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষামুলক কাজ ৩০.২৪০কি:মি: ৬৭টি স্থানে, মৌলভীবাজার সদর,রাজনগর ও কুলাউড়া। নতুন ফ্লাড ওয়াল নির্মান ২.৫০কি:মি: ১টি স্থানে সদর। পুরাতন ফ্লাড ওয়াল পুর্নবাসন ০.৭৬৬কি:কি: ১টি স্থানে সদর। মনু বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ পুর্নবাসন ৮৫.৯১০কি:মি: ১৬টি স্থানে সদর, রাজনগর, কুলাউড়া। চর অপসারন ১২.১১কি:মি ২৯টি স্থানে সদর, রাজনগর, কুলাউড়া।
জমি অধিগ্রহনের অগ্রগতি: মৌলভীবাজার সদর জমি অধিগ্রহনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫.০৩-২০২১,জরিপ কাজের শুরুও তারিখ: ০১-১২-২০২০,জরীপ সম্পন্ন হওয়ার তারিখ ৩০-০৯-২০২১, জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার প্রস্তাবনা দাখিরে তারিখ ২৮-১০-২০২১,অগ্রগতি মাঠ পর্যায়ে যৌখ তদন্তেও কাজ সমাপ্ত ও প্রস্তাবনা ভুমি মন্নালয় প্রেরন।
রাজনগর উপজেলায় জমি অধিগ্রহনের লক্ষ্যমাত্রা ৭১.০৫৩০, জরিপ কাজের শুরুও তারিখ: ০১-১২-২০২০, জরীপ সম্পন্ন হওয়ার তারিখ ১০-০৩-২০২১, জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার প্রস্তাবনা দাখিওে তারিখ ০৯-০৩-২০২১, অগ্রগতি মাঠ পর্যায়ে যৌখ তদন্তেও কাজ সমাপ্ত, প্রস্তাবনা ভুমি মন্নালয় প্রেরন।
কুলাউড়া উপজেলা জমি অধিগ্রহনের লক্ষ্যমাত্রা ৮৫.৩৭০০, জরিপ কাজের শুরুও তারিখ: ০১-১১-২০২১, জরীপ সম্পন্ন হওয়ার তারিখ ৩০-০৯-২০২১, জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার প্রস্তাবনা দাখিরে তারিখ ১-০৩-২০২২,অগ্রগতি মাঠ পর্যায়ে যৌখ তদন্তে কাজ চলমান। কমপেমেনট অনুযায়ী অগ্রগতি: বর্ননা ১৭৫কেজি জিও ব্যাগ লক্ষমাত্রা ১১,২৫,১২৭ টি, পরিমান ৫,২৪,৫৮১টি,শদতরা ৪৬.৬২৫। সি,সি ব্লক (মেট) ৭৫,৬৫,০৭৭টি, পরিমান ৭, ০৩৯, ৩৬১টি, শতকরা-৯.৭৩%,রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে কাচামালের দুষ্পাপ্যতা।বাঁধের মাঠির পরিমান লক্ষমাত্রা ২৩.৯২,৯৭৫ ঘনমিটার, ০.০০%। চর অপসারনে মাঠির পরিমান ৭,৭৫,৯৪৬ ঘনমিটার ০.০০%।
মাঠপর্যায়ে মোবিলাইজেশন রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে চলমান থাকায় কাজ শরু করা সম্বব হচ্ছেনা।
অর্থছাড়ের তথ্যাধি: অর্থ বছর ২০২০-২১, জিপিপি অনুযায়ী অর্থছাড়ের টার্গেট ছিল ৩৫৯.১৩কোটি টাকা, অর্থছাড় ৩.০০ কোটি টাকা, ব্যয় ২,৯৯কোটি টাকা। অর্থ বছর ২০২০-২২,জিপিপি অনুযায়ী অর্থছাড়ের টার্গেট ছিল ৪০৭.৭৮কোটি টাকা,অর্থছাড় ৫৮.৯৮কোটি টাকা, ব্যয় ৪৪,৭৮কোটি টাকা। অর্থ বছর ২০২২-২৩,জিপিপি অনুযায়ী অর্থছাড়ের টার্গেট ছিল ২২৯,৩৭কোটি টাকা, অর্থ ছাড় হয়নি।
মোট:- ৯৯৬.২৮কোটি টাকা,অর্থ ছাড় ৫৭.৯৮কোটি টাকা,ব্যয় ৫৭.৭৭ কোটি টাকা।
জিও ব্যাগের কাজ বাস্তবায়নের ধাপসমূহ: ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী জিও ব্যাগ বালু ভর্তি পূর্বক সেলাই করে স্টেক প্রদান। সংশ্লিষ্ট শাখা কর্মকর্তা ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কর্তৃক জিও ব্যাগের ওজন, জিও ব্যাগের ভেতরে বালু ও জিও ব্যাগের সেলাই চেক করা ও স্টেক গণনা করা ।
নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতিনিধি কর্তৃক জিও ব্যাগের ওজন, জিও ব্যাগের ভেতরে বালু ও জিও ব্যাগের সেলাই চেক করা ও স্টেক গণনা করা। প্রকল্প পরিচালক/ তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী/তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর প্রতিনিধি কর্তৃক জিও ব্যাগের ওজন, জিও ব্যাগের ভেতর বালু ও জিও ব্যাগের সেলাই চেক করা ও ষ্টক গণনা করা।
প্রধান প্রকৌশলী /প্রধান প্রকৌশলীর প্রতিনিধি কর্তৃক জিও ব্যাগের ওজন, জিও ব্যাগের ভেতরে বালু ও জিও ব্যাগের সেলাই চেক করা ও স্টেক গণনা করা। প্রত্যেক গণনার ধাপেই তৎক্ষণিক ছেড়া, আগুনের ফুলকির কারণে পোঁড়া ও ত্রুটিপূর্ণ সেলাই যুক্তসহ বিভিন্ন ভৌত কারণে রং দিয়ে জিও ব্যাগ বাতিল করা হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার উক্ত রং দেওয়া বাতিলকৃত জিও ব্যাগ সমূহ কার্যসাইট হতে সরিয়ে নিজ দায়িত্বে সংরক্ষন করে। কিন্তু ইহা কোন অবস্থাতেই প্রকল্প কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অতপর গৃহীত জিও ব্যাগের তালিকা সহ নিবার্হী প্রকৌশলী, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং প্রধান প্রকৌশলী কর্তৃক স্বাক্ষরিত গণনা প্রতিবেদন টাক্সফোর্সে প্রেরণ করা ।
টাস্ক ফোর্স সদস্য কর্তৃক জিও ব্যাগের ওজন, জিও ব্যাগের ভেতরে বালু ও জিও ব্যাগের সেলাই চেক করা ও স্টেক গণনা করা এবং পরীক্ষার জন্য সংগ্রহকৃত জিও ব্যাগের কর্তনকৃত অংশ পরীক্ষাগার প্রেরণ। পরীক্ষার রেজাল্ট প্রাপ্তির পর গৃহীত জিও ব্যাগসমূহ ঠিকাদারী প্রতিষ্টার কর্তৃক সংশ্লিষ্ট শাখা কর্মকর্তা ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ডাম্পিং করা।
সিসি ব্লকের কাজ বাস্তবায়নের ধাপসমূহ: ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী বালু , পাথর ও সিমেন্ট সংগ্রহ করা । কাষ্টিং এর পূর্বেই সংশ্লিষ্ট শাখা কর্মকর্তা ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কর্তৃক উক্ত বালু, পাথর ও সিমেন্ট এর বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন নিশ্চিত করা।
ঠিকাদারী প্রতিষ্টান কর্তৃক ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সিসি ব্লক কাষ্টিং, কিউরিং ও ষ্টেক প্রদান ।
সংশ্লিষ্ট শাখা কর্মকর্তা ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর প্রতিনিধি কর্তৃক সিসি ব্লকের প্যাকেজ নং , কাষ্টিং ডেট, কাস্টিং ক্রমিক নং, ডাইমেনশন ইত্যাদি চেক করা এবং ষ্টেক গণনা করা। নিবার্হী প্রকৌশলী/নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতিনিধি কর্তৃক সিসি ব্লকের প্যাকেজ নং, কাষ্টিং ডেট , কাষ্টিং ক্রমিক নং, ডাইমেনশন ইত্যাদি চেক করা এবং ষ্টেক গণনা করা। প্রকল্প পরিচালক/তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী/তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর প্রতিনিধি কর্তৃক সিসি ব্লকের প্যাকেজ নং, কাষ্টিং ডেট, কাষ্টিং ক্রমিক নং, ডাইমেনশন ইত্যাদি চেক করা এবং ষ্টেক গণনা করা।
প্রধান প্রকৌশলী/ প্রধান প্রকৌশলীর প্রতিনিধি কর্তৃক সিসি ব্লকের প্যাকেজ নং, কাষ্টিং ডেট , কাষ্টিং ক্রমিক নং, ডাইমেনশন ইত্যাদি চেক করা এবং ষ্টেক গণনা করা। টাস্কফোর্স সদস্য কর্তৃক সিসি ব্লকের প্যাকেজ নং,কাষ্টিং ডেট কাষ্টিং ক্রমিক নং,ডাইমেনশন ইত্যাদি চেক করা এবং ষ্টেক গণনা করা এবং সিসি ব্লকের পরীক্ষার জন্য দৈবচয়নে নির্বাচনকৃত সিসি ব্লক পরীক্ষাগারে প্রেরণ ।
প্রত্যেক গণনার ধাপেই তৎক্ষণিক প্যাকেজ নং,কাষ্টিং ডেট,কাষ্টিং ক্রমিক নং এর ত্রুটিপূর্ন লেখা যুক্ত এবং ত্রুটিপূর্ণ ডাইমেনশন যুক্ত সহ বিভিন্ন ভৌত কারণে সিসি ব্লক বাতিল করা হয়ে থাকে।
পরীক্ষার রেজাল্ট প্রাপ্তির পর গৃহীত সিসি ব্লক সমূহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠার কর্তৃক সংশ্লিষ্ঠ শাখা কর্মকর্তা ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ডাম্পিং এবং প্লেসিং করা।
উল্লেখ্য যে, ১৭৫ কেজি বালিভর্তি রং দেওয়া জিও ব্যাগ সমূহ নদীর তীর থেকে গড়ে ১৮-২২ফুট দূরে ডাম্পিং জোনে অনুমোদিত ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ডাম্পিং করা হয়ে থাকে ।
১২। ক্রম পুঞ্জিত অগ্রগতি: (ক) মাঠ পর্যায়ে ভৌত কাজের অগ্রগতি (জমি অধিগ্রহণ সহ)–২৭.২২%, (খ) আর্থিক–৫৭৭৭.৬৬ লক্ষ টাকা (৫.৮০%)।

