কুলাউড়ায় বিষপানে তরুণীর আত্মহত্যা

কুলাউড়া প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বিষপান করে জেসি আক্তার (১৮) নামে এক তরুণী আত্মহত্যা করেছে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে তার মরদেহ উদ্ধার করে কুলাউড়া থানায় নিয়ে এসেছে পুলিশ। সে উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের দেওগাঁও গ্রামের এডভোকেট মন্টু মিয়ার মেয়ে।

আজ ১0 মে বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে নিজ ঘরে সে বিষপান করে। চেঁচামেচি শুনে জেসি আক্তার এর মা দৌড়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, দুপুরে জেসি আক্তার এর মা ধান দিতে বাড়ির ওঠানে যান। এসময় ঘরে ঢুকে দেখতে পান তার মেয়ে ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে আছে। এসময় পাশে বিষের বোতল দেখে বুঝতে পারেন মেয়ে বিষপান করেছে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এলে প্রথমে কুলাউড়া হাসপাতাল পরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জেসি আক্তার এর মৃত্যু রহস্যজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি রহস্যজনক। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জেসি আক্তারের এক নিকটাত্মীয় জানান, জেসি আক্তারের সাথে এনামুল ইসলাম নামে এক যুবকের প্রায় ৩ বছর থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। চলতি বছরের মার্চ মাসে এনামুল তার মা বাবাকে জেসিকার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে পাঠায়। কিন্তু জেসিকার বাবা একজন এডভোকেট ও আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা ও তার ভাই ছাত্রলীগের নেতা হবার সুবাধে এনামুলের মা বাবাকে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে অপমান করে বিদেয় করে দেন। জেসিকার বাবা এপ্রিল মাসের শুরতে আমেরিকান এক ছেলের সাথে জেসিকার বিয়ে ঠিক করলে এনামুল জেসিকাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। মেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় জেমিকার বাবা লোকজন নিয়ে এনামুলের বাড়ীতে গিয়ে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর করে থানায় এনামুলের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এনামুলকে প্রাণে মারার হুমকি দিলে ভয়ে এনামুল জেসিকাকে তার বাবার বাড়ীতে ফেরত পাঠায়। এরপর গত ৮ এপ্রিল রাত ১২টার দিকে জেসিকার ভাই ছাত্রলীগ নেতা কামরুল এনামুলকে বাজার থেকে একা বাড়ী আসার পথে ব্যাপক মারধর করে। এনামুলের আর্তচিৎকারে লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

মে মাসের ৩ তারিখ জেসিকার বাবা পুণরায় এক শিল্পপতির ছেলের সাথে জেসিকার বিয়ে ঠিক করলে এনামুল ঐ ছেলের মোবাইল নাম্বার যোগাড় করে তার হোয়াটসআপে এনামুল ও জেসিকার ঘনিষ্ট মুহুর্তের বেশ কিছু ছবি পাঠালে ওই বিয়েও ভেঙ্গে যায়। কিন্তু তাদের ওই ছবিগুলো এলাকায় ভাইরাল হয়ে গেলে জেসিকার বাবা ও ভাই এনামুলকে প্রাণে মারার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকলে এনামুল ভয়ে এলাকাছাড়া হয়। জেসিকা এতে মানষিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে বিষপান করে আত্মহত্যা করে।

জেসিকার বাবা বাদী হয়ে এনামুলের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় সাইবার ক্রাইমে মামলা দায়ের করেন।

কুলাউড়া থারনার অফিসার ইনচার্জ মো: আব্দুছ ছালেক মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামী এনামুলকে গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *