বিভেদ ভুলে কাপে চোখ মেয়েদের

একটি জয় বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ দলের চেহারা। গতকাল টিম হোটেলে মেয়েদের বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেল। কিন্তু ভারত ম্যাচের আগেও দলের ভেতরকার অবস্থা ছিল গুমট। তবে এসব নিয়ে আর ভাবছেন না মেয়েরা।
যা হওয়ার হয়ে গেছে। সব বিভেদ ভুলে এখন শিরোপায় চোখ রাখছেন সাবিনা-তহুরারা।

ভারত সিনিয়র খেলোয়াড়দের পছন্দ করেন না কোচ—এমন অভিযোগের পর পিটার বাটলারও খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এতে দলের মধ্যে অন্তঃকোন্দল তৈরি হয়।
দলের সিনিয়র ও জুনিয়র খেলোয়াড়রা দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে—এমন কথাও শোনা গেছে; যেটা সত্যি বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে! অধিনায়ক সাবিনা খাতুন অবশ্য এসব উড়িয়ে দিয়েছেন। দলে কোনো বিভাজন নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি, ‘সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব, যেটা মিডিয়া থেকে জানতে পেরেছি। এটা অদ্ভুত ব্যাপার। এটা আসলে মিডিয়া থেকে প্রকাশ্যে আসা উচিত ছিল না।

সিন্ডিকেটের কথাটা এসেছে, এ ছাড়া জুনিয়রদের নাকি চাপে রাখা হয়। ক্যাম্প থেকে সিনিয়ররা যখন বাসায় যায়, তখন জুনিয়রদের জন্য খাবার নিয়ে আসে। এখন এটা যদি সিন্ডিকেট হয় তাহলে সিন্ডিকেট।’

টুর্নামেন্ট চলার সময়ে এমন নেতিবাচক সমালোচনা মাঠের খেলায় বাজে প্রভাব ফেলতে পারে, তা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ভারত ম্যাচে মেয়েরা যে ঐক্যের গান গেয়েছেন তা সত্যি প্রশংসা কুড়িয়েছে।

একাদশে পরিবর্তন আসায়ই আরো গোছাল ফুটবল খেলতে পেরেছেন জানিয়েছেন সাবিনা, ‘আগের সাফের একটা অভিজ্ঞতা ছিল আমাদের যে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন হয়। সেই জায়গা থেকে আমাদের মনে হয়েছিল, পাকিস্তানের বিপক্ষে যে দল নিয়ে খেলেছিলাম যদি সেখানে দু-তিনটা পরিবর্তন আসে তাহলে দল আরো গোছাল খেলতে পারবে। সেটাই কিন্তু হয়েছে।’ নেতিবাচক হোক কিংবা ইতিবাচক; এমন তর্ক-বিতর্ক তাদের চ্যালেঞ্জ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন সাবিনা, ‘তর্কবিতর্ক থাকবেই। এটা থাকলে চ্যালেঞ্জ নেওয়া যায়, আরো ভালো করা যায়। আমি এটাকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছি। আমাদের কোথাও না কোথাও কমতি আছে বলেই বিতর্ক হচ্ছে। ওই জায়গা থেকে নিজেদের আরো ভালো করার চ্যালেঞ্জ থাকছে। সেই চ্যালেঞ্জই এখন জিততে চাই আমরা।’

ভারত ম্যাচের আগে স্কোয়াডের অন্য ২২ জনকে সাবেক কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের পাঠানো একটি বার্তা শেয়ার করেন সাবিনা। এ নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, “ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করি প্রতিটি ম্যাচের আগে ছোটন স্যারের সঙ্গে কথা বলার। কারণ ১৪ বছরের সম্পর্ক উনার সঙ্গে। তিনি আমাকে একটা কথাই বলেছিলেন, ‘তোমরা যদি হারো, জেতো কিংবা ড্র করো তবু তোমরা সেমিফাইনালে খেলবে। শিরোপা জিততে জানপ্রাণ দিয়ে খেলো।’ বিতর্ক চলছিল, তাই অন্যদের বলিনি যে এই কথা স্যার বলেছেন। আমি আমার দিক থেকে বার্তাটা দিয়েছি।’

২৭ অক্টোবর সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান। ‘বি’ গ্রুপে গোল ব্যবধানে নেপালের পেছনে থেকে রানার্সআপ হয়েছে তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *