নজরুল ইসলাম খান : প্রাণী জগতের প্রত্যেককে একদিন মৃত্যূর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে, এটাই চিরন্তন সত্য। কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু মাটি পর্যন্ত কাঁপায়। কিছু মৃত্যূর সংবাদ খুব পীড়া দেয়, স্তদ্ধ করে দেয় নিজেকে। একে একে প্রিয় মানুষগুলো অকালে হারিয়ে হাচ্ছে চিরতরে। কাদিপুরের সুমন, বরমচালের সবুজ, ব্রাহ্মণবাজারের রিয়াদের মৃত্যুর ক্ষতস্থানটা শুকোতে না শুকোতে আমার প্রিয় শহর কুলাউড়ার প্রিয় মুখ, অত্যন্ত স্বজ্জন হাসোজ্বল সততার প্রতীক সাংবাদিক শাকিরের মৃত্যু আমাকে স্তদ্ধ করে দিয়েছে। শাকির খুব সহজে যে কাউকে আপন করে নিতে পারতো তার মেধা আর ব্যবহারের মাধ্যমে। খুব অল্প সময়ে কুলাউড়ার সর্বমহলের মন জয় করে নিয়েছিল। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্স্কৃতিক অঙ্গনে ছিল তার সরব পদচারনা, প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য, সাংবাদিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্ব অত্যন্ত সুচারুভাবে আমৃত্যু সে পালন করে গেছে অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সাথে। প্রায় ২১ বছর আগে আমি যে শহর ছেড়ে হাজার মাইল দূরে ব্যস্ত শহর লন্ডনে বসবাস শুরু করি কিন্ত যে দেশে কয়জন প্রিয় মানুষের প্রতি আস্তা বিশ্বাস এবং যোগাযোগ ছিল আমার তার মধ্যে শাকির ছিল অন্যতম। আমার মৃত্যুর পর লাশটি যদি স্বদেশে যায় তাহলে যে কয়জন প্রিয় মানুষ আমার লাশটি কাধে করে অশ্রু মাখা চোখের জল ফেলে লাশটি দাফন করবে বলে দৃড় বিশ্বাস ছিল তারা একে একে আমাদের ছেড়ে বিধাতার ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যাচ্ছেন। শাকির ভাই জানিনা তুমি কেমন আছো পরপারে, তবে আমার বিশ্বাস তুমি তোমার সৎ কর্মের মাধ্যমে যেভাবে প্রতিটি মানুষের স্নেহ ভালবাসা অর্জন করতে পেরেছো তাই সকলের দোয়ায় মহান সৃষ্টিকর্তা তোমাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করবেন। তোমার একমাত্র শিশু সন্তান গুঞ্জর খেলনা নিয়ে আসার অপেক্ষায় তোমার পথ চেয়ে হয়তো বসে থাকবে, তোমার স্ত্রী সোনিয়া রাতের খাবার টেবিলে সাজিয়ে হয়তো তোমার অপেক্ষায় বসে থাকবে, আজ তাদেরকে শান্তনা দেয়ার ভাষা আমি অনুবিক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাচ্ছিনা। শুধু মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে করজোড় করে মিনতি করি আপনি যেন তাদেরকে ধৈর্য ধরার শক্তি দান করেন। আমার ভাবতে কষ্ট হচ্ছে তুমি স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আজ স্মৃতির অ্যালবামে জায়গা করে নেবে তা কোনদিনই কল্পনাতেই ছিলোনা….
নজরুল ইসলাম খান, সম্পাদক ও প্রকাশক-স্বদেশ মেইল.কম
