ফলোআপ- কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক তিন বাংলাদেশি চোরাকারবারি: বিজিবি

কুলাউড়া প্রতিনিধি: কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর সীমান্তেÍ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক তিন বাংলাদেশি নাগরিক চোরাকারবারির সদস্য বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার দুপুরে বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শরীফপুর ইউনিয়নের হরিপুর সীমান্ত থেকে স্থানীয় সঞ্জরপুর গ্রামের বাসিন্দা আনু মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া (৩০), হরিপুর গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে মাসুক রহমান (২৬) ও তৈয়ব আলীর ছেলে সিপার আহমদ (২৫) নামে তিনজনকে আটক করে নিয়ে যায় বিএসএফ। তাদের স্বজনেরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় মাছ ধরার সময় চোরাকারবারি সন্দেহে বিএসএফ ওই তিনজনকে আটক করে। ওই সীমান্তে মনু নদ উভয় দেশের সীমানা ভাগ করে দিয়েছে। সীমান্তের ওপারে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য।
বিএসএফের হাতে আটক মাসুক রহমানের ভাই ময়নুল মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে মাছ শিকার করার সময় ১৫-২০ জন বিএসএফ এসে আমার ভাইসহ আরো দুইজনকে আটক করে নিয়ে যায়। আমরা বিষয়টি স্থানীয় বিজিবিকে জানিয়েছি, তারা বলছে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছে।
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের ২০ জনের একটি দল শরীফপুর বিওপির আওতাধীন সীমান্ত পিলার ১৮৫৯/এম সীমান্তের ১ হাজার ৮৫৯ নম্বর মূল খুঁটি দিয়ে ভারতের ২০০ গজ অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েন। সেখানে তাঁরা চোরাই মালামাল আনার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। একপর্যায়ে বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের স্থানীয় টিলাবাজার ক্যাম্পের টহলদল সেখানে অভিযান চালিয়ে সোহাগ মিয়া, মাসুক রহমান ও সিপার আহমদকে আটক করে। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি) থেকে কমান্ড্যান্ট ১৯৯ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। পরে ওই ব্যক্তিদের গত ১৮ জুলাই ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উনোকুটি জেলার ইরানি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে ইরানী থানায় মামলা হয়েছে। এদিকে আটক তিন বাংলাদেশীকে ইরানী থানা পুলিশ আদালতে প্রেরণ করেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের (শ্রীমঙ্গল) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, তিন বাংলাদেশিকে বিএসএফের ধরে নেওয়ার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি। বিভিন্ন সূত্রে খবর পেয়ে বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কুলাউড়া সীমান্তে মাছ ধরতে গিয়েছিলো ৩ যুবক, ধরে নিয়ে গেলো বিএসএফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *