কুলাউড়ায় দূর্গোৎসব উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা

জেলা প্রতিনিধিমৌলভীবাজার:

কুলাউড়ায় আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ সভার আয়োজন করে কুলাউড়া থানা পুলিশ। কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমল হোসেন ও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মাতুব্বরের যৌথ সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন কঠোর নজরদারিতে থাকবে। পূজার সময়কালীন প্রত্যেক মন্ডপে পুলিশি টহল ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। দুর্গাপূজাকে ঘিরে কোনো গুজব বা অপপ্রচার ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করতে হবে। গুজব রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি আরও জানান, পূজাম-পের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার ও পুলিশের সমন্বিত টহল থাকবে। এবারের দুর্গোৎসবে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যারা এ উৎসবকে ভন্ডুল করার চেষ্টা করবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, যেভাবে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে, ঠিক তেমনি আগামী জাতীয় নির্বাচনও জনগণের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করা হবে। এসময় তিনি ভক্ত ও দর্শনার্থীদের প্রতি শালীন আচরণ ও সহযোগিতার আহবান জানান। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাস খান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক রেদওয়ান খান, উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মুন্তাজিম, নায়েবে আমির মো. জাকির হোসেন, কুলাউড়া প্রেসক্লাব সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আখই, প্রেসক্লাব কুলাউড়ার সভাপতি আজিজুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক মোক্তাদির হোসেন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল বারী সোহেল, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নির্মাল্য মিত্র সুমন, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক বিধান চন্দ দে, সদস্য সচিব গৌরাঙ্গ দে, সদস্য শিউলি বৈদ্য, প্রদীপ কান্ত দত্ত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি জুলাই যোদ্ধা নাহিদুর রহমান ও রায়হান আহমদ, এনসিপি নেতা লিংকন তালুকদার ও আব্দুস সামাদ প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় উপজেলার ২১৫ পূজামন্ডপের সভাপতি-সম্পাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা পূজা মন্ডপের নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, আলোকসজ্জা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

কমলগঞ্জের মাধবপুর লেক পর্যটকদের কাছে টানছে

পিন্টু দেবনাথ,  মৌলভীবাজার :

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুররে অবস্থিত ‘মাধবপুর লেক’ দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্থান। ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) মাধবপুর চা বাগানের ১১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত এই লেক। চা বাগানের শ্রমিকরা এটিকে ‘ড্যাম’ বলে অভিহিত করেন। সময়ের পরিক্রমায় এটি বৃহৎ ও আকর্ষণীয় ড্যামে পরিণত হয়েছে।

মাথা উপর নীল আকাশ, চির তরুণ সবুজ পাহাড়, আঁকাবাঁকা ছবির মতো রাস্তা, যেন শিল্পীর রং তুলিতে আঁকা মনোরম চা বাগানের দৃশ্যে পর্যটকরা মনের আনন্দে চারিদিকে ঘুরে বেড়ান।

চারিদিকে সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত লেকটি তার অপূর্ব মায়া ছড়িয়ে বসে আছে আনমনে। লেকের টলটলে পানি, ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ, শাপলা শালুকের উপস্থিতি পরিবেশটাকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে।

লেকের পাশাপাশি উঁচু উঁচু টিলা। সমতল চা বাগানে গাছের সারি। পাহাড়ি পাখির গান আর নৃত্য ছাড়াও দেখা যায় নানান প্রজাতির বন্যপ্রাণী। মাধবপুর লেক যেন প্রকৃতির নিজ হাতে অঙ্কিত মায়াবী নৈসর্গিক দৃশ্য।

প্রতিদিনই অসংখ্য পর্যটক আসছেন মাধবপুর লেকে। শত শত বিনোদন প্রিয় পর্যটকদের পদভারে পুরো বছরই মুখরিত থাকে এই লেক। প্রায় ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে মাধবপুর লেকের আয়তন ৫০ একর।  নীলপদ্ম বা বেগুনি-শাপলা, রঙ-বেরঙের জলজ ফুল শোভা বাড়িয়েছে এই লেকের।

বিভিন্ন প্রজাতি পাখির কোলাহলসহ নানা জাতের জলজ পাখি লেকে ভেসে বেড়াতে দেখা যায়। এখানকার ঝলমল স্বচ্ছ পানি, ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ, শাপলা-শালুকের উপস্থিতি হৃদয়ে বাড়তি আনন্দের মাত্রা জানান দেয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত এই লেকে শীত মৌসুমে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটক ও শিক্ষার্থীসহ ভ্রমণপিপাসুদের ঢল নামতে শুরু করে।

লেকের মধ্যে ৩-৪ মণ ওজনের বড় বড় কচ্ছপ আর মাছ দেখলে বাড়তি আনন্দের মাত্রা যুক্ত হয়। সুদীর্ঘকাল ধরে এ লেকের নয়নাভিরাম অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করছে অগণিত মানুষ। লেকে প্রবেশপথটি শুধু পর্যটকদের জন্য পাকাকরণ ও আকর্ষণীয় করা হয়েছে। লেকটিকে পর্যটকদের হেঁটে দেখার সুবিধার্থে লেকের চারপাশে টিলার ওপর ওঠতে সিঁড়ি করে দেয়া হয়েছে।

লেকের পাড়ে পর্যটকরা হাতে বাদাম, ঝালমুড়ি অথবা খাওয়ার অন্য দ্রব্য নিয়ে মিষ্টি মিষ্টি কথা, ভালোবাসার গভীরতা প্রকাশ করতে লেকটি দারুণভাবে সহায়তা করে।

দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে আসা যায় কমলগঞ্জের মাধবপুর লেকে। যাতায়াত ব্যবস্থার ভালো সুবিধা রয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনা থেকে লেকটির দূরত্ব প্রায় ৬ কি.মি। বাস, ট্রেন কিংবা নিজস্ব গাড়ি নিয়ে আসতে পারেন এই লেকে।

তাই একটু সময় পেলে প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে ঘুরে আসতে পারেন ‘মাধবপুর লেক’। আপনাকে দিবে বাড়তি আনন্দ,  যা মনে রাখার মতো।

সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন মাধবপুর লেক সৌন্দর্য বর্ধন করতে আই লাভ মাধবপুর লেক লিখে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *