জুড়ীতে হতদরিদ্র নারীর চাল হাতিয়ে নিলো প্রভাবশালীরা

জেলা প্রতিনিধিমৌলভীবাজার:

জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নে এক হতদরিদ্র নারীর ভিজিডি কার্ডের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ভুক্তভোগী রোববার অর্পনা রানী দাস নামের ওই নারী বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের অর্পনা রানী দাস দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় সরকারের ভিডব্লিউবি কর্মসূচির অধীনে কার্ড পান। গত ১০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় ইউপি সদস্য আজাদ মিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে কার্ডটি তুলে দেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ইউনিয়ন সচিব রঞ্জন রায় ও ওই ইউপি সদস্য জোরপূর্বক তার কাছ থেকে কার্ডটি নিয়ে নেন। পরে কার্ডে অর্পনার ছবি ছিঁড়ে অন্য এক স্বচ্ছল নারীর ছবি বসিয়ে নাম-পরিচয়সহ তথ্য পরিবর্তন করে ওই নারীর হাতে দুই মাসের ৬০ কেজি চাল তুলে দেন। ভুক্তভোগী অর্পনা রানী দাস অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি বারবার অনুরোধ করলেও ইউপি সচিব ও সদস্য খারাপ আচরণ করে তাকে তাড়িয়ে দেন। ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম রেজাকেও বিষয়টি জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। অর্পনা রানী দাস আরও জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কার্ড পেতে তিনি ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ৪৪০ টাকা জমা দিয়েছেন। অথচ তার প্রাপ্য চাল প্রতারণার মাধ্যমে অন্যকে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভিজিডি তালিকায় ভুক্তভোগী হিসেবে অর্পনা রানী দাসের নাম রয়েছে এবং তার ছবি কার্ডেও সংযুক্ত আছে। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. সুজাউদ্দৌলা বলেন, অর্পনা রানী দাস সরকারি তালিকাভুক্ত ভিজিডি কার্ডধারী। তার চাল অন্য কাউকে দেওয়ার কোনো ক্ষমতা কারও নেই।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আজাদ মিয়াকে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে সচিব রঞ্জন রায় বলেন, অর্পনা রানী নামে একাধিক মহিলা থাকায় ভুল হয়েছে। সংশোধন করে কার্ড বাতিল করা হবে।

ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম রেজা বলেন, এটা ভুল বুঝাবুঝি। দ্রুতই এর সমাধান হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবলু সূত্রধর বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *