বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম ভাই ভাই, আমাদের মধ্যে বিবেদ সৃষ্টি নয় সবাই মিলে মিশে বসবাস করতে চাই

চট্টগ্রামের হিন্দুদের তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ মন্দিরের পাশে জামে মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে একদল উগ্র ইসলামী মৌলবাদীরা। ধর্মের নামে বাংলাদেশে আবারও বিতর্কের সূত্রপাত করার চেষ্টা, যখন একজন ব্যবসায়ী উগ্র অনুসারী, এম এম সাইফুল ইসলাম, যিনি তার চরম সাম্প্রদায়িক মানসিকতার জন্য এলাকায় পরিচিত, তার ফেসবুক পোস্টে গত (১৭ আগস্ট) দেখলাম চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান চন্দ্রনাথের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আমাদের জানতে ইচ্ছে করে এই উগ্রবাদী পোস্ট দিতে কারা থাকে উৎসাহিত করছে। সৌহাদ্য সম্প্রতির এই দেশে আমাদের উভয় জাতির মধ্যে আমরা কোনো হানাহানি চাইনা।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে অবস্থিত বিভিন্ন মন্দিরকে উপমহাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা একটি পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচনা করে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে তীর্থযাত্রীরা নিয়মিত এই পাহাড় এবং এর মন্দিরগুলিতে দর্শন এবং পূজা করার জন্য আসেন। সীতাকুণ্ডের বাসিন্দারা এই পবিত্র তীর্থস্থানের প্রতি হিন্দু ভক্তদের বিশ্বাস, মূল্যবোধ, অনুভূতি এবং আবেগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শ্রদ্ধা পোষণ করেন। বছরের পর বছর ধরে, সীতাকুণ্ড উপজেলার মুসলিম, হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এমন কোনও কর্মকাণ্ডকে তারা কখনও সমর্থন করে না।

এম এম সাইফুল ইসলাম ওই এলাকা পরিদর্শন করার সময় হিন্দুদের চন্দ্রনাথ মন্দিরের এলাকায় নামাজ পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সেটা ভালো কথা কিন্তু সেখানে গিয়ে কেনো। নামাজ পড়ার জন্য তো মসজিদ রয়েছে। চট্টগ্রামের হাট হাজারীর একটি মাদ্রাসা থেকে তার প্রচেষ্টার জন্য সমর্থন পেলে বিষয়টি আরও তীব্র হয়।

দেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিতে প্রায় ৪ বছর আগেও এভাবে অনেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে গিয়ে হিন্দুদের তীর্থস্থানে আজান দেওয়ার চেষ্টা ও একটি মসজিদ নির্মাণের চেষ্টা করেছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সব জাতিদের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়ে যায়।

সনাতন ধর্মের অনুসারীদের জন্য চন্দ্রনাথ পাহাড় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। এটি সনাতন ধর্ম অনুসারীদের জন্য ৫১টি শক্তিপীঠের মধ্যে একটি। গত ৮০০ বছর ধরে, চন্দ্রনাথ পাহাড়ের শিব মন্দিরে নিয়মিত পূজা ও আচার-অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে। সনাতন ধর্ম অনুসারীদের ৫১টি শক্তিপীঠের মধ্যে, বাংলাদেশে মোট ৭টি শক্তিপীঠ রয়েছে।

প্রার্থনার জন্য অনেক স্থান রয়েছে; এই দেশে মসজিদ নির্মাণের জন্য অনেক জায়গা আছে। কেউ যদি নামাজ পড়তে চায়, তাহলে যেখানে ইচ্ছা সেখানে নামাজ পড়তে পারে। তবে, অন্য ধর্মালম্বীদের স্থানে কোনো। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে দেশে ধর্মকে ব্যবহার করে এই ধরনের কার্যকলাপ চালিয়ে হিন্দু মুসলিমদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করতে চায় তারা কখনো দেশের মঙ্গল চায় না। যারা এাঁ করার চেষ্টা করছে তারাই এই দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। আসুন বিবেদ নয় দেশকে ভালোবাসি দেশের মানুষকে ভালোবাসি হিন্দু মুসলিম আমরা সব এক জাতি একে অন্যের ভাই। যার যার ধর্ম পালন করি, কাউকে আঘাত দিয়ে নয়। সব জাতির সম্বনয়ে বাংলাদেশ হয়ে উঠুক বিশ্বের মানচিত্রে গর্বের দেশ।

লেখক, শাহ হারুনুর রশিদ, প্রবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *