দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আজ শ্রীমঙ্গলে

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের ওপর দিয়ে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। পাহাড়ি টিলা ও হাওরবেষ্টিত চায়ের রাজধানী খ্যাত এ জনপদের বাসিন্দারা এখন ঠান্ডায় কাবু। ৮ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে শ্রীমঙ্গলে। এদিন সকালে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া সহকারী ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার আনিসুর রহমান। কনকনে শীতের সঙ্গে জেলাজুড়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এর আগে বুধবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে গেল কদিন মধ্যরাত থেকে ঘন কুয়াশা, কনকনে ঠান্ডা বাতাস আর দুপুর অবধি সূর্যের দেখা না মিলায় শীতের তীব্রতা বেড়ে চলেছে। বয়ে চলা তীব্র ঠান্ডা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষিজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ। বিশেষ করে হাওর এলাকার বোরো চাষি ও চা শ্রমিকেরা। ঠান্ডা থেকে পরিত্রাণ পেতে অনেকেই খড়কুটা জ্বালিয়ে তাপ নিচ্ছেন। শীতে গৃহপালিত পশুগুলোও চরম দুর্ভোগ পড়েছে। হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমতে থাকায় সকাল থেকে কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চা শ্রমিকসহ শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে।

এদিকে দুপুর অবধি ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে সড়ক-মহাসড়ক, চা বাগান ও পাহাড়ি জনপদ। দূরপাল্লার গাড়িগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলছে। শীতজনিত রোগবালাইও বেড়ে চলেছে। স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগবালাইয়ে আক্রান্ত রোগীদের। তীব্র শীত পড়ায় মৌলভীবাজার শহর ও বিভিন্ন উপজেলার রাস্তা-ঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। সকালে ব্যবসায়ীরা দোকানপাটও খুলছেন দেরিতে। আবার রাত ১০ টার পর শহরে লোকজনের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। একইসাথে যানবাহনের পরিমাণও কমছে। রাত ১১টা পর ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে পুরো শহর। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকানপাট। গ্রামাঞ্চলে রাত ৮টার পর আর লোকজন বাইরে থাকছে না। রাত ১০টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সব ধরনের দোকানপাট। আবার পরের দিন বেলা ১০টার আগে দোকানপাট খুলছেন না ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, তীব্র শীতের কারণে শহরে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে বেড়েছে ভিড়। অভিজাত মার্কেট থেকে শুরু করে রাস্তার ফুটপাতেও গরম কাপড়ের দোকানে লোকসমাগম দেখা যাচ্ছে।

শীত বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের। প্রতিদিন শহরের চৌমুহনীতে শ্রমিক শ্রেণির সাধারণ মানুষদের কাজের সন্ধানে বসে থাকতে দেখা যায়। দুপুর পর্যন্ত বসে থেকেও কাজের সন্ধান পাননি তারা। আবার শীতের কারণে অনেকেই বাড়ি থেকে বের হননি। যারা বের হয়েছেন তাদেরও আসতে দেরি হয়েছে। যার কারণে কাজের সন্ধানে শহরের বিভিন্ন মোড়ে বসে থাকা শ্রমিকদের সংখ্যা অনেক কমেছে।

কাজের সন্ধানে শমসেরনগর রোডে বসে থাকা শাহেদ মিয়া বলেন, শীত বাড়ার কারণে সকালে এইখানে আসতে দেরি হয়েছে। যার কারণে আজ আর কাজ পাননি তিনি। সঙ্গে থাকা সুজন মিয়া বলেন, তীব্র শীত পড়লে তাদের অনেক কষ্টে দিন পার করতে হয়। একদিকে থাকে কাজ না পাওয়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে শীতের মধ্যে কাজ করা নিয়েও দুশ্চিন্তা।

কাজ না করলে পরিবার পরিজন নিয়ে চলা মুশকিল হয়ে যায় বলে তারা সকাল সকাল এখানে এসে বসে থাকেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শ্রমিকরা শীতের কারণে বেশি বেকার হয়ে পড়েছেন। দিনের বেশিরভাগ সময় কুয়াশা থাকছে। সেই সঙ্গে শীতের তীব্রতা  গ্রামেও বেশি। এতে গ্রামের শ্রমিকরা কাজে যেতে পারছেন না। যারা কাজ করছেন তাদের শীতের কারণে কষ্ট বেড়েছে।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, শীতার্থ মানুষের জন্য জেলায় এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮৯৭টি সরকার থেকে পাওয়া গেছে। উপজেলা থেকে সকল কম্বল ইউনিয়নওয়ারি বিভাজন করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর উপবরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তৎমধ্যে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৯হাজার ৯৮৭ টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। মজুদ রয়েছে ৭০০ টি কম্বল। বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মৌলভীবাজারে শীতের তীব্রতা বাড়ছে -সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *