শেরপুরে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা অনুষ্ঠিত

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে ৩ দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা মৌলভীবাজার জেলার শেরপুর এলাকায় কুশিয়ারা নদীর পাড়ে শুরু হয়েছে। অধীর অপেক্ষায় থাকেন বছর ঘুরে কখন এ মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় দুইশত বছরের অধিক সময় থেকে চলে আসা মেলায় হাওর ও নদীতে স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠা দেশীয় প্রজাতির টাটকা মাছ কিনতে দূর দুরান্ত থেকে আসেন ক্রেতারা।

কয়েক জেলার মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন বছর ঘুরে কখন মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হবে। তাই আগে থেকে প্রস্তুত থাকেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। মৌলভীবাজার, সিলেট ও হবিগঞ্জের সীমানা ঘেষে জেলার শেরপুর এলাকায় বসে প্রতি বছর মাছের মেলা। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে মাছের মেলাটি শুরু হলে এটি এখন সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। ১২ জানুয়ারি সোমবার থেকে শুরু হওয়া ৩ দিন ব্যাপী এই মেলা শেষ হবে বুধবার দূপুরে। মাছ বিক্রেতারা জানান হাওর ও নদীতে স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠা মাছ সাধারণত নিয়ে আসেন এই মেলায়। মেলা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাওর ও নদী থেকে মাছ সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

মৎস্য ব্যবসায়ী রফিক আহমদ জানান, মেলায় ৭০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ কুশিয়ারা নদী থেকে ধরা হয়েছে। ওই মাছ সহ আরও বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ মেলায় নিয়ে আসেন। সবচেয়ে বড় বাঘাইর মাছের মূল্য চাচ্ছেন ৯০ হাজার টাকা।

সোহেল আহমদ ৪২ কেজি ওজনের কাতলা মাছের দাম হাকছিলেন ৮৫ হাজার আর ২৫ কেজি ওজনের বোয়াল মাছের দাম ৬০ হাজার টাকা। ক্রেতারা ৫০ ও ৩৫ হাজার টাকা বললেও তিনি বিক্রি না করে আরও বেশি দরের অপেক্ষা করছিলেন।

কুলাউড়া শহরের কাদিপুর এলাকার মোক্তাদির হোসেন জানান, মেলা উপলক্ষে ৩ জন বন্ধু নিয়ে মেলায় মাছ কিনতে এসেছেন। প্রচন্ড শীতে কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করেও মেলা জুড়ে ছিল ক্রেতা বিক্রেতা আর কৌতুহলী মানুষের ঢল।

মেলায় আগত ক্রেতারা জানান, হাওর ও নদীতে স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠা দেশীয় প্রজাতির রুই, কাতলা, বোয়াল, গজার, বাঘাইড় ও আইড় মাছ টাটকা কিনতে আসেন মেলায়। আর এ মাছ কেনার প্রস্তুতি তারা নেন বেশ কয়েকদিন আগে থেকে।

মেলায় পার্শবর্তী কুশিয়ারা নদী, হাকালুকি হাওর, কাওয়াদিঘি হাওর, হাইল হাওর ও সুনামগঞ্জের টাঙুগুয়ার হাওর সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মৎস্য ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন প্রজাতির বিশাল আকৃতির মাছ নিয়ে আসেন।

মাছের মেলা অয়োজক মো: আব্দুল হামিদ জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিয্যবাহী এই মাছের মেলায় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হতে পারে। মেলায় দেশের বিাভন্ন স্থান থেকে মাছ নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব সরকারকে তারা দিলেও মেলার জন্য এখনও স্থায়ী কোন স্থান গড়ে উঠেনি।

স্থানীয়রা জানান মেলা উপলক্ষে প্রবাসী অধ্যুষিত এ অঞ্চলের অনেক প্রবাসী দেশে আসেন। মেয়ের জামাই বাড়ির লোকজন ছাড়াও মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের আত্নীয় স্বজনরাও বেড়াতে আসেন তাদের বাড়িতে। নানা স্বাদের মাছ আর নানা জাতের পিঠা তৈরিতে চলে উৎসব।

যদিও এটি মাছের মেলা নামে পরিচিত তথাপি মাছ ছাড়াও ফার্নিচার, গৃহস্থালী সামগ্রী, খেলনা সহ গ্রামীণ ঐতিহ্যের দোকান স্থান পায়। বর্তমানে এই মাছের মেলা জাতি ধর্ম নির্বিশেষে মিলনমেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাজিব হোসেন জানান, খোলা নিলাম ডাকে এবছর মেলা বাবত সরকার রাজস্ব পেয়েছে ভ্যাটসহ ১ লক্ষ ৮১ হাজার ২৫০টাকা।

যদিও এটি মাছের মেলা নামে পরিচিত তথাপি মাছ ছাড়াও ফার্নিচার, গৃহস্থালী সামগ্রী, খেলনা সহ গ্রামীণ ঐতিহ্যের দোকান স্থান পায়। বর্তমানে এই মাছের মেলা জাতি ধর্ম নির্বিশেষে মিলনমেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *