মৌলভীবাজার-২ আমি কেন সাদিয়া নোশিনকে সমর্থন করি- জীন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী নোশিনকে সমর্থন করি কারণ সে সমাজতন্ত্রী ও শোষিতের বন্ধু

বিশেষ প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনে ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী। তিনি মৌলভীবাজারের চারটি আসনের মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী। তিনি বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ‘কাঁচি’ প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। সেই নারী প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন পঞ্চব্রীহি ধানের আবিষ্কারক প্রখ্যাত জীন বিজ্ঞানী, কুলাউড়ার কৃতি সন্তান ড. আবেদ চৌধুরী। আগামীকাল ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার কুলাউড়া পৌর শহরের ডাক বাংলো মাঠে বিকেল সাড়ে তিনটায় সাদিয়া নোশিনের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করেছেন জীন বিজ্ঞানী, কুলাউড়ার কৃতি সন্তান ড. আবেদ চৌধুরী। তিনি ‘কাঁচি মার্কার’ নির্বাচনী জনসভায় স্ব-উদ্যোগে দলে দলে যোগদান করার আহবান জানান এবং মৌলভীবাজার-২ আসনে প্রতিদ্বন্ধিতকারী বাকি প্রার্থীদের শুভকামনা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী’র নির্বাচনী লড়াইয়ে শামিল হই। এর আগে সাদিয়া নোশিনের বাড়িতে নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত থেকে সাদিয়া নোশিনের ‘কাঁচি’ মার্কাকে সমর্থন দিয়ে বক্তব্য দিয়ে ভোট কামনা করেন জীনবিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী। বাসদের পাশাপাশি যুক্তফ্রন্টের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও সরব প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তাঁর ‘কাঁচি’ প্রতীকের জন্য সম্প্রতি কুলাউড়া শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নানা শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় তারা ভোট প্রার্থনা করেন। এর আগে সব শরিকদের নিয়ে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।
জীন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরীকে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) সংসদীয় আসনে নির্বাচনের জন্য সমর্থন করেছেন। তাঁকে কাঁচি মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহবানও জানান তিনি। কি কি কারণে তিনি তাঁকে সমর্থন করেন তার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, প্রথমত সে আমার সন্তান সমতুল্য। অতএব, জীবনের রিলে দৌঁড়ে আমার হাতের বেটন তাঁরই প্রাপ্য। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পুরনো প্রজন্ম নতুনকে নেতৃত্বে আহ্বান জানাবে। একই সাথে পথ দেখাবে ও অনুসারী হবে-যাতে নতুনরা আত্মবিশ্বাসের সাথে নেতৃত্ব দিতে পারে। আমি নোশিনকে সমর্থন করি কারণ সে একজন নারী। বর্তমান রাজনীতিতে দলগুলোর নারী বিমুখতা দেখে আমি বিষণœ, হতচকিত ও গ্লানিতে পূর্ণ। নোশিনকে সমর্থন করার মাধ্যমে কিছুটা হলেও এই গ্লানি থেকে মুক্তি পাচ্ছি। নোশিনকে সমর্থন করি কারণ সে সমাজতন্ত্রী ও শোষিতের বন্ধু। শোষক ও শোষিতের দ্বন্ধে আমি নোশিনের পক্ষে থাকতে চাই। কারণ আমি গরীব মেহনতি মানুষের পক্ষ কখনো ছাড়বো না। আমি সাদিয়া নোশিনকে দেখি আগামীর এক উজ্জ্বল দিনের প্রতিনিধি হিসেবে। সে ও তাঁর প্রজন্ম অবশ্যই আমাদের স্বপ্নের সোনালী ভবিষ্যৎকে ধারণ করবে এবং নির্মাণের সংগ্রাম জারি রাখবে। আমি তাঁকে সমর্থন করি; কারণ তাঁর সাথে রয়েছে অনাগত দিনের প্রতিশ্রুতি, আগামী বিজয়ের লাল পতাকা। অতীতমুখী রক্ষণশীলতার বিপরীতে সে ধারণ করছে অসাম্প্রদায়িকতা, অকপট সাহসী তারুণ্য মিশ্রিত নারীত্ব ও গঠনতান্ত্রিক প্রগতিশীলতা।
উল্লেখ্য, প্রতিদিনই উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় তাঁর পক্ষে কর্মী সমর্থকরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিশেষ করে উপজেলার সবক’টি চা-বাগানে স্বল্পসংখ্যক কর্মী-সমর্থক নিয়ে চা-শ্রমিকদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন সাদিয়া নোশিন। প্রচারণার সময় একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে তিনি ভোটারদের নজর কাড়ছেন বলে অনেক চা-শ্রমিক ভোটার জানান।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *