কুলাউড়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাত সদস্যদের অনাস্থা, ডিসি’র কাছে লিখিত অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ১০নং হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ বখ্শ’র বিরুদ্ধে সরকারী সম্পদ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি, ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে পরিষদের ৭ জন ইউপি সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন। এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন ওই ৭ ইউপি সদস্য। ২৮ আগষ্ট রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের কাছে ইউপি সদস্যরা উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ পত্রটি দাখিল করেন। যার অনুলিপি দেয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), (হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার) এর উপ-পরিচালক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে। অভিযোগকারীরা হলেন, হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান (১) নুর আহমদ চৌধুরী বুলবুল, প্যানেল চেয়ারম্যান (২) আব্দুল মজিদ, প্যানেল চেয়ারম্যান ১,২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য সেলিনা আক্তার, ২নং ওয়ার্ড সদস্য শাইস্তা মিয়া, ৭নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মুনিম, ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য সেলিনা আক্তার। তারা অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন, ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াদুদ বখ্শ নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তিনি অত্যন্ত বেপরোয়া হয়ে উঠেন। তিনি এলাকার সকল প্রকার অনৈতিক ও অপরাধজনক কর্মকান্ডের সহিত ইতিপূর্বেও জড়িত ছিলেন এবং বর্তমানেও আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে সন্ত্রাসীমূলক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি সহ অন্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্যবৃন্দের সাথে তিনি কোনরূপ স্বমন্বয়, পরামর্শ ব্যতিরেকে টিআর/কাবিখা/কাবিটা প্রকল্প গ্রহণ করে সম্পূর্ণ মনগড়াভাবে ইচ্ছামাফিক প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগ করে প্রকল্পের কাজ না করেই তিনি সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেন এবং ইউনিয়ন পরিষদের সভায় গৃহিত সিদ্ধান্ত ও প্রকল্প স্কীম পরিবর্তন, পরিবর্ধন করে তার মনগড়াভাবে তৈরী করেন। সাধারণ জনগনের সহিত দূর্ব্যবহার, ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন সনদ প্রদানে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা আদায়, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করিয়ে অর্থ উত্তোলন করা আত্মসাৎ, ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব একাউন্টে টাকা জমা না রেখে বেশিরভাগ অংশের সমুদয় টাকা তিনি ভোগ করে আসতেছেন। পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন অর্থ পরিষদের তহবিলে জমা দেননি। এছাড়াও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন সনদ এবং কাগজাতের ফি সংক্রান্ত তালিকা জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে প্রদর্শনের বিধান থাকা সত্ত্বেও বর্ণিত ওয়াদুদ বখ্শ তা প্রদর্শন না করে জনসাধারনের নিকট হতে অতিরিক্ত টাকা আত্মসাতের হীন মানসে উক্তরূপ হীন কার্যকলাপ অব্যাহত রেখে চলেছেন। তিনি আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীগনের সহিত ভিন্ন ভিন্ন তারিখ ও সময়ে ইউনিয়ন পরিধানে জনসম্মুখে অসদাচরন ও অকথ্য ভাষা প্রয়োগ করে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে আসছেন। যার কারনে আমাদের মান-ইজ্জতের উপর ব্যাপক প্রভাব প্রতিফলিত হচ্ছে। চেয়ারম্যান ওয়াদুদ বখ্শ এর বিভিন্ন অনিয়ম, অপকর্ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে নিয়ে ৭ ইউপি সদস্যগণ গত ১৬ আগস্ট এক সভার করে করে তাঁর উপর অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করেন। আনীত অভিযোগ হলো-  জন্ম নিবন্ধনে সরকারি ফি ৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও তিনি বাংলা জন্ম নিবন্ধন সনদে ২০০ টাকা, ইংরেজী জন্ম নিবন্ধন সনদে ২০০ মোট ৪০০ টাকা আদায় করছেন আমরা তাতে আপত্তি জানালেও তিনি না শুনে তাঁর মনগড়া সিদ্ধান্তে জনগনের কাছ থেকে আদায় করছেন। যা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, এই সনদ মানুষ তাঁর অফিস থেকে নিতে বাধ্য হয়ে উক্ত টাকা দিতে হবে। তিনি না দিলে এ সনদের জন্য মানুষের অনেক কাজ আটকে থাকবে। তাই তিনি যা চাইবেন তা জনগন দিতে বাধ্য। নাগরিকত্ব সনদে ২০০ টাকা, উত্তরাধিকারী সনদে ৫০০ টাকা, ব্রিক্স ফিল্ডের জন্য ট্রেড লাইসেন্স ২৩ হাজার টাকা, বিভিন্ন ধরনের ট্রেড লাইসেন্স ৫শত থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করছেন। এলজিএসপি’র প্রকল্প তিনি একক সিদ্ধান্তে গ্রহণ করেন এবং লোক দেখানোর জন্য সামান্য কাজ করে দুই তৃতীয়াংশ অর্থ আত্মসাৎ করেন। তিনি সদস্যগণের নিকট হইতে ১০ টাকা চাউলের কার্ডের তালিকা নিয়ে পরবর্তীতে তিনি তা পরিবর্তন করে বয়স্ক, বিধবা এবং পঙ্গু ভাতা লোকজনদের নিজের ইচ্ছা মাফিক তালিকাভুক্ত করেন। ইউনিয়ন পরিষদের সম্মুখে মাটি ভরাট দ্বিতীয় কিস্তির দেড় লাখ টাকা তিনি মাটি ভরাট না করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। জনসাধারণের নিকট হইতে বিভিন্ন ধরনের ট্যাক্স, ফি, যানবাহান ফি ইত্যাদি আদায় ও তার কোন হিসাব প্রদান করেন নাই কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের একাউন্টে টাকা জমা প্রদান করেন নাই। এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াদুদ বখ্শ তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যত অভিযোগ আনুক, আমি স্বচ্ছ আছি, আমার কোন সমস্যা নেই। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আমি সুতা পরিমাণ কোন অনিয়ম করিনি। স্বার্থের কারণে যারা অভিযোগ দিয়েছেন তদন্ত হলে একটি অভিযোগেরও প্রমাণ তারা দেখাতে পারবে না। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তারা বিভিন্নভাবে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ হাসান বলেন, অভিযোগ পত্রটি স্থানীয় সরকার বিভাগের (মৌলভীবাজার) উপ-পরিচালকের মাধ্যমে তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার জন্য বলেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *