জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় একটি বাজারে চাচাতো শশুরের ছেলের সাথে জায়গা জমির বিরোধ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিতে গিয়ে শশুরবাড়িতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে খুন হলেন জামাতা রুবেল আহমদ (৩২) নামের এক ব্যক্তি। রুবেল পাশর্^বর্তী রাউৎগাঁও ইউনিয়নের মনরাজ গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মৃত ওয়াহাব মিয়ার পুত্র। এ সংঘর্ষে দুই পক্ষের আরো ৪জন আহত হয়েছেন। রোববার রাত ১১ টার দিকে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের কর্মধা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার রুবেলের ভাই সোহেল আহমদ বাদি হয়ে ৭ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ সোমবার দুপুর পর্যন্ত দুই নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়াও মামলার অভিযুক্ত গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার রুবেলের চাচাতো শশুর আব্দুল মন্নান (৬৮) ও তাঁর ছেলে আব্দুছ সালাম (৪০) পুলিশী প্রহরায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ, মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজারে রুবেল ও তাঁর বন্ধু দুলালের সাথে তাঁরই চাচাতো শশুরের ছেলে আবুল আজাদের বাগ্বিতন্ডা হয়। পরে বাজারের ব্যবসায়ী নেতাদের বিষয়টি জানান আজাদ। বিষয়টি সমাধানের আশ^াস পেয়ে আজাদ বাড়িতে ফিরে তাঁর পরিবারকে জানায়। এতে আজাদের বাবা আব্দুল মন্নান ও ভাই সালামসহ পরিবারের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে রুবেলের শশুর মবু মিয়ার ঘরে গিয়ে হুমকী-ধামকী শুরু করেন। এ সময় সেখানে অবস্থানরত রুবেলের স্ত্রী নাছিমা আক্তার ও সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকী দিতে থাকেন। রুবেলের স্ত্রী নাছিমা মোবাইলে বিষয়টি তাৎক্ষণিক তাকে জানালে সে তাঁর লোকজন নিয়ে আরো ৪/৫টি মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে শশুর বাড়িতে যান। সেখানে পৌঁছার পর সবাইকে শশুর বাড়ির সামনে রাস্তায় রেখে রুবেল তাঁর মোটরসাইকেলে থাকা বন্ধু মঞ্জুকে নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। বাড়িতে প্রবেশ করা মাত্রই আব্দুল মন্নান এবং তাঁর ছেলে আবুল আজাদ, আবুল কালাম ও আব্দুছ সালাম গংরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেল ও তার বন্ধু মঞ্জুকে উপর্যুপুরী কুপাতে থাকেন। চিৎকার শুনে রাস্তায় অবস্থানরত রুবেলের সঙ্গীরা বাড়িতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দুই পক্ষের ৪ জন গুরুতর আহত হোন। ঘটনাস্থল থেকে রুবেল ও মঞ্জুকে আহতবস্থায় উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রুবেলের মৃত্যু হয় এবং আশঙ্কাজনক হওয়ায় মঞ্জুকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) দীপংকর ঘোষ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুছ ছালেকসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহতবস্থায় রুবেলের চাচাতো শশুর আব্দুল মন্নান ও আব্দুছ সালামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এদিকে মামলার অভিযুক্ত আব্দুল মন্নানের মেয়ে রহিমা বেগম (৩৫), আছিয়া বেগম (৩০) ও ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল হেকিমের ছেলে মো. শাহ নুর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুছ ছালেক বলেন, রুবেল ও তাঁর শশুরের সাথে একই বাড়ির বাসিন্দা আব্দুল মন্নান গংদের জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ ছিলো। রোববার রাতে স্থানীয় রবিরবাজারে আব্দুল মন্নানের ছেলে আজাদের সাথে চাচাতো বোনের জামাই রুবেল ও তাঁর বন্ধুর বাগ্বিতন্ডা হয়। এর জেরে রুবেল তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে একাধিক মোটসাইকেল মহড়া নিয়ে গেলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রুবেল নিহত হোন ও দুই পক্ষের ৪জন আহত হোন। মামলার অভিযুক্ত আব্দুল মন্নান ও তাঁর ছেলে সালাম পুলিশী হেফাজতে সিলেটে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তাঁর দুই মেয়েসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

