সুলতান মনসুর দলে ফিরছেন!

মো: মছব্বির আলী : মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে রাজনীতির নতুন মেরুকরন শুরু হয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে এ আসনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি এতোদিন এ নিয়ে কানাঘুষা চলে আসলেও ১লা সেপ্টেম্বর শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে নতুন হিসেব নিকেষ। চমকের পর চমক অপেক্ষা করছে সারা দেশের বহুল প্রত্যাশিত এই আসন নিয়ে। গত সংসদ নির্বাচনে এই আসন নিয়ে সারা দেশে আলোচনার ঝড় বয়েছিলো। বিএনপির সাবেক এমপি এম এম শাহীন বিকল্পধারায় যোগ দিয়ে নৌকা বাগিয়ে নিলেও অপর দিকে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে তিনি ৭৯ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়ে সাবেক এমপি এম এম শাহীনকে প্রায় আড়াই হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। চার দশক ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ছিলেন এ আসনে নৌকার কাণ্ডারী। ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হয়ে তিনি কুলাউড়ায় ব্যাপক উন্নয়ন করেন। কিন্তু ২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ২০১০ সাল থেকে রাজনীতিতে ছিলেন একেবারেই নিষ্ক্রিয়। নির্বাচনের সময় ঐক্যফ্রন্টের মূলসারির নেতা হিসেবে তার আবির্ভাব এবং ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করে বাজিমাত করেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ।
অপরদিকে ২৫ বছর ধরে এম এম শাহীন কুলাউড়ায় বিএনপিকে করেছেন শক্তিশালী। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে একবার এবং ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে সুলতান মনসুরকে পরাজিত করে এমপি হন দ্বিতীয়বারের মতো। ২০০৮ সালে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে হেরে যান জাতীয় পার্টির প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাছ এর কাছে। এর পর থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে মামলায় জেলও খেটেছেন। কিন্তু গত নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে সুলতান মনসুরের মনোনয়ন নিশ্চিত করা হলে তিনি মহাজোটের নৌকা প্রতীকের আশায় যোগ দেন বি. চৌধুরীর বিকল্পধারায়। নৌকার নেতা সুলতান ধানে, আর ধানের নেতা শাহীন নৌকায় উঠায় ভোটের সমীকরণ মিলাতে তখন হিমশিম খেতে হচ্ছিল কুলাউড়াবাসীকে। সুলতান বনাম শাহীনের নাম কুলাউড়ার ১৩ ইউনিয়নের আবাল বৃদ্ধ বনিতাসহ সারা দেশে তখন আলোচনার ঝড় হয়েছিলো।

ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনের বৈতরণী পার হলেও জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধুকে কখনো ভুলে যাননি সুলতান মনসুর।

নির্বাচনকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা তার জন্য জানপ্রাণ দিয়ে মাঠে কাজ করেন। নির্বাচনের পর তিনি বলতে শুরু করেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করেন। তিনি আওয়ামীলীগ ছেড়ে যাননি। আওয়ামী লীগেই আছেন। কোথাকার এক মেজর স্বাধীনতার ঘোষণা কিভাবে করে? এদেশে রাজনীতি করতে হলে বঙ্গবন্ধু আদর্শকে মেনে রাজনীতি করতে হবে।

এমপি নির্বাচিত হবার পর স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস করতে থাকেন সুলতান মনসুর। করোনা মহামারির কালে প্রায় দুই বছরেও তিনি কুলাউড়াতে আসেননি। জাতীয় এই নেতা আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌক প্রতীক না পেলে নির্বাচন না করার ঘোষণা ইতোমধ্যে দিয়ে ফেলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইমু, নৌকা পাইলে নির্বাচন করমু নাইলে নিরব থাকমু।’ সুলতান মো: মনসুর আহমদ আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা হলেন দলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি নমিনেশন দিলে ইলেকশন করমু। না দিলে তাঁর সিদ্ধান্ত মানিয়া নিমু। ২০০৮সালের নির্বাচনে আমাকে বলা হয়েছিলো স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে কিন্তু আমি তাতে রাজি হইনি।

১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল তিনটায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সমাবেশ রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব স্মরণে এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া সংসদীয় আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ডাকসুর ভিপি, ছাত্রলীগের সভাপতি, জাতীয় নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ এমপি।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে ওই অনুষ্টানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলেও দেশ বিদেশে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠে। সুলতান মনসুর কি আবার আওয়ামীলীগে ফিরছেন! অবশ্য এই আলোচনার সুত্রপাত হয়েছিলো গত মাসের মাঝামাঝিতে লন্ডন থেকে শেখ রেহানার সাথে বিমানে পাশাপাশি বসে আসার ছবি প্রকাশ হবার পরেই। সুলতান মনসুর যদি দলে ফেরেন তাহলে নতুন করে আবার এই আসনের হিসেব করতে হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। এখন শুধু দেখার পালা কোথাকার জল কোথায় গিয়ে গড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *