কুলাউড়ায় কৃষকের ওপর ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে হামলা!

কুলাউড়া প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজারে আতিকুল ইসলাম রহমত (৬০) নামে এক বৃদ্ধ কৃষকের ওপর নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ফাহিমুর রহমান ফাহিমের নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক বাদী হয়ে জড়িত ওই ছাত্রলীগ নেতাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের বাসিন্দা আশিকুর রহমান ফটিকের দুই ছেলে কর্মধা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফাহিমুর রহমান ফাহিম (২৬) ও ছাত্রলীগ নেতা মাহিদুর রহমান মাহি (২৩), মজিদ মিয়ার ছেলে মাছুম মিয়া (২৫), মৃত আয়ুব আলীর ছেলে আশিকুর রহমান ফটিক (৬০) ও হাবিবুর রহমান আসুক (৫৩), মৃত কনু মিয়ার ছেলে মজিদ মিয়া (৫৪) কে আসামী করা হয়।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলা জাসদের সহ-সভাপতি ও কর্মধা ইউনিয়নের বাসিন্দা আশিকুর রহমানের ফটিকের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছে একই ইউনিয়নের কর্মধা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আতিকুল ইসলাম রহমতের। গত শনিবার (১৬ মে) রাত ৯টায় রবিরবাজারের লামাবাজারে ব্যবসায়ী শাহাজান মিয়ার দোকানের পাশে জাসদ নেতা আশিকুর রহমান ফটিক, তার দুই ছেলেসহ ৫-৭ জনের একটি দল রহমতের পথরোধ করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে ফটিকের নির্দেশে তার ছেলেসহ একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র দিয়ে রহমতের ওপর হামলা চালায়। এতে রহমত গুরুতর আহত হলে স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ লোকজন তাকে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক রহমতকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কৃষক রহমত খুবই সহজ সরল প্রকৃতির এবং ভালো মানুষ। ঘটনার দিন তিনি লামাবাজারের একটি দোকানে চা খেতে বসেছিলেন। ওইসময় তার ওপর অন্যায়ভাবে হামলা চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় আমরা তাকে উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করাই। আমরা এই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।
ভুক্তভোগী আতিকুল ইসলাম রহমত বলেন, আমার প্রতিবেশী জাসদ নেতা ফটিকের ভাইয়ের গরু প্রতিদিন আমার বাড়িতে এসে ফসলাদি নষ্ট করে ফেলে। বিষয়টি আমি ফটিককে জানালে তিনি আমাকে রবিরবাজারে সড়কে অন্যায় ভাবে গালাগালি করে ধাক্কা দিয়ে লাঞ্চিত করেন। পরে বাজারের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় আমি বাড়িতে চলে যাই। ওই ঘটনার ১৫ দিন পর গত শনিবার রাতে রবিরবাজার লামাবাজারে একটি চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। এসময় হঠাৎ দেখি ফটিক নেতার ভাই ও তার ছেলেসহ বেশ কয়েকজন একত্রিত হয়ে আমার উপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করে। এতে আমি গুরুতর আহত হই। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে আমার মাথায় পাঁচটি সেলাই লাগে। বর্তমানে আমি মৌলভীবাজার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি। এ ঘটনায় জড়িত ছয়জনের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিচার দাবী করছি।
অভিযোগের বিষয়ে জাসদ নেতা আশিকুর রহমান ফটিক বলেন, রহমতের ফসলাদি নষ্ট করার বিষয়ে আমি আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় তার গরু রহমতের ফসলাদি নষ্ট করেনি। বিষয়টি নিয়ে গত ১৫ দিন আগে রহমত আমাকে রবিরবাজারে হঠাৎ করে ধাক্কা দিয়ে সড়কে ফেলে দেয়। ওইসময় বাজারের ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে রহমতকে মারধর করার চেষ্টা করে। এরপর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা কেউ করেনি। ঘটনার দিন আমার অজান্তে আমার ছেলেরা ক্ষোভে রহমতকে বাজারে পেয়ে মারধর করেছে এটা সত্য। বিষয়টি ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দদের নিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার এস আই মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে মারধরের সত্যতা মিলেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *