আদালত চত্বরে ইনুকে জুতা ও ডিম নিক্ষেপ

রাজধানীর নিউ মার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলী হায়দার তাকে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর আগে ইনুকে আদালত চত্বরে নেওয়া হলে কিছু লোক তাকে লক্ষ করে জুতা ও ডিম নিক্ষেপ করে।

বিকেলে ইনুকে আদালতে হাজির করে নিউ মার্কেট থানার পুলিশ।
তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিউ মার্কেট থানার এসআই মোরাদ খান। শুনানি শেষে আদালত সাত দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রসিকিউশন দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর নিউ মার্কেট থানা এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ইনুর উপস্থিতিতে এ রিমান্ড শুনানি হয়।
তাকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

ইনুর প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত ভবনের নিচে জুতা ও ডিম নিক্ষেপ করেন উৎসুক আইনজীবীরা। এ সময় একাধিক ডিম ইনুর শরীরে পরে বলে প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান। বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে সিএমএম আদালতে এই ঘটনা ঘটে।
এ সময় আইনজীবীরা ‘ইনুর গায়ের চামড়া, তুলে নেব আমরা; ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি ইনুর ফাঁসি চাই’ বলে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ইনুকে আদালত চত্বরে নেওয়ার সময় সেখানে সেনা সদস্য, বিজিবি সদস্য ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। এ সময় বেশ কিছু আইনজীবীকে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। তাদের ডিম ও জুতা নিক্ষেপ করতেও দেখা যায়।

গত সোমবার রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবির একটি দল।
আজ নিউ মার্কেট থানার হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর আদালতে নেওয়া হয়। এ মামলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত ২৩ আগস্ট পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে গত ১৯ জুলাই রাজধানীর নিউ মার্কেটের এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গুলিতে নিহত আব্দুল ওয়াদুদের (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয় নিউ মার্কেট থানায়। গত বুধবার রাতে মামলাটি করেন নিহতের শ্যালক আবদুর‌ রহমান।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আলী আরাফাত, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল প্রমুখ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে গত ১৯ জুলাই নিউ মার্কেটের ১ নম্বর গেটের সামনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গুলিতে আব্দুল ওয়াদুদ (৪৫) নিহত হন।

রিমান্ড আবেদনের তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ইনু এই মামলার এজাহারনামীয় আসামি। ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যাকাণ্ডের তিনি একজন নির্দেশদদাতা। ঘটনার মূল রহস্য ও এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরো কারা জড়িত এবং ইনুর নিজের কী ভূমিকা? এসব সম্পর্কে তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *