জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারে একটি ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ঘটনার সময় চুরি হওয়া দুটি মোবাইল ফোন। আদালতে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ফেরদৌস হোসেন (৩১) ও কন্নাল মিয়া ওরফে জয়নাল (৩৯)। ১২ জুন শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন ভোররাতে মৌলভীবাজার শহরের উত্তর কলিমাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় শিশুকন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন স্বামী-পরিত্যক্তা এক শ্রমজীবী নারী। গভীর রাতে তিন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত কৌশলে ঘরের দরজার সিটকানি খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে এবং তাদের মধ্যে দুজন সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এ সময় অপর একজন ঘরে থাকা মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করলে বিশেষ তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ঢাকার সাভারের রাজাবাড়ী এলাকা থেকে ফেরদৌসকে এবং উত্তর কলিমাবাদ এলাকা থেকে জয়নালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় চুরি হওয়া দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। ওসি মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলার সঙ্গে জড়িত আরও একজন আসামি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

