নিয়ম না মেনে বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে রাজাপুর ও কটারকোনা সেতু

মাহফুজ শাকিল : কুলাউড়ায় নিয়ম ভেঙ্গে প্রশাসনের কোন তোয়াক্কা না করে মনু নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন বর্তমান ইজারাদার নাজমুন নাহার লিপি গং। ফলে হাজীপুর ইউনিয়নে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ব্রাহ্মণবাজার-শমসেরনগর সড়কে মনু নদীর ওপর নির্মিত পুরাতন কটারকোনা সেতু ও কুলাউড়া-পৃথিমপাশা-হাজীপুর-শরীফপুর সড়কে নির্মিত নতুন রাজাপুর সেতু চরম হুমকির মুখে পড়েছে। গত দুই বছর ধরে সেতু রক্ষায় ভুক্তভোগী এলাকার লোকজন মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা করে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপিও দেন।

জানা গেছে, ইজারা চুক্তি ভঙ্গ করে কটারকোনা ও রাজাপুর সেতুর পাশে অবৈধভাবে মেশিন বসিয়ে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করছে ইজারাদার গং। স্থানীয়দের অভিযোগে কয়েক দফায় ইজারাদারকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবুও থামছে না অবাধে বালু উত্তোলন। গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুল ইসলামের নেতৃত্বে কটারকোনা সেতু এলাকায় এক কিলোমিটারের ভিতরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে অভিযান চালিয়ে ইজারাদার নাজমুন নাহার লিপির ম্যানেজার শম্ভু কুমার দেবকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে কুলাউড়া থানা পুলিশ সহযোগিতা করে। এরআগে গত ২ সেপ্টেম্বর উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের সালন এলাকায় ইজারা চুক্তি ভঙ্গ করে মনু নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ইজারাদার নাজমুন নাহার লিপিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুর সেতুর পাশে অবৈধভাবে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ইজারাদার নাজমুন নাহার লিপির সহযোগী আশরাফ খানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, মনু নদীর বালুমহাল প্রতি বছর মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইজারা দেয়া হয়। চলতি সনে বালুমহাল ইজারা নেয় হবিগঞ্জের যুবলীগ নেতা সেলিম আহমদের স্ত্রী নাজমুন নাহার লিপি। অথচ মনু নদীর বালু উত্তোলনের জন্য নীতিমালায় উল্লেখ ছিলো, নদীর উপর নির্মিত ব্রিজের উভয় পাশে প্রায় ১ কিলোমিটারের মধ্যে কোন বালু উত্তোলন করা যাবে না। কিন্তু ইজারাদার নাজমুন নাহার লিপি ও সহযোগী দীপক দে গং সেই শর্ত ভঙ্গ করে একের পর এক ড্রেজার মেশিন দিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ কটারকোনা ও রাজাপুর সেতুর পাশ থেকে মেশিন বসিয়ে তারা অবৈধভাবে দীর্ঘদিন থেকে বালু উত্তোলন করে ঘাটে মজুদ করে রাখেন। তারা প্রশাসনের কোন তোয়াক্কা না করে বালু মহালের সরকারি ইজারা চুক্তি ভঙ্গ করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। যার কারণে রাজাপুর ও কটারকোনা সেতু চরম হুমকির মুখে রয়েছে। আর প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জরিমানা অব্যাহত রেখেছে। এমনকি অবাধে ১০ চাকার ডাম্প ওভারলোড ট্রাক দিয়ে প্রতিদিন এই ঘাট থেকে বালু পরিবহন করে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। এতে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধসহ সড়ক বিভাগের জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে বালুমহালের বর্তমান ইজারাদার নাজমুন নাহার লিপিকে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ফোনটি কেটে দেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুল ইসলাম বলেন, ইজারা চুক্তি ভঙ্গ করে বালু উত্তোলনের অপরাধে ইজারাদারকে এরআগেও দুইবার মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু নির্দেশনা না মানায় ফের বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে আরো দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরো কঠোর দন্ড আরোপ করা হবে। তিনি আরো বলেন, বালু উত্তোলনের স্থাপনাগুলো নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইজারা চুক্তি ভঙ্গ করে বালু উত্তোলন ন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কায়ছার হামিদ বলেন, সেতুর নিচ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসক বরাবরে চিঠি দিয়ে অনেক আগেই আপত্তি জানানো হয়েছে। এখন যদি ইজারাদার আবার নতুন করে সেতুর নিচ থেকে বালু উত্তোলন করে তাহলে সেটি বন্ধে জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করা হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *