কুলাউড়ায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাযায় যুবলীগ নেতা রুহুল

জেলা প্রতিনিধিমৌলভীবাজার:

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাযা ও দাফনে অংশ নিয়েছেন কুলাউড়া উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মোঃ রুহুল আমীন। জানাযায় অংশ নেওয়ার সময় তাঁর হাতে হাতকড়া পরানো ছিল। ১১ অক্টোবর শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের বড়বাড়ীস্থ শীল দিঘীর পাড় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তার পিতা রবিরবাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী হাজী ইব্রাহীম আলী (৭০) কে। পরে দাফন শেষে আবারও তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, বাবার মৃত্যুতে শেষবারের মতো দেখার অনুরোধ জানিয়ে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তাকে ৪ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। জেলা কারাগার থেকে পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যানে করে কঠোর নিরাপত্তায় তাকে জানাযাস্থলে আনা হয় এবং পুরো সময়জুড়ে চারজন পুলিশ সদস্য তাকে ঘিরে রাখেন। পিতার জানাযার নামাজ শেষে তাকে আবার পুলিশ পাহারায় কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়। এসময় এক আবেগঘন মুহুর্তের সৃষ্টি হয়। কান্না জড়িত কণ্ঠে রুহুল আমীন উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে মরহুম পিতার জন্য দোয়া কামনা করেন।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, ৪ ঘন্টার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্যারোলে মুক্তিপ্রাপ্ত আসামির পিতার জানাযার নামাজে অংশ নেন। নামাজ শেষে দুপুরের দিকে পুলিশ পাহারায় পুনরায় জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় ১০ মাসের অধিক সময় থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ২টি মামলায় জেল হাজতে কারাবন্দী রয়েছেন যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী রুহুল আমীন। রুহুল আমীনের পিতা কর্মধা গ্রামের বাসিন্দা হাজী ইব্রাহীম আলী ১০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০ ঘটিকায় সিলেট হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। জানাযার নামাজে অংশ নেন সাবেক এমপি ও জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট নওয়াব আলী আব্বাস খান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান সাহেদ, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. জাকির হোসেন, জামায়াত নেতা রাজানুর রহিম ইফতেখার, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *