কর্মধায় পূর্ব বিরোধের জেরে হামলায় আহত ২, আটক ১

কুলাউড়া প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে জায়গা জমির বিরোধসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পূর্ব বিরোধ জেরে হামলা করে একই পরিবারের দুই সদস্যকে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সুনা মিয়া বাদী হয়ে গত ৪ ডিসেম্বর জড়িত ৮ জনের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় মামলা (নং-০৫, ০৪/১২/২৫ ইং) দায়ের করেছেন।
মামলার আসামীরা হলেন, কর্মধা ইউনিয়নের বুধপাশা গ্রামের মৃত রহমত আলীর ছেলে ময়না মিয়া, ময়না মিয়ার ছেলে মিনার মিয়া, বিলাল মিয়া, দুলাল মিয়া, মৃত রহমত আলীর ছেলে চান্দু মিয়া, আখলু মিয়া, চান্দু মিয়ার ছেলে আহাদ মিয়া, আখলু মিয়ার ছেলে সেফুল মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২-৩ জন। এদিকে এই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামী আহাদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের বুধপাশা গ্রামের বাসিন্দা সুনা মিয়ার সাথে একই গ্রামের নিকটাত্মীয় ময়না মিয়া গংয়ের সাথে জায়গা জমিসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পূর্ব বিরোধ চলছে। ওই বিরোধের জেরে ময়না মিয়া গং সুনা মিয়া গংয়ের পরিবারের ক্ষতিসাধনের পায়তারায় লিপ্ত থাকে। ঘটনার দিন গত ৩ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে আটটায় সুনা মিয়ার মালিকানাধীন জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে তার রোপনকৃত ধান কাটতে থাকে ময়না মিয়া গং। ময়না মিয়া গং সুনা মিয়ার জমির ধান কেটে আনুমানিক সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। এ বিষয়ে সুনা মিয়া তার ছেলে কামাল হোসেনকে নিয়ে তাদের জমিতে গিয়ে ধান কাটতে ময়না মিয়াকে বাঁধা দেন। এসময় ময়না মিয়া গং তাদের কথা না শুনে তাদের গালিগালাজ করে জোরপূর্বক ধান কাটতে থাকে। প্রতিবাদ করলে ময়না মিয়া গং সংঘবদ্ধভাবে মিলিত হয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সুনা মিয়া গংয়ের ওপর হামলা চালায়। ময়না মিয়ার নির্দেশে তার ছেলে মিনার মিয়া তার সাথে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সুনা মিয়ার ছেলে প্রবাসী কামাল হোসেনের মাথার মাঝখানে গুরুতর আঘাত করে। এমনকি ময়না মিয়ার আরো দুই ছেলে বিলাল মিয়া ও দুলাল মিয়াও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সুনা মিয়ার ছেলে কামাল হোসেনকে মারধর করে। এছাড়া ময়না মিয়ার সহযোগি বিবাদী চান্দু মিয়া, আহাদ মিয়া, আখলু মিয়া, সেফুল মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা লোকজন কামাল হোসেনকে এলোপাতারি মারধর করে গুরুতর আহত করে। ওইসময় সুনা মিয়া তার ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে সুনা মিয়াকেও বিবাদী চান্দু মিয়া, আহাদ মিয়া তাদের সাথে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে আহত করে। এসময় আহাদ মিয়া সুনা মিয়ার ছেলের ব্যবহৃত মোবাইল চুরি করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্বার করে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে সুনা মিয়ার ছেলে কামাল হোসেনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সুনা মিয়া বলেন, আমার ছেলে প্রবাসী কামাল হোসেন বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার মাথায় প্রায় ১৬টি সেলাই লাগে। আমার ছেলে বর্তমানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এমনকি দ্রুত সময়ের মধ্যে সুস্থ না হলে সে প্রবাসে যেতে পারবেনা। ভিসা ও টিকেট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিবাদী ময়না মিয়া গং ঘটনার দিন সবার সামনে বলে, আজকের মতো প্রাণে বেঁচে গেলি। বর্তমানে কয়েকজন আসামী জামিনে বের হয়ে আমাদের সময় সুযোগ মত পেলে প্রাণে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেয়। এমনকি ঘরবাড়িও জ্বালিয়ে দিবে বলে হুমকি দিচ্ছে। বিবাদীদের হুমকিতে আমিসহ আমার ছেলে, ছেলের স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার এসআই মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী সুনা মিয়া বাদী হয়ে ৮জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত চলমান আছে। #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *