জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজারে গত কয়েক দিন থেকে কন কনে শীত ও হিমেল হাওয়ার কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। ২ জানুয়ারী শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১১ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার সারাদিন সূর্যের আলোর দেখা মেলেনি। সকাল ও বিকেল হওয়ার পর পরই শীতের তীব্রতা বেড়ে যায়। শীত ও হিমেল হাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশী ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমুল ও শ্রমজীবী মানুষ। মৌলভীবাজারস্থ শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের সিনিয়র সহকারী আনিসুর রহমান বলেন, ৩০ ডিসেম্বর তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৩১ ডিসেম্বর তাপমাত্রা ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস,থাকলেও বছরের প্রথম দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২ জানুয়ারী শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১১ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ধীরে ধীরে এখানকার তাপমাত্রা কমছে। অতীত রেকর্ড অনুযায়ী তাপমাত্রা আরও নিচে নামতে পারে।
শীতজনিত রোগে প্রতিদিন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল সহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু ও বয়স্কদের নিয়মিত ভর্তি অব্যাহত রয়েছে। গরম কাপড়ের দোকানে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ভীড় প্রতিদিন বাড়ছে। ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও হাসপাতালে চাপ একটু কম রয়েছে বলে ডা: মহিউদ্দিন জানান, জেলার সকল প্রাইভেট ক্লিনিকে এখন শীতজনিত রোগের ভালো চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ক্লিনিক থেকে তিনদিন চিকিৎসা নিয়েই অনেকেই সুস্থ হচ্ছেন। এদের মধ্যে যারা একটু বেশি অসুস্থ যাদের অক্সিজেন প্রয়োজন হয় তাদের সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। পাহাড়, হাওর, চা-বাগানবেষ্টিত এলাকার বসবাসরত মানুষেরা কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষেরা। এদিকে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর শহরে তাপমাত্রা একটু বেশি থাকলেও হাওর, পাহাড় ও চা-বাগান এলাকায় বসবাসরত মানুষের খুব বেশি ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষজন।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, শীতার্থ মানুষের জন্য জেলায় এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮৯৭টি সরকার থেকে পাওয়া গেছে। উপজেলা থেকে সকল কম্বল ইউনিয়নওয়ারি বিভাজন করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর উপবরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তৎমধ্যে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৯হাজার ৯৮৭ টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। মজুদ রয়েছে ৭০০ টি কম্বল। বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

