কুলাউড়ায় সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরীর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত

জেলা প্রতিনিধিমৌলভীবাজার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মৌলভীবাজার–২ (কুলাউড়া) আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত জেলার একমাত্র নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরীর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে কুলাউড়ার ডাকবাংলো মাঠে পঞ্চব্রীহি ধানের আবিষ্কারক ও জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীর আহ্বানে এবং হাওর রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব খসরু চৌধুরীর সঞ্চালনায় এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, ‘এই যে এখানে আমরা কথা বলছি, এখানে টাকার কোনো ধান্দা নাই। লোকও কম। অথচ অন্য প্রার্থীদের সভায় হাজার হাজার লোক দেখা যায়। কেন? তারা ভালোবাসা পেয়েছে বলে না, পেয়েছে টাকা। এই নির্বাচন পদ্ধতির ভেতরে টাকা ঢুকে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, “আমি জানি মানুষের ভেতরে টাকার লোভ কখন জমে, সেটা আমি ভালো বুঝি। এ নিয়ে আমি যেকোনো পণ্ডিতের সঙ্গে তর্কে বসতে রাজি আছি।’ তিনি বলেন, ‘মানুষ পৃথিবীতে টাকা আহরণের জন্য আসেনি। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে টাকার জন্য পাঠাননি। মানুষ একসময় গুহায় বাস করেছে, পশুকে পোষ মানিয়েছে, পরিবার ও সমাজ গড়েছে। পরে ক্যাপিটালিজম এসে মানুষের শোষণ শুরু করেছে।’ জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা, মৌলভীবাজার–২ আসনের প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, বাংলাদেশ জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম এবং সিপিবির মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমান। জনসভায় বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরীর হাতে তাঁর নির্বাচনী প্রতীক কাঁচি মার্কা তুলে দেন। এ সময় সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী তাঁর ২০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করেন। ইশতেহারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো- শর্তহীনভাবে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কাজকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে সংবিধানে যুক্ত করা; বয়স্ক, দুস্থ, অনাথ, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মানুষের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিশ্চিত করা; বেকারদের কর্মসংস্থান ও ভাতা প্রদান; বিনামূল্যে চিকিৎসা, হেলথ কার্ড ও ওয়ার্ডভিত্তিক হেলথ সেন্টার চালু; স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা। এছাড়া কৃষি খাতে জাতীয় বাজেটের ৪০ শতাংশ বরাদ্দ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, সার–বীজে ভর্তুকি, পচনশীল পণ্য সংরক্ষণে সরকারি হিমাগার নির্মাণ, চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা নির্ধারণ, শিশুশ্রম বন্ধ, নারী আসন ১০০-তে উন্নীত করে সরাসরি নির্বাচন, কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমমজুরি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, মাদক ও জুয়া বন্ধ, প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, রেলওয়ের আধুনিকায়ন, হাকালুকি হাওর সুরক্ষা, কুলাউড়ার বন্যা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ অভিন্ন নদীর ন্যায্য পানির হিস্যা আদায়ের দাবি জানান তিনি। জনসভা থেকে টাকা ও পেশিশক্তির রাজনীতির বিপরীতে আদর্শ, মানবিকতা ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *