জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর বালিগাঁও গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দিপালী সিনহা (৩৩) মাধবপুর ইউনিয়নের গকুল সিংহের গাঁও এলাকার বিমানন্দ সিনহার মেয়ে এবং উত্তর বালিগাঁও গ্রামের রাজিব কুমার সিংহের স্ত্রী। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘দিপালী সিনহার সঙ্গে তাঁর স্বামীর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ ছাড়া শাশুড়ির পক্ষ থেকেও তিনি বিভিন্ন সময় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতেন বলে দাবি করেছেন প্রতিবেশীরা। তাঁদের মতে, এসব বিষয়ে স্বামীর কাছে অভিযোগ জানালেও কাংখিত সহযোগিতা পাননি দিপালী।’ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দিপালী অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছিলেন। পারিবারিক অশান্তি, মানসিক চাপ ও নির্যাতনের কারণেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়ে থাকতে পারেন বলে তাঁদের ধারণা। নিহতের ছোট ভাই দিপক সিংহ জানান, ‘ঘটনার আগে তাঁর বোন তাঁকে সিলেটে রথযাত্রা দেখতে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে পরে জানান, তাঁর স্বামী যেতে নিষেধ করেছেন। এছাড়া দিপালীর স্বামীও তাঁকে বার্তা দিয়ে দিপালীকে সিলেটে না আসতে বলেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।’
অন্যদিকে নিহতের স্বামী রাজিব কুমার সিংহ দাবি করেন, ‘তাঁর স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিমান করতেন এবং তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ কারণে বিভিন্ন সময় চিকিৎসাও করানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুটি সন্তান রয়েছে। সে এভাবে আত্মহত্যা করবে, তা কখনো ভাবিনি।’ খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কমর উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে কিংবা তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

