কুলাউড়ায় মোটর সাইকেল চুরির হিড়িক!

মাহফুজ শাকিল : কুলাউড়া উপজেলায় হঠাৎ করেই চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। যা জনমনে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কুলাউড়া শহরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮টি, মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় দোকান ও বাসায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা বলছেন, পুলিশ প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে। চোরচক্রকে গ্রেফতারে পুলিশের টহল জোরদার বৃদ্ধি এবং উপজেলার প্রতিটি এলাকায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরো সক্রিয় করতে হবে। তবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে নিয়মিতই অভিযান চালাচ্ছে তারা। শিগগিরই চোর-ছিনতাইকারী চক্রকে গ্রেফতার করা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করছেন তারা।

কুলাউড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত থানায় প্রাইভেট কার/সিএনজি/মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় ৮টি মামলা রুজু হয়। এরমধ্যে ৭ মামলায় চুরি যাওয়া গাড়ী উদ্ধার ও ১১ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার কুলাউড়া পৌরশহরে দুটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের এরিয়া ম্যানেজার উত্তম নন্দী শহরের উত্তরবাজার এলাকায় আল-মদিনা মার্কেটের সামনে তার মোটরসাইকেলটি রেখে ইকো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রবেশ করেন। মাত্র ১৫ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন তার সাইকেলটি নেই। অন্যদিকে বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে জুড়ী উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা ফাহিম আহমদ তাঁর মাকে ডাক্তার দেখাতে ইকো ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসেন। এসময় তিনি তবুর ম্যানশনের সামনে তার সাইকেলটি রাখেন। কিছুক্ষণ পর ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বের হয়ে দেখেন চোর চক্র তার সাইকেল নিয়ে উধাও। ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটায় শহরে বাজার করতে আসেন কুলাউড়ার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের চৌধুরীবাজারের বাসিন্দা রাজু। তিনি মিলি প্লাজা মার্কেটের পশ্চিমের গেইটের সম্মুখে তার সাইকেলটি রেখে বাজার করতে যান। বাজার করা শেষে এসে দেখতে পান তার সাইকেলটি নেই। ১৯ এপ্রিল রাত ৮টায় কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজার থেকে ব্যবসায়ী পলাশ মালাকারের সাইকেলটি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে চুরি হয়। ১৮ এপ্রিল বিকেল ৪টার সময় ব্রাহ্মণবাজার জালালাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে দুইজন ব্যক্তির সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের হেলাপুর গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমান ও কাদিপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা ফজলুল আলম ব্রাহ্মণবাজার পোস্ট অফিসের পাশে তাদের সাইকেল পার্কিং করে খেলা দেখতে যান। খেলা শেষে এসে দেখতে পান তাদের সাইকেল দুটি নেই। এদিকে ১৬ এপ্রিল কুলাউড়া পৌর শহরের ডাকবাংলো মাঠে বৈশাখী মেলা চলাকালীন সময়ে একটি সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। ১২ এপ্রিল রবিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উত্তরবাজার এলাকায় উত্তরা শপিং সেন্টারের সামনে থেকে একটি সাইকেল চুরি হয়। ২৬ মার্চ কুলাউড়া পৌর শহরের উত্তরবাজার এলাকায় চা ওয়ালা নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চুরি সংঘটিত হয়। ২১ এপ্রিল মধ্যরাতে পৌর শহরের মাগুরা এলাকায় দুটি বাসা থেকে মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে। ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক তিনটায় ছকাপন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক মহসিন ভুঁইয়া স্বপনের ভাড়া বাসায় চোরেরা ঘরে ঢুকে আলমারীর তালা ভেঙ্গে মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ নিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ১২ এপ্রিল কুলাউড়ার বরমচাল ইউনিয়নের উত্তরভাগ এলাকার বাসিন্দা মৃত কাদির মিয়ার স্ত্রী কুলাউড়ার একটি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তিনি দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে সড়ক থেকে নেমে বাড়ির পথে হেঁটে যাওয়ার সময় গ্রামের রাস্তায় দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা চারজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে ভয় দেখিয়ে নগদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এরআগে এক সপ্তাহের ব্যবধানে অভিন্ন কায়দায় দুইজন শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্কুল শিক্ষিকাদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করেছে। স্কুল শিক্ষিকাদের কাছ থেকে কেবল ৮ লক্ষাধিক টাকার ছিনতাই করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ২৬ মার্চ হোসেনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নুরজাহান বেগম বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন শেষে একটি অটোরিক্সা যোগে শহরের বাসায় ফেরার পথে ২ মোটরসাইকেল আরোহী তার পথরোধ করে। এসময় তাকে প্রাণে হত্যার ভয় দেখিয়ে ছিনতাইকারীরা তার গলার সোনার চেইন, কানের দোল, আংটি, নাকফুলসহ ৩ লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় ছিনতাইকারীরা তার হাতে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। এদিকে ৩১ মার্চ সকালে কুলাউড়া শহরের বাসা থেকে বেগমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম সিএনজি অটোরিক্সা যোগ স্কুলে যাওয়ার পথে মুখোশ পরিহিত ২ মোটরসাইকেল আরোহী সিএনজি অটোরিক্সার গতিরোধ করে। এসময় তাকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে গলার আড়াই ভরি ওজনের সোনার চেইন ও হাতের বালা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ছিনতাইকৃত স্বর্ণালংকারের দাম ৫ লক্ষাধিক টাকা বলে শিক্ষিকা জানান।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা বলেন, গত ছয় মাসের চুরি ঘটনায় জড়িত অনেক আসামীকে গ্রেফতার ও গাড়ী উদ্ধার করেছি। সম্প্রতি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় জড়িত চোরচক্রকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। স্কুল শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজন আসামীকে গ্রেফতার ও বাকি আসামীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মোটরসাইকেল চালকদের আরো সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনে সাইকেলে জিপিএস ট্র্যাকার, হাইড্রোলিক লকসহ সিকিউরিটি ব্যবস্থা থাকলে সাইকেল সহজে চুরি হতো না। তাই সাইকেল চালকদের জরুরী ভিত্তিতে সাইকেলের সিকিউরিটি ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *