কুলাউড়ায় পাবলিক লাইব্রেরী পুনঃস্থাপনের দাবিতে ইউএনও বরাবরে স্মারকলিপি

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলো মাঠের এক পাশে স্থাপিত পাবলিক লাইব্রেরির পুরোনো ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় প্রশাসনের উদ্যোগে ভেঙে ফেলা হয়। পরে এটি পুনঃস্থাপনে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্ধারিত স্থানে নতুন করে পুনরায় একটি আধুনিক পাবলিক লাইব্রেরিটি স্থাপন ও চালুর দাবিতে ২৭ এপ্রিল সোমবার সকালে কুলাউড়ার স্রোত সাহিত্য পর্ষদ’-এর উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম, সিনিয়র সাংবাদিক খালেদ পারভেজ বখ্শ, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্মাল্য মিত্র সুমন, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, ব্যাংক কর্মকর্তা এনাম উদ্দিন, স্রোত সাহিত্য পর্ষদের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম ইমন, যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল আলম জুবেল, কামরাঙ্গা সম্পাদক কামরুল হাসান প্রমুখ। এর আগে পাবলিক লাইব্রেরি পুনরায় স্থাপন করে তা চালুর দাবিতে গত ২৫ এপ্রিল শনিবার সন্ধ্যায় শহরের দক্ষিণ বাজার এলাকার একটি কমিউনিটি হলে স্রোত সাহিত্য পর্ষদ এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের লোকজন অংশ নেন। ওই সভায়  স্রোত সাহিত্য পর্ষদের আহ্বায়ক নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফজলুল হক, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাবেক আহ্বায়ক রেদওয়ান খান, প্রবীণ সাংবাদিক সুশীল সেনগুপ্ত, নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম, কুলাউড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম টিপু, লেখক এ এফ এম ফৌজি চৌধুরী, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিপার আহমেদ, বিএনপি নেতা সুফিয়ান আহমেদ, সাংবাদিক মোক্তাদির হোসেন প্রমুখ।

জানা গেছে, ১৯৮৪ সালের ২৬ জুন উপজেলা প্রশাসন কুলাউড়া ডাকবাংলো মাঠের এক পাশে টিনশেডের আধা পাকা একটি ঘরে কুলাউড়া পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন করে। পাবলিক সেখানে প্রায় আড়াই হাজার বিভিন্ন ধরনের বই ও সংবাদপত্র ছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পাঠকদের সমাগম হতো। একপর্যায়ে ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ায় ২০১৫ সালের দিকে প্রশাসন সেটি ভেঙে দেয়। পাঠাগারটির অস্তিত্ব আজ আর নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত স্থানে পাঠাগার পুনরায় স্থাপন করে তা চালু করতে হবে।

পাবলিক লাইব্রেরীর ৫ নম্বর সদস্য ও কুলাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো: মছব্বির আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে পাবলিক লাইব্রেরীতে আমরা নিয়মিত অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিদের লেখা দূর্লভ বইগুলো পড়তাম। যে বইগুলো অন্যত্র পাওয়া দুষ্কর। প্রতি সপ্তাহে দুটি করে বই পড়তাম। বছরে ত্রিশ টাকা ফি দিতাম। বর্তমানে পাবলিক লাইব্রেরী না থাকায় আমরা কোন বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছি না। আমি জোর দাবি জানাচ্ছি, অচিরেই যেন এই লাইব্রেরীর কার্যক্রম চালু করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মহিউদ্দিন বলেন, লাইব্রেরী পুনঃস্থাপনের দাবিতে একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হবে। তিনি আরো বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে ডাকবাংলো মাঠে প্রাথমিকভাবে পাবলিক লাইব্রেরীর কার্যক্রম চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *