কুলাউড়ার টিলাগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মেম্বারদের দ্বন্ধের অবসান

কুলাউড়া প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল বাছিত ও ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন ইউপি সদস্যেদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে টিলাগাঁও বাজার এলাকায় পরিষদের সকল সদস্য ও টিলাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে বিরোধের সমাধান হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আব্দুল বাছিত, টিলাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী আব্বাছ আলী, সাবেক আহবায়ক সৈয়দ গোলাম আজমল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মুহিবুর রহমান ছয়ফুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মখলিছুর রহমান, পরিষদের সদস্য তছবির আলী ফয়জুল, সোহেল আহমদ মাসুদ, আব্দুল বাছিত ফজলু, মো. কয়ছর রশিদ, ফটিক আলী, জুনাব আলী, আজিজ বেগ, মিঠুন কালোয়ারসহ আরো অনেকে।
সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিতের বিরুদ্ধে হোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন পরিষদের কয়েকজন সদস্য। এর আগে এসব বিষয়ে গত ১ আগষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে সংবাদ সম্মেলন করেন ইউপি সদস্য সোহেল আহমদ মাসুদ, কয়ছর রশিদ ও আব্দুল আজিজ বেগ।
টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত গণমাধ্যমকে বলেন, দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে পরিষদের সকল সদস্যসহ ইউনিয়নের জনগণের পরামর্শে পরিষদ পরিচালনা করে আসছি। আমি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। প্যানেল চেয়ারম্যান-১ হিসেবে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করে মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, কয়েকজন ইউপি সদস্য আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছিলেন তা পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও ইউনিয়ন বিএনপির সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে নিষ্পত্তি হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। গত ১ আগস্ট পরিষদের কয়েকজন সদস্য আমার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই ঘটনার পুরো সত্যতা না জেনে অনেকেই সমালোচনা করেন এবং মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওইসকল সংবাদ আমার নজরে এসেছে। প্রকাশিত সংবাদে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে নাজেহাল করার চেষ্টা করছে। আমি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেছি। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ইউনিয়নের ৪৪টি গ্রামের সকল জনগণ ও পরিষদের সদস্যদের নিয়ে নানা উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছি। যতদিন আমি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছি ততদিন পরিষদের সকল সদস্যসহ ইউনিয়নের সকল জনগণের পরামর্শে সুন্দরভাবে পরিষদ পরিচালনা করে যাবো। এতে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *