জুড়ীতে হলুদ তরমুজ চাষে ২ কৃষকের সাফল্য

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ডোমাবাড়ী গ্রামে প্রথমবারের মতো মাচা পদ্ধতিতে অসময়ে তরমুজ চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুই কৃষক সিরাজুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলাম। দুই কৃষকের ক্ষেতে রয়েছে সূর্যডিম ও ল্যানফে জাতের তরমুজ। আকর্ষণীয় রং, উন্নত মান ও সুস্বাদের কারণে বাজারে জাত দুটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে উৎপাদিত তরমুজ সহজেই বাজারজাত করা যাচ্ছে এবং ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে ব্যতিক্রমী রঙের ও উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন তরমুজ উৎপাদন করে তারা স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন।

কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, আমাদের এলাকার বাসিন্দা পরিবেশ ও সংবাদকর্মী খোর্শেদ আলম ২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর হলুদ তরমুজ চাষ করে তাক লাগিয়ে দেন। জুড়ীতে প্রথম হলুদ তরমুজের চাষ তিনিই শুরু করেন। প্রথমবারের মতো চাষ হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে বেশ কৌতুহল ও চাহিদা তৈরি হয়, যা তার নতুন প্রজাতির ফলন ভালো ও লাভজনক হওয়ায় তাকে দেখে অনুপ্রানিত হয়ে আমরা হলুদ তরমুজ চাষে আগ্রহী হই। উপজেলা কৃষি অফিসের কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে তিনি প্রায় ২০ শতক জমিতে এ বছর অসময়ে তরমুজ চাষ করেছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছুটা সমস্যা হলেও ফলন আশাব্যঞ্জক হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন আরও ভালো হতো। এবার সফলতা পাওয়ায় আগামীতে আরও বড় পরিসরে তরমুজ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।’ অন্যদিকে কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন পদ্ধতিতে চাষ শুরু করার সময় কিছুটা শঙ্কা ছিল। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে কাজ করায় ভালো ফলন পেয়েছি। আশা করছি এ চাষ থেকে লাভবান হতে পারব।’

কৃষক সিরাজুল ইসলাম এর তরমুজের বাগান সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, চারিদিকে বিভিন্ন মানুষের বসতবাড়ি ও গাছের বাগান। এরমধ্যে মাচার উপর কৃষক সিরাজুল ইসলাম এর শখের হলুদ তরমুজের বাগান। ওই বাগান দেখতে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এসেছেন। তারা সবাই ৪-৫টি করে তরমুজ ক্রয় করছেন তাদের পরিবারের জন্য। এসময় কথা হয় কুলাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ শাকিলের সাথে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হলুদ তরমুজের চাষ দেখে নিজের লোভ সামলাতে পারিনি। তাই কুলাউড়া থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে এসে হলুদ তরমুজ কিনতে এসছি।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রনি সিং বলেন, ‘মাচা পদ্ধতিতে অমৌসুমে তরমুজ চাষ এ এলাকায় একটি নতুন উদ্যোগ। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ে তদারকির মাধ্যমে এ সফলতা এসেছে। এটি দেখে অন্য কৃষকরাও নতুন প্রযুক্তিনির্ভর চাষে উৎসাহিত হবেন।’

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, ‘অমৌসুমে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ কৃষির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কম জমিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভালো ফলন ও অধিক লাভ করা সম্ভব। কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্ভাবনী কৃষি কার্যক্রমে পাশে থাকবে।’

স্থানীয়দের মতে, দুই কৃষকের এই সফলতা শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং জুড়ী উপজেলার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার বার্তা বহন করছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও কৃষকদের আগ্রহ অব্যাহত থাকলে অসময়ে তরমুজ চাষ এলাকায় লাভজনক কৃষি উদ্যোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *