কুলাউড়ায় ৯ হাজার পানগাছ কেটে ফেলায় হুমকির মুখে খাসিয়াদের জীবিকা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে পাহাড়ি টিলায় বসবাসরত নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জির ৯টি পরিবারের পান জুমে প্রায় ৯ হাজারের অধিক পান গাছ রাতের আঁধারে কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার দিবাগত রাতে এ ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কর্মধা ইউনিয়নের নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দা জনি পতাম, লিকিন খংপ্ডা, পাইলা পতাম, নাসরিন পতাম, নিস্তার পাটুয়াট, শিউলি আজিম, টিউনি আজিম, ডিমান পতাম এবং মাসার তংপের জুম থেকে পান গাছগুলো কেটে ফেলা হয়। এরমধ্যে নাসরিন পতামের দুটি জুম থেকে পান গাছ কাটা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত জুমের মালিক নাসরিন পতাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কে বা কারা এই ন্যাক্কারজনক কাজটি করেছে জানিনা। আমাদের জীবিকায় আঘাত হানার জন্য পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় একটি পক্ষ এই কাজটি করতে পারে। আমরা সারাদিন জুমে কাজ করি। কিন্তু রাতের আধারে সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা আমাদের পান গাছ কেটে দিয়েছে। নার্সারি পুঞ্জির হেডম্যান জনি পতাম জানান, আমরা নিরীহ মানুষ। পান চাষ করেই জীবিকা নির্বাহ করি। একটি গাছে ৪-৫ বছর যত্ন করার পর পান পাওয়া যায়। দুর্বৃত্তের দায়ের কোপে পুঞ্জির নয়টি পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ নিমিষে ধ্বংস হয়ে গেল। আমরা খুব ভয়ে আছি, পান গাছই আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস। প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, তদন্ত করে দুষ্কৃতিকারীদের যেন আইনের আওতায় আনা হয়।

আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন কুবরাজ কুলাউড়ার সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং বলেন, খাসিয়াদের হয়রানি কবে শেষ হবে সেটি আমাদের জানা নেই। একের পর এক পুঞ্জিতে খাসিয়াদের জীবিকার একমাত্র উৎস পান গাছ কাটা হচ্ছে। কে দেবে আমাদের জীবিকার নিরাপত্তা?। কেন খাসিয়া পুঞ্জির আদিবাসীদের জীবিকার ওপর বার বার হামলা করা হবে। দুষ্কৃতিকারীদের বিচার হবে কি না সন্দেহ। তিনি আরো বলেন, নার্সারী পুঞ্জির ৯টি পরিবারের  প্রায় ৯ হাজারের অধিক পানগাছ কর্তন করে অনেক বড় ধরণের ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। বর্তমানে পুঞ্জির লোকজন কর্তনকৃত গাছ থেকে পান সংগ্রহ করতেছে। পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দিবে।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পান গাছ কাটার সত্যতা পেয়েছে। তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *