মৌলভীবাজারে ৪ দিনে ৬ মৃতদেহ উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৪ দিনে ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৭ আগস্ট সোমবার দুপুরে বড়লেখা উপজেলার সমনভাগ চা বাগানের পাক্কা লাইন এলাকা থেকে দীপ্তি বাক্তি (৪৫) নামে এক নারী চা শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিষপানে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, প্রাথমিকভাবে বিষপানে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। পোষ্টমোর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে ১৬ আগস্ট রোববার রাজনগর উপজেলার ম্যাথিউড়া চা-বাগান থেকে মঙ্গল বাউড়ি (৩৫) ও বিনতা বাউড়ি (৩৩) নামে দুই চা-শ্রমিকের গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়। রাজনগর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোরে ম্যাথিউড়া চা-বাগানের কিছু শ্রমিক নিয়মিত কাজে বের হলে বাগানের ২০ নম্বর সেকশনের আকাশি টিলায় গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দু’জনের লাশ দেখতে পায়। এক পর্যায়ে নিহত দু’জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত মঙ্গল বাউড়ি (৩৫) উপজেলার উদনা চা-বাগানের অমূল্য বাউড়ির ছেলে এবং একই বাগানের মৃত নিমাই বাউড়ির স্ত্রী তিন সন্তানের জননী বিনতা বাউড়ি (৩৩)। জানা যায়, দুই বছর আগে বিনতা বাউড়ির স্বামী নিমাই বাউড়ি ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই সুবাদে বিনতা বাউড়ির সাথে একই বাগানের মঙ্গল বাউড়ির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রায় দেড়মাস আগে কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করেন। কিন্তু উভয় বিবাহিত হওয়ায় বিষয়টি উভয়ের পরিবার মেনে নেয়নি। তাই রোববার ভোরে কোন এক সময় পাশ্ববর্তী ম্যাথিউড়া চা-বাগানে ২০ নম্বর সেকশনের আকাশি টিলায় নির্জন স্থানে উভয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহনন করেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক চৌধুরী জানান, নিহত দু’জনের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।  এব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৪ আগস্ট শুক্রবার ভোরে শ্রীমঙ্গলের হবিগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত নারী। পরে মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৯টায় তিনি মারা যান। লাশের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

১৫ আগস্ট শনিবার কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরের লাগাটা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আব্দুল মালিক (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি মুন্সিবাজার ইউনিয়নের রুপসপুর গ্রামের বাসিন্দা।

অপরদিকে একই দিনে বড়লেখায় বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন দুপুরে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গল থেকে আব্দুল হক (৬৫) নামে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের পূর্ব শংকরপুর গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। স্বজন ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে লাশ বাড়ির পাশের জঙ্গলে ফেলে রাখে। নিহত আব্দুল হক পূর্ব শংকরপুর গ্রামের মৃত সোয়াব আলীর ছেলে। তিনি দাসেরবাজার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বিগত দুইটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি ওই ওয়ার্ড থেকে ইউপি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

বড়লেখা থানার ওসি মো: মনিরুজ্জামান খান জানান, আব্দুল হকের ডান কানের লতি কাটা এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার পর লাশ জঙ্গলে ফেলে রাখে। হত্যাকান্ডটি তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *