কমলগঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীর স্ত্রী’র অভিযোগ; বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ না করায় হামলা, লুটপাট; মামলা প্রত্যাহারে প্রতিপক্ষের হুমকির দাবি

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: বাড়ির বাউন্ডারী দেয়াল না করায় হামলা, মারধোর ও লুটপাটের মামলা প্রত্যাহারে প্রতিপক্ষ হুমকি প্রদান করছে বলে অভিযোগ করেছের প্রবাসীর স্ত্রী মুন্নি আক্তার। কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের বাদে সোনাপুর গ্রামে গত ২৪ আগষ্ট রাত ৯ঘটিকায় পার্শ্ববর্তী বাড়ির সাকিল মিয়াসহ অন্যান্যরা হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে মৌলভীবাজার আদালতে মামলা দায়ের করেন প্রবাসীর স্ত্রী। গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাংবাদিক সমিতির কমলগঞ্জ ইউনিট কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষের হুমকির অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে মুন্নি আকার বলেন, আমি একজন নিরীহ মহিলা। আমার স্বামী প্রবাসে থাকায় আমার তিন সন্তান নিয়ে বাড়ির দেখভাল সবকিছুর দায়দায়িত্ব একা পালন করছি। আমার প্রতিপক্ষ পার্শ্ববর্তী বাড়ির রফি মিয়ার ছেলে সাকিল মিয়া (২৩), রফি মিয়া (৪৮), শুকুর মিয়া (২৫) ও রফি মিয়ার স্ত্রী হেনা বেগম (৪৩) বাড়ির সীমানা ও বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণ করার চাপ প্রয়োগ করছেন। বাউন্ডারী দেয়াল নির্মান না করায় তারা নানা সময়ে আমাকে গালিগালাজ ও হুমকি ধামকি প্রদান করছে। রাতে ঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২৪ আগষ্ট সোমবার রাত ৯ঘটিকায় সাকিল মিয়া আমাকে ডেকে ঘর থেকে বের করে। এরপর সে আমাকে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণের চাপ প্রয়োগ করে। আমার স্বামী বিদেশ থেকে আসার পর বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করবো বললে সাকিল মিয়া, রফি মিয়া, শুকুর মিয়া ও হেনা বেগম উত্তেজিত হয়ে অশালিনভাষায় গালিগালাজ করে। এর প্রতিবাদ জানালে তারা সকলে মিলে লোহার রড ও বাঁশের লাটি দিয়ে আমাকে মারধোর ও কিল ঘুষি মারে এবং টানা হেচড়া করে। তাদের আঘাতে আমার বাম হাতে রক্তাক্ত জখম হয়। পরবর্তীতে সাকিল মিয়াসহ সকলে মিলে আমার ঘরে প্রবেশ করে স্টিলের আলমিরা ভেঙ্গে এক ভরি স্বর্নের চেইন ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষের হামলায় আমি গুরুতর আহত হলে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে পরদিন ২৫ আগষ্ট মৌলভীবাজার আদালতে ওই চার জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলা দায়ের করার পর মামলা তুলে নিতে তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি প্রদান করছে। তাদের হুমকি ধামকির কারনে বাধ্য হয়ে সাত ধারা মামলা দায়ের করি। এরপরও প্রতিপক্ষ তাদের আত্মীয় স্বজন নিয়ে আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধনসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে মামলা উত্তোলনে পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। গ্রামের আবু তাহের ও বক্কর মিয়াসহ অন্যান্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আমার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে পোস্ট দিয়ে দুর্নাম ছড়াচ্ছে। প্রতিপক্ষের এহেন কার্যক্রমে আমার মামলার তদন্তে ও মামলা পরিচালনা এবং ন্যায়বিচার বিঘেœর আশঙ্কা হচ্ছে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে তদন্ত পূর্বক প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযোগ বিষয়ে সাকিল মিয়াসহ অন্যান্যরা বলেন, মহিলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। মূলত বাঁশ কাটা নিয়ে ঝগড়া হলেও কোন ধরনের মারামারি ও হামলা, মামলার কোন ঘটনা ঘটেনি। এরপর একটি ঘটনা সাজিয়ে মহিলা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। মহিলার অভিযোগকৃত সাজানো ঘটনা এলাকার কেউই জানেন না। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদেরকে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত করানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *