হাকালুকি হাওরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রূপালী ইলিশ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: এশিয়ার অন্যতম ও দেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকি হাওরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রূপালী ইলিশ। প্রতি বর্ষা মৌসুমে হাকালুকি হাওরে ছোট আকারের ২-৪টি ইলিশ ধরা পড়লেও এবার বড় আকারের ও সংখ্যায় বেশি ধরা পড়ায় জেলেদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস ও হাসির ঝলক ফুঠে উঠছে। ৪/৫ বছর আগে হাকালুকি হাওরে বেশ ইলিশ ধরা পড়েছিল। মাঝখানে আর তেমন দেখা মেলেনি। তবে এবার আবারও জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে। স্থানীয় হাটবাজারে তা বিক্রিও হচ্ছে। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও হাওরে মিঠাপানিতে ইলিশের আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। এ কারণে হাকালুকিতে এ মাছের দেখা পাওয়া যাচ্ছে। মৎস্য বিভাগ ও এলাকাবাসী জানান, হাকালুকি হাওরটি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত। প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর আয়তনের হাওরটি দেশের বৃহত্তম। দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছের সঙ্গে তাঁদের জালে ইলিশও উঠছে। ২০১৬/২০১৯ ও ২০২২সালে এই হাওরে প্রচুর ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল। কুলাউড়া-জুড়ী সড়কের আছুরিঘাট সেতুর কাছে প্রতিদিনই স্থানীয় জেলেরা হাওর থেকে ধরা বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ নিয়ে বসেন। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সেখানে গিয়ে কয়েকটি ইলিশের দেখা মেলে। সেগুলোর ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম। কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের জেলে রাহুল মিয়া বললেন, বুধবার রাতে হাওরে কয়েকজন মিলে বেড়জাল টেনে মাছ ধরছিলেন। এক টানে সব মাছ ওঠেনি। ৪/৫বার জাল টেনে কয়েকটি ইলিশের দেখা মেলে। কয়েক দিন ধরে অনেকের জালেই ধরা পড়ছে। এশিয়ার অন্যতম ও দেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকিতে বিশেষ করে অবাধে পোনা ও মা মাছ নিধন। নানা কৌশলে সেচ দিয়ে মাছ ধরা। মৎস্য বিভাগের তরফে অসময়ে হাওরে পোনা ছাড়া। আর হাওরের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য উজাড় এ যেন স্থানীয়দের নিত্য দিনের কর্মযোগ্য। নানা কারনে এখন ধ্বংসের দোড়গোড়ায় হাকালুকি। নাব্যহ্রাসের কারনে এখন বুড়ো হাওরে বর্ষায় ধারন ক্ষমতার উপর থৈ থৈ পানি আর শুষ্ক মৌসুমে পানিহীন ধূধূ মরুভূমি। একারনে চরম ঝুঁকিতে হাওরের মিঠাপানির মাছসহ নানা প্রজাতির জীববৈচিত্র্য। ইতিমধ্যেই হারিয়ে গেছে নানা জাতের দেশীয় মাছ,জলপ্রাণি ও উদ্ভিদ। বিশেষ করে রাণী, আইড়, শুউল, গজার, বাঘাগুত্তম ও ইলিশ মাছ ছিল হাকালুকি হাওরের ঐতিহ্য। একসময় সুস্বাদু এ মাছগুলো সবসময় হাওরে জেলেদের জালে ধরাপড়ত। কালের পরিক্রমায় এখন যেন তা অনেকটাই বিলুপ্ত। গেল কয়েকবছর থেকে অল্প করে হলেও হাকালুকি হাওরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ইলিশ। এবছর গেল কয়েকদিন থেকে অন্যান্য বছরের চাইতে বেশি ধরা পড়ছে। র্দীঘদিন পর ইলিশ উৎপাদনে হাকালুকি হাওর ঐতিহ্য পথে ফেরায় বেজায় খুশি সংশ্লিষ্টরা। অন্যান্য বছর মাঝে মধ্যে ইলিশের দেখা মিললেও এই বছর তা বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় মৎস্য বিভাগ ও হাওর পাড়ের জেলেরা।

ইলিশ কিনতে আসা কুলাউড়ার ব্যবসায়ী নাজমুল বারী সোহেল বলেন, ‘বাজারে বাইরের ইলিশ মেলে। তাজা থাকে না। বরফ দেওয়া থাকে। এইখানে প্রায়ই হাওরের মাছ কিনতে আসি। আজ ইলিশ দেখলাম। দেখতে তাজা লাগের। দরদামে হলে কিনবো।’এলাকাবাসী জানান, শুধু আছুরিঘাট নয়, কুলাউড়াসহ আশপাশের জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারেও হাকালুকি হাওরের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে।

কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ জানান, মেঘনা ও কুশিয়ার নদীর সাথে হাকালুকি হাওরের সংযোগ থাকিায় প্রতি বছর হাওরে ছোট ছোট ২-৪টি ইলিশ ধরা পড়লেও এবার ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ব্যাপক ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে জেলেদের মুখে হাসি ফুঁটে উঠছে। আমি আশাবাদী ইনশাআল্লাহ কয়েক বছরের মধ্যে হাকালুকিতে ইলিশ মাছের উৎপাদন রেকর্ড সৃষ্টি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *