বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি : বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক মিটারে শর্টসার্কিট। মিটার থেকে স্পার্ক হতে দেখে আগুন লেগেছে বলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। চারতলা ভবন থেকে দ্রুত নামতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। গুরুতর আহত এক শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ভবনে আগুন লাগেনি।
আজ রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বরগুনার বেতাগী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে হঠাৎ বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক মিটারে শর্টসার্কিট হয়। এ সময় মিটার থেকে স্পার্ক হতে দেখে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আগুন লাগার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে শিক্ষার্থীরা চারতলা ভবন থেকে নিচে নামতে শুরু করে।
সিঁড়িতে নামার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়। স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষকেরা আহতদের উদ্ধার করেন।
আহতদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তারকে বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির হুমায়রা ও প্রথম শ্রেণির সিথিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক জেসমিন আক্তার বলেন, বৈদ্যুতিক মিটারে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। শিক্ষার্থীরা দ্রুত ভবন থেকে নামতে গিয়ে আহত হয়েছে।
ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
বেতাগী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জেসমিন আক্তার জানান, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক মিটারে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরবর্তীতে সব শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ত্যাগ করায় ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বেতাগী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি কেন ও কীভাবে ঘটল, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আজ বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি তদারকি ও পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

